× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

হঠাৎ বেড়েছে পিয়াজের দাম, স্বস্তি নেই সবজিতেও

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:৪০

ঈদের পর হঠাৎ করেই বেড়েছে পিয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পিয়াজের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। অন্যদিকে আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শাকসবজি। তবে বাজারে ব্যাপক সরবরাহ থাকায় সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমায় বেড়েছে পিয়াজের দাম। এছাড়া ভারতে পিয়াজের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। আবার মৌসুম শেষ, সবমিলিয়ে বাজারে প্রভাব পড়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারি বাজার ও কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কাওরান বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ২৪৫ থেকে ২৫০ টাকা। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এ ব্যাপারে পিয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, বাজারে পিয়াজের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। ঈদের আগে যে পিয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছে এখন তা বিক্রি করছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে এক মাসে দেশি পিয়াজের দাম ২৪ শতাংশ ও ভারতীয় পিয়াজের দাম ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে শ্যামবাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ী গোলাম রসুল বলেন, ভারতে বন্যার কারণে পিয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তাই আমাদের দেশেও পিয়াজের দাম বেড়েছে। আর দেশি পিয়াজ বাজারে কম আসায় হঠাৎ করে বেড়ে গেছে পিয়াজের দাম।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এদিকে আদার দাম কিছুটা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তবে কিছুটা কমেছে রসুনের দাম। বাজারে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি।

খুচরা বাজারে রসুন ও আদা ২০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে পাইকারি বাজারে রসুন ১৫০ টাকা ও আদা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, পাইকারি বাজারে আদা ও রসুনের দাম ঈদের আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, আগে ছিল ১২০ টাকা। চীনা রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ছিল, এখন ১৫০ টাকা।

এদিকে সেই আগের মতই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শাকসবজি। গত সপ্তাহে তেমন একটা বৃষ্টি না হলেও কমেনি সবজির দাম। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন শীতের সবজি বাজারে না আসা পর্যন্ত তেমন একটা কমবে না সবজির দাম।

বাজারে সেই আগের মতই পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। আর তারপরেই দামের সাথে পাল্লা দিয়ে গাজর বরবটি ও উস্তে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

এদিকে শীত না আসতেও শীতের সবজি শিম এসেছে বাজারে। তাই অসময়ে আসায় দাম খুব চড়া। বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। এদিকে সেই আগের মতই করলা ঢেঁড়স বেগুন শসা চিচিঙ্গা ঝিঙ্গে ও ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। আর পটল আর কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
সব থেকে কম দামের তালিকা যে সবজিটি আছে তা হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া আর পেঁপে। প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। তবে কিছুটা দাম কমে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

এদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। আর বাজারে পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

এদিকে মাছের বাজার এখনো আগের মতোই চড়া। সস্তার মাছের মধ্যে পাঙাশ, তেলাপিয়া আর চাষের কই। নদীর মাছ কিনতে গেলেই দিতে হচ্ছে চড়া মূল্য। ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা নিচে কোন মাছই নেই।

তবে কিছুটা কমেছে ইলিশের দর। সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাজারভেদে এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা পিস, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০০-২২০০ টাকা পিস। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছেন ১০০০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে ২০০০ টাকার নিচে মিলছিল না। বড় ইলিশের পাশাপাশি দাম কমেছে ছোট ও মাঝারি ইলিশের। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০০-১০০০ টাকা পিস। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। এক সপ্তাহ আগে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের পিস বিক্রি হয় ৪৫০-৫০০ টাকা। মাছ ব্যবসায়ী সজল বলেন, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। সব ব্যবসায়ীর কাছে এখন কেজি সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, যে কারণে দাম কমেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর