× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

২ বছরেও বিচার শেষ হয়নি রুপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার

বাংলারজমিন

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৯:০০

হাইকোর্টে ঝুলে আছে রুপা হত্যা মামলার  আপিল শুনানি। এদিকে পেরিয়ে গেছে ২ বছর। অথচ রুপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার ২ বছরেও শেষ হয়নি বিচার প্রক্রিয়া। এদিকে চাঞ্চল্যকর ওই হত্যা মামলার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তদের ফাঁসি কার্যকর দেখে চান রুপার মা হাসনা হেনা (৫৫) ও তার পরিবার।    
জানা গেছে, দেশ কাঁপানো টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের আসানবাড়ী গ্রামের মৃত জেলহক প্রামানিকের মেয়ে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার আজ ২৫শে আগস্ট ২ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
এদিকে ২০১৮ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া রুপা হত্যা মামলার রায়ে ৪ আসামির ফাঁসি ও ১ জনের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার রায় ঘোষণা করেন।
এদের মধ্যে ময়মনসিংহের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) কে ফাঁসি  ও সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) কে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানার আদেশ দেন। এছাড়া ছোঁয়া পরিবহনের ওই বাসটি রুপার পরিবারকে ক্ষতি পূরণ হিসেবে দেয়ারও আদেশ প্রদান করা হয়।  
 এরপর গত বছরের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও  চাঞ্চল্যকর ওই মামলায় আজ পর্যন্ত শুনানিই শুরু হয়নি এমনটি জানিয়েছেন মামলার বাদী রুপার বড়ভাই হাফিজুর রহমান প্রামানিক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ে ১৭১ দিন পর টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলার রায় ঘোষণায় সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। কিন্তু উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের আপিলের পর  মামলাটি গত ১৮ মাসেও শুনানি না হওয়ায় হতাশ হয়েছি। তাছাড়া বিজ্ঞ আদালত আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছোঁয়া পরিবহনের ওই বাসটি রুপার পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দেন। তাও কার্যকর হয়নি। তিনি আরো বলেন, বিচারের সর্বশেষ পর্যায়ে যেতে কতদিন সময় লাগবে তা আমাদের জানা নেই। আর ওই বাসটির হয়তো ভাংড়ি হিসেবে বিক্রি করতে হবে। এতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশাও ক্ষীণ।   
রুপার মা হাসনা হেনা বলেন, রুপার মৃত্যুর ২ বছরেও প্রিয় সন্তানকে ভুলতে পারেননি তার পরিবারের শোকাহত সকল সদস্য। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা করায় আমরা এর দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তি চেয়েছিলাম, যা  নিম্ন আদালতে পেয়েও ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচারের দীর্ঘসূত্রতার অবসান চাই।  আমার পরিবারের দাবি দ্রুততম সময়ে আপিলের রায় হওয়ার পর আমার জীবন দশায় অভিযুক্তদের শাস্তি দেখে যেতে চাই ।
অপরদিকে রুপা হত্যার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তাড়াশ উপজেলার পৌর সদরের আসানবাড়ী মহল্লায় বাড়িতে রুপার পরিবারের পক্ষ থেকে ২৫শে আগস্ট রুপার কবর জিয়ারত, রুপার মৃত আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে পারিবারিকভাবে।  তাছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুপা হত্যার পর ২০১৭ সালে ১লা সেপ্টেম্বর আসানবাড়ী গ্রামে রুপার শোকসভায় সিরাজগঞ্জর কৃতী সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দ্রততম সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে রুপা হত্যার বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সরকারের পক্ষ থেকে রুপার বোন পপি খাতুনকে সরকারি চাকরির দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সে মোতাবেক রুপার ছোটবোন পপি ২০১৭ সালে ১৫ই নভেম্বর অফিস সহকারী হিসেবে রাষ্ট্রাত্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বগুড়ায় এসেনসিয়াল ড্রাগে যোগদান করেছেন এবং চাকরি করে দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার চেষ্টা করছেন।
অবশ্য রুপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান জানান, পপিকে চাকরি দেওয়ায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তবে আমরা চাই রুপা হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার। বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে রুপা হত্যার বিচার দৃষ্টান্ত হয়ে থাক এদেশে। যাতে করে রুপার মতো আরো যেন এদেশের কোনো মেধাবী তরুণীর সর্বনাশ না হয়।
প্রসঙ্গত গত বছর ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসান বাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক প্রাং-এর মেয়ে মেধাবী তরুণী রুপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করে পরিবহন শ্রমিকরা।
পরে চলন্ত বাসেই তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় নারী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রুপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। পরের দিন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে ছোট বোন রুপার লাশ শনাক্ত করেন।
২৮শে আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর নিম্ন আদালতে ১২ই ফেব্রুয়ারি  ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ১ জনের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হওয়ার পর তারা জেলে রয়েছেন। তাছাড়া ১৮ই ফেব্রুয়ারির সকল আসামি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর গত ১৮ মাসেও চাঞ্চল্যকর রুপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল শুনানি শুরুই হয়নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর