× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

ভাঙ্গুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে ধূম্রজাল

বাংলারজমিন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি | ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৮:৩২

ভাঙ্গুড়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনে অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলার অভিযোগ তুলে স্ত্রী তিশা খাতুন (২৪) কে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢালার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর ভাঙ্গুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী আতাহার পলাতক রয়েছে। প্রবাসী স্বামী দেশে ফেরার একদিন পর সে আত্মহত্যা করল। তবে নিহতের বাবার অভিযোগ তার মেয়ে কে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা হত্যা করেছে এবং নিজেদের বাঁচাতে এই মিথ্যা গল্প বানিয়েছে।
উভয় পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে তিশা ও চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুলের বড় ছেলে আতাহারের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের দু’বছর পরে আতাহার জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমায়। আতাহারের মা আঞ্জুয়ারা বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার ছেলের বউ মোবাইলে অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রচুর কথা বলত। এই নিয়ে মাঝে মধ্যে তাদের ঝগড়া ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এর পরে তার ছেলে বিদেশে চলে গেলে এই কথা বলার পরিমাণ বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে আতাহার ফোনে স্ত্রীকে নিয়মিত ওয়েটিং পেত এ নিয়েও তাদের ঝগড়া হত। তিন চার মাস আগে এই ওয়েটিং পাওয়ায় আতাহার তার মাকে দিয়ে তিশার ফোন কেড়ে নেয়। তিশা বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে শাশুড়ি তার সঙ্গে যেতেন। শুক্রবার আতাহার মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে ফিরে আসলে এই নিয়ে আবারও ঝগড়া হয়।
আতাহারের বাবা শহিদুল বলেন, আমার ছেলে শুক্রবার দেশে ফিরেছে শনিবার সকালে আতাহার তিশার বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আতাহার তাকে একটি চড় ও হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। শহিদুল তাকে মাটি থেকে তুলে দেখতে পান তিশার মুখ দিয়ে ফ্যানার মতো বের হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞেস করলে সে কীটনাশক (নাইটিক) খাওয়ার কথা বলে। তারা দ্রুত তিশাকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তবে এই বিষয়ে নিহতের বাবা কুরবান আলী বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার মেয়েকে মেরে গলায় কীটনাশক দিয়েছে। পার-ভাঙ্গুড়া ইউপি সদস্য হারুন-উর রশিদ বলেন, নিহতের পরিবার এখনো থানায় কোন অভিযোগ দেয়নি। পারিবারিকভাবে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে অভিযোগের ব্যাপারে। ভাঙ্গুড়া থানার উপপরিদর্শক হাসানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে পরে যাওয়ার ফলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং মুখে কীটনাশেকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর