× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

উশু ফেডারেশনের আর্থিক অনিয়মে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৮:৪৬

উশু ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ফেডারেশনের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সত্য মিথ্যা যাচাই করতেই কমিটি কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। যদিও বিষয়টিকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন বলছেন উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন। আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি আলমগীর শাহ ভূঁইয়ার দাবি কিছু অসাধু কর্মকর্তা যারা নানা অসৎ কর্মকাণ্ডে এরইমধ্যে ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তারাই বাইরে থেকে এসব প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে কমিটিকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে।   
২০১০ সালের এসএ গেমস সাফল্যের পর যেভাবে বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি খেলাটি। ২০১৬ সালের শিলং গৌহাটিতে একটি মাত্র ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। যে কয় বছরে উশু নিয়ন্তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় দিন দিন পিছিয়েছে খেলাটি। এই ৯ বছরে ফেডারেশন কর্মকর্তাদের মাঝেও চলছে রেষারেষি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১১ই অক্টোবর বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সভায় হিসাব-নিকাষের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখনই এ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজুকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেন ফেডারেশন সভাপতি ড. আঃ সোবহান গোলাপ। যদিও দুলাল হোসেনের দাবি এটি তদন্ত কমিটি নয়, অডিট কমিটি। যার রেজুলেশন ফেডারেশনে রক্ষিত আছে। ওই কমিটিই সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম শাখা ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড স্টেডিয়াম শাখায় ফেডারেশনের দুটি ব্যাংক হিসাবে নানা অসঙ্গতি খুঁজে পায়। অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক কখনোই কোষাধ্যক্ষকে অবহিত করেননি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে কেবল সভাপতির কাছে নোটশিট নেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২১ চেকের পাতার মাধ্যমে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছেন ৪৬ লাখ ২২ হাজার ২২৫ টাকা। কিন্তু ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনে সভাপতির অনুমতি ছিল ১৭ চেকের পাতায় ৪০ লাখ ২ হাজার ৪৭৫ টাকা। বাকি ৬ লাখ ১৯ হাজার ৭৫০ টাকা উত্তোলনে অসঙ্গতি খুঁজে পায় তদন্ত কমিটি।
অর্থ উত্তোলনে যে চেকগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোনোটিতে কোষাধ্যক্ষর স্বাক্ষর ছিল না। যা সরাসরি গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে চারটি খাতে ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৫০ টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশন। নগদ বিংবা চেকে প্রাপ্ত অর্থ স্বচ্ছতা রক্ষার্থে ফেডারেশনের ব্যাংক হিসেবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৫০ টাকার কোনো হদিস নেই বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তিন অফিস স্টাফের  বেতন বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তিন স্টাফের বেতন প্রদানে যে ভাউচার দেয়া হয়েছে তা সদ্য প্রস্তুত ও অসঙ্গতিপূর্ণ। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রমের বিল ভাউচারে উল্লিখিত অর্থের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জবানবন্দিতে নানা অসঙ্গতি খুঁজে পায় তদন্ত কিমিটি।
এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩রা ফেব্রুয়ারি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছেন ফেডারেশনের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল আলম রোমান। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৬ই মে তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক শাহ আলম সরদারকে প্রধান করে উশু দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তারা দফায় দফায় দুই পক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও দেয়নি সংস্থাটি।   
যে কমিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ওই কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দুলাল হোসেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক। ওই কমিটির সধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূঁইয়া বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কমিটির সহসভাপতি কামাল হোসেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর তারা আবার বিষয়টিকে দেখছেন চক্রান্ত হিসেবে। দুলাল হোসেন প্রশ্ন তোলেন অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজুর তদন্তের বৈধতা নিয়ে। তার মতে ফেডারেশন কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। করেছিল একটা অডিট কমিটি। একটা চক্র ওটাকে তদন্ত কমিটি বলে চালিয়ে দিয়েছে। ফেডারেশনের অর্থ ব্যক্তিগত একাউন্টে নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, বিষয়টা তেমন না। আমাদের তো চামরার মুখ। যার যা ইচ্ছা তা বলতে পারেন। উশু ফেডারেশনের অতীতের কথা সামনে টেনে এনে দুলাল হোসেন বলেন, অতীতে কারা কিভাবে চালিয়েছেন তা জানি না। ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যারা চালিয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। চীন সরকার আমাদের যে সরঞ্জাম দিয়েছে, তার কোনো হদিস নেই। আমাদের বর্তমান কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গেই চলছে। একটা চক্র এখানে জটিলতা সৃষ্টি করেছিল। আমাদের সভাপতি ওই ব্যক্তিদের ছেঁটে ফেলে যারা প্রকৃত কাজের লোক, তাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছেন। হাতে গোনা দুয়েকজন ব্যক্তি বাইরে থেকে এসব করছেন। একই কথা বললেন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূঁইয়া। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, কোষাধ্যক্ষকে না জানিয়ে টাকা উঠানোর কোনো সুযোগ নেই। তারা যা বলছে এসব মিথ্যা বানোয়াট। আমাদের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেনের কাছে এসবের প্রমাণ আছে। আপনারা চাইলে এসব ফেডারেশনে এসে দেখতে পারেন।  
অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উশু যে আগের অবস্থানে নেই সেটা জানিয়েছেন খেলোয়াড়রা। তারা সন্দিহান আসন্ন এসএ গেমসে ফলাফল নিয়েও।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর