× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
বাজেটে প্রণোদনা-চীনা অর্থায়ন

তবুও ভালো নেই পুঁজিবাজার

প্রথম পাতা

এম এম মাসুদ | ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:৫০

পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেশ কয়েকটি সুবিধা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীন এসেছে দেশের বিনিয়োগেও। এসব সুবিধা পুঁজিবাজারের গতি ফেরাবে এমন ধারণা ছিল বাজার সংশ্লিষ্টসহ সবার। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। উল্টো নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাচ্ছেন না। কারণ বিনিয়োগ করে টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে তাদের মাঝে। তাদের কথা- সংকট কাটাতে প্রণোদনাই মূল বিষয় নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। এছাড়া শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন দাবি পূরণ করা হয়েছে। যেমন; কর অবকাশ সুবিধা, প্রাথমিক শেয়ারে (আইপিও) বিশেষ কোটা, বিভিন্ন আইনকানুন শিথিল করা এবং ঋণ সুবিধা অন্যতম। কিন্তু এসব সুবিধার কোনো সুফল পাচ্ছে না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সূত্র জানায়, প্রণোদনার এসব সুবিধা ভোগ করছে একটি চক্র। তারাই বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। ফলে সংকট কাটছে না।

পুজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, প্রণোদনার পরিবর্তে আইনকানুন সংস্কার জরুরি। না হলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলবে। তিনি বলেন, এ অবস্থার উত্তরণে কৃত্রিমভাবে সূচক না বাড়িয়ে বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়া উচিত।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে তিন সুবিধা দেয়া হয়েছে। এর অন্যতম হল বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ দ্বিগুণ করা। নতুন নিয়মানুসারে কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে ৫০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেলে তার জন্য কোনো কর দেয়া লাগবে না। গত অর্থবছরে এই সীমা ছিল ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর কমানো হয়েছে। আগে এই হার ৪০ শতাংশ। এবারের বাজেটে তা ২.৫ শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ১৫ থেকে কমে সাড়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বহুল কাঙ্ক্ষিত চীনা ফান্ডের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন ব্রোকারেজ হাউজ মালিকরা। যারা কর ছাড় নিয়ে এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন, এরই মধ্যে তাদের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ। অথচ চীনা ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুঁজিবাজারের গতি ফেরাবে এমন ধারণা ছিল তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেসব হাউজ মালিক চীনা ফান্ডের অর্থে কর সুবিধা নিয়েছেন, তারা নির্দিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এর সময়সীমা শেষ হয়েছে গত মার্চে। এ সময়ের মধ্যে তারা পুঁজিবাজারে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তিন বছরের আগে তারা ওই অর্থ পুঁজিবাজার থেকে তুলতে পারবেন না। তবে এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ করা শেয়ার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ তারা তুলতে পারবেন।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, চীনা ফান্ড থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে যারা কর সুবিধা নিয়েছেন, তারা অনেকেই এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা এস্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক কর্মকর্তা বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে চীনা ফান্ডের অর্থ থেকে কর সুবিধা নিয়েছেন। সবাই এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। যদি না করে থাকেন, এটি বোঝা যাবে এক বছরের হিসাব দাখিল করার পর।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চীনা ফান্ডের অর্থ থেকে ২৪০ জনের মধ্যে কর সুবিধা নেননি ৫৬ শেয়ারহোল্ডার। এদিকে তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন, এখন তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কারণ, এরই মধ্যে তারা গুনতে শুরু করেছেন লোকসান। একাধিক ব্রোকারেজ হাউজে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে।

ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, যারা কর সুবিধা নিয়েছেন, তাদের সবাই এ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। যদি কেউ না করে থাকেন, এর সংখ্যা ১০ জনের বেশি হবে না। এমন হলে তাদের অর্থ থেকে আরো ১০ শতাংশ ট্যাক্স কেটে নেয়া হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি নিতেই হবে। আর সব সময় ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে পুঁজি নিরাপদ হবে এমন কোনো কথা নেই। কারোই এটি ভাবা উচিত নয়। তবে সময়ের ব্যবধানে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে লোকসান উতরে যাওয়া যায়। তিনি বলেন, প্রণোদনা দিলে বাজার সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। কিন্তু এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।

উল্লেখ্য, চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি বাবদ ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৫ টাকা পাওয়া গেছে। এখান থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ পুঁজিবাজারে টানতে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ কর ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে শেয়ারহোল্ডারদের এই অর্থ তিন বছর পুঁজিবাজারে রাখার শর্ত দেয়া হয়েছে।

ডিএসই’র বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চে ডিএসই বাজারমূলধন ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ৩ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে বাজার মূলধন কমেছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে ডিএসইর মূল্যসূচক ৬ হাজার পয়েন্ট থেকে কমে ৫ হাজার ২০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এ ছাড়া কমছে লেনদেন। বর্তমানে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে।
এদিকে ডিএসই ও সিএসইতে বৃহস্পতিবার সূচকের উত্থানে ইতিবাচক ধারায় শেষ হয়েছে লেনদেন। ডিএসইতে ৪৭৮ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে সিএসইতে হয়েছে ৪০ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ৬৪৩ টাকার লেনদেন। ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১৩.৪৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৩৬ পয়েন্টে। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৬ হাজার ৪০ পয়েন্টে। এদিন দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোমপানি হলো:- বেক্সিমকো লি., আরএন স্পিনিং, জেনারেশন নেক্সট, ফ্যামিলি টেক্স, ন্যাশনাল পলিমার, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, ঢাকা ইন্সু. ও এফএএস ফাইন্যান্স।

এদিকে দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক পাবলিক অফার (আইপিও) অনুমোদন দিয়ে শেয়ারবাজারে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। এছাড়া অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদকের মানি লন্ডারিং শাখা। দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে, খায়রুল হোসেনের ৮ বছরের মেযাদে প্রায় ৮৮টি আইপিও অনুমোদন হয়। এরমধ্যে প্রায় অর্ধশত আইপিও নিম্নমানের। বেশ কয়েকটি নিম্নমানের কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে উচ্চ মুনাফা দেখিয়ে সিকিউরিটিজ রেগুলেটরে আইপিও অনুমোদন করিয়ে নেয়। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর দেখা গেছে, বেশিরভাগ সংস্থার শেয়ারের সূচক নিচের দিকে যেতে শুরু করে। কোম্পানিগুলোর আগের আয়ের রিপোর্টগুলো জাল ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।


অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার, ৩:৩৩

যাকেই বিশ্বাস করে কোন পদে দেওয়া হয় সেই বিশ্বাসঘাতকতা করে। যেমন খয়রুল সাহেবের দুর্বল কোম্পানির শেয়ার অনুমোদন করে জনগণকে রাস্তার ভিখারি করা। এভাবে কোন প্রতিষ্ঠান বা দেশ চলতে পারে না। লুটতে লুটতে টাকা তো দূর মাটিও মিলবে না। তখন এরা কি করবেন ? সরকারী ভর্তুকি ? অবশ্য তা মিললেও বিনিয়োগ কারি নয়।

অন্যান্য খবর