× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১.৭৮ শতাংশ

দেশ বিদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৮:৪৮

বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানির পেছনে দেশের ব্যয় (সিঅ্যান্ডএফ ভিত্তিক) হয়েছে ৫ হাজার ৯৯১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আমদানি ব্যয়ের তুলনায় ১.৭৮ শতাংশ বেশি। আমদানির এই ব্যয়ের মধ্যে বীমা ছাড়া অন্য সব ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ পণ্য আমদানির পর গুদামে নেয়ার জন্য পরিবহনসহ সমুদয় ব্যয়সহ এই পরিমাণ ব্যয় হয়েছে।
তবে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ ছাড়া পণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় (এফওবি ভিত্তিক) হয়েছে ৫ হাজার ৫৪৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ১.৭৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে সিঅ্যান্ডএফ ভিত্তিক আমদানি ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এফওবি ভিত্তিক আমদানি ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৪৪৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
তথ্যে দেখা গেছে, সিঅ্যান্ডএফ ভিত্তিক আমদানির মধ্যে খাদ্যপণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছে ১৫৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এছাড়া আলোচ্য অর্থবছরে ভোগ্যপণ্য আমদানির পেছনে দেশের ব্যয় হয়েছে ৩৫১ কোটি ৬২ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭.৮১ শতাংশ কম।
আলোচ্য অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল বা মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৬০ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯.৮১ শতাংশ বেশি। এছাড়া বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পেছনে ১ হাজার ৪৬০ কোটি ১৯ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৪৫৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৩১ শতাংশ।তথ্যে আরো দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে চাল আমদানি কমেছে ৯২.৮৩ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৫১ লাখ ডলার। অন্যদিকে, গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩.৮৭ শতাংশ কম।
ভোগ্যপণ্যের মধ্যে ভোজ্য তেল আমদানি ব্যয় কমেছে ১১.১০ শতাংশ। চিনি আমদানি ব্যয় কমেছে ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে, দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি বেড়েছে ১২.১৫ শতাংশ। মসলা আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
বিদায়ী অর্থবছরে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। তেলবীজ আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। সার আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৯ শতাংশ। রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। লোহা, ইস্পাত ও অন্যান্য মৌলধাতু আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। কাপড় ও চামড়াজাত পণ্যে ব্যবহূত রং ও অন্যান্য উপকরণ আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। প্লাস্টিক ও রাবারজাত পণ্যের কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে ৯ শতাংশ। তবে, ওষুধ আমদানি ব্যয় কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। কাঁচা তুলা আমদানি ব্যয় কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।
তবে, সামগ্রিকভাবে আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি খুব বেশি না হলেও বিদায়ী অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ঘাটতির এই অঙ্ক ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ১৭.৩৩ শতাংশ কম হলেও এর আগের ২০১৬-১৭ বছরের চেয়ে ৬৩.৫৮ শতাংশ বেশি।
ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে বিদায়ী অর্থবছরে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, লাগামহীন আমদানিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৮১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে উঠেছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৯৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর