× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

খুলনার অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বখাটেদের আড্ডা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৭:৫৪

মহানগরসহ খুলনা জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বেড়েছে বখাটের আড্ডা। স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার ক্লাস শুরু ও ছুটির সময়েই এটা বেশি লক্ষ্যণীয়। এদিকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী বাজার ও মার্কেটগুলোতে সন্ধ্যার পরেও এসব বখাটেরে উপস্থিতি দেখা যায়। এর মধ্যে বালিকা বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সংখ্যাই বেশি। দিনের বেলায় ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাইয়ের মতো কাজ করলেও আঁধার নামতেই নেশায় ডুবছে বখাটেরা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। তবে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছেন, এসব বখাটেদের মধ্যে শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত বেকার ও ভবগুরের সংখ্যাই বেশি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর কুয়েট রোড, বিএল কলেজ রোড, দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজ, সরকারি হাজী মুহসীন কলেজ রোড, আলমনগর, পার্কের পৌরসভার মোড়, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মোড়, বয়রা মোড়, পাবলিক কলেজ মোড়, মুজগুন্নী পার্কের মোড়, বাবু খান রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, পিটিআই মোড়, রূপসা মোড়সহ কয়েকটি পয়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বখাটের উৎপাত রয়েছে। পাশাপাশি জেলার ফুলতলায় ৩টি, দিঘলিয়ায় ৫টি, তেরখাদায় ৩টি, রূপসায় ১টি, বটিয়াঘাটায় ৪টি, দাকোপে ৪টি, পাইকগাছায় ৪টি, ডুমুরিয়ায় ২টি, কয়রায় ৪টি প্রতিষ্ঠানের পাশে বখাটের আড্ডার খবর মিলেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়রার সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আশেপাশে ইভটিজিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে। যা সমপ্রতি আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। তেরখাদার সুপার মার্কেটে দিনের বেলায় বখাটের আড্ডা এবং রাতে মার্কেটের উপরে নেশা করা হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। দিঘলিয়ার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটির পর সেখানকার বখাটেরা জোর করে বিদ্যালয়ের কক্ষ দখল করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। পাইকগাছার আরকেবিকে হরিশচন্দ্র ইনস্টিটিউটের পাশে সমপ্রতি এসএসসি পরীক্ষার সময় ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার (ডিসি) বিএম নুরুজ্জামান বলেন, মহানগরে একাধিক বন্ধু মহল রয়েছে। তাদের কার্যক্রম নজরদারিতে রয়েছে। জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে সকল অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তাছাড়া ইভটিজিং, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতার জন্য ৯টি উপজেলায় কার্যক্রম চলছে। খুলনা জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে বখাটেদের আড্ডাস্থলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফুলতলা উপজেলার ফুলতলা সরকারি কলেজ, অলকা মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ফুলতলা রি-ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলিয়া সরকারি এম এ মজিদ কলেজ, পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্টার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেনহাটি সরওয়ার খান ডিগ্রি কলেজ। তেরখাদা উপজেলার শহিদ স্মৃতি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেরখাদা সুপার মার্কেট এলাকা, সরকারি ইখড়ি কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাচুনিয়া জোনারী দাখিল মাদরাসা। রূপসা উপজেলায় সামছুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বটিয়াঘাটা উপজেলায় বটিয়াঘাটা হেড কোয়াটার পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাওঘরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফুলবাড়ি দাখিল মাদরাসা। দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুতারখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চালনা কেসি কলেজ, চালনা বাজার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাইকগাছার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পাইকগাছা মহিলা কলেজ, রাহলী আরকেবিকে হরিশচন্দ্র ইনস্টিটিউট, শহিদ আইয়ুব মুসা ডিগ্রি কলেজ। ডুমুরিয়া উপজেলায় এনজিসি অ্যান্ড এনসিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া কলেজ। কয়রা উপজেলার জাইগীরমহল খান সাহেব ডিগ্রি কলেজ, সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যাল থেকে কপোতাক্ষ কলেজের মধ্যস্থলে, বেদকাশী কলেজিয়াট স্কুলে ও কাচারি বাড়ি বাজার।  এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতা ও নজরদারির অভাব রয়েছে। সন্তানরা কে কী করে, কোথায় যায় অনেক অভিভাবকই তা খেয়াল করেন না। এছাড়া স্কুল পর্যায়ে কাউন্সিলিং এবং নগরীতে বিনোদনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায়ও কিশোর-যুবকরা অপরাধপ্রবণ হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এই অপরাধ প্রবণতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর