× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

ইতালি, ইউরোপীয় রাজনীতির ড্রামা কুইন

প্রথম পাতা

মতিউর রহমান চৌধুরী, লন্ডন | ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৯:১৩

প্রধানমন্ত্রী কোন্টের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ইতালির রাজনীতি ফের টালমাটাল। নতুন নির্বাচন না ফের কোয়ালিশন    
সরকার- এ নিয়ে দরকষাকষি চলছে। প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা গত তিনদিনে একাধিক পার্টির সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। এর আগে তিনি মঙ্গলবারের মধ্যে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। শনিবার বলেছেন, আরও সময় লাগবে। যদি শেষ পর্যন্ত দলগুলো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারে তখন হয়তো প্রেসিডেন্ট নয়া নির্বাচনের ডাক দেবেন। গত ২০শে আগস্ট অভ্যন্তরীণ কলহের জেরে প্রধানমন্ত্রী এন্তোনিও কোন্টে পদত্যাগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির কট্টর অবস্থানের কারণে সংঘাত শুরু হয়। সালভিনি ইতালির সবচেয়ে বড় দল দ্য লীগের শীর্ষ নেতা।

ইতালির রাজনীতি বরাবরই অস্থির। গত ৩০ বছরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ১৩ জন। শাসন করেছে ২০টি ভিন্ন সরকার। ইতিহাস থেকে দেখা যায় ইতালিতে কখনও রাজনৈতিক স্থিতি ছিল না। অনেকে মজা করে বলেন, ‘ইতালি হচ্ছে ইউরোপীয় রাজনীতির ড্রামা কুইন’। ইউরোপের অন্যদেশগুলোও এখন এর ভাগ বসাতে চাচ্ছে। বলা হচ্ছে স্পেন এখন নয়া ইতালি হতে যাচ্ছে। গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক মতামত কলামে ইতালি ও যুক্তরাজ্যকে জমজ ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। শুধু ইতালিতেই নয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর জার্মানিতে সরকার গঠনে ৬ মাস সময় লেগেছিল। সুইডেনে চার মাসের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে ডান-বাম জোট ভেঙে মধ্যবাম সরকার গঠিত হয়। স্পেনে এখনও অচলাবস্থা। ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে লেজে গোবরে অবস্থা। ইতালির ফাররাইট মুভমেন্ট নিজেদের এস্টাবলিশমেন্ট বা বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থা বিরোধী হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি যে সব জনতোষণপন্থি দলের উত্থান ঘটেছে সেগুলোর মধ্যে এটি একটি। ইতালিতে অভিবাসন ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও একদম বিভক্ত। জার্মানি সুইডেনেও একই অবস্থা। ইতালিতে ডানপন্থি দল দ্য লীগের একটি প্রধান ইস্যু।  ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় ইতালির সমস্যা ভিন্ন। দেশটি আসলে অপেক্ষাকৃত নবীন। ১৮৬১ সালে কিংডম অব ইতালি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায়। রাজ্য প্রতিষ্ঠার আগে ইতালি মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু অঞ্চল ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে রাজ পরিবার শাসন করতো। এরপর ইতালির সীমানা পরিবর্তন হলো। বিলুপ্ত হলো রাজ পরিবার। ইতালি পরিবর্তন হলো একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে। ১৯৪৬ সালের পর ইতালির সংবিধান ও রাজনৈতিক কাঠামো মোটা দাগে একই রয়ে গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক চিত্র ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৪৬ সন থেকে ’৯২ সন পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ান ডেমক্রেটিক নামে মধ্যপন্থি দল ও ইতালিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির আধিপত্য ছিল। এরপর রাজনৈতিক দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। যার পরিণতিতে ইতালিকে এখন মূল্য দিতে হচ্ছে। পরিবর্তন এতোটাই নাটকীয় যে, ১৯৯২ সন থেকে বর্তমান সময়কালকে বলা হয়ে থাকে সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র। যদিও এর মধ্য দিয়ে সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কমিউনিস্ট পার্টিতে পরিবর্তন এসেছে ব্যাপক। ক্রিশ্চিয়ান ডেমক্রেটিক পার্টি হারিয়ে যায় ক্রমশ। রঙ্গ মঞ্চে আসে নতুন নতুন দল।

ইতালিতে রাজনৈতিক দল অনেক। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দ্বি-দলীয় শাসন গড়ে ওঠেনি। গত নির্বাচনের আগে একটি নতুন নির্বাচনী আইন সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একক দলের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ এবং জোটের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ভোট পেলেই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা যাবে। এর ফলে জোট গঠনে উৎসাহ আরও বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমনই গত ছয় বছরে কোনো একক দল দূরে থাক, কোনো জোটও সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। এর ফলে ইতালিতে সরকার গঠিত হয় কোয়ালিশন বা নানা কিসিমের আদর্শের দল নিয়ে। আদর্শগত ফারাকই নতুন নতুন সংকট তৈরি করে। সরকারের পতনও ঘটে এসব কারণে।

বর্তমান সংকটের কী হবে? এ নিয়ে ইতালিজুড়েই সরব আলোচনা। নতুন নির্বাচন? ফাইভ স্টার মুভমেন্ট? নাকি মধ্য-বাম ডেমক্রেটিক দলের মধ্যে জোট গঠন করে নয়া সরকার?
বলা হচ্ছে, দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট মাত্তেরেল্লার ওপর অনেকখানি নির্ভর করছে। সমঝোতা না হলে তিনি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা হিসেবে একজন দক্ষ ব্যক্তিকে সাময়িককালের জন্য নিয়োগ দেবেন। এর সবই এখন জল্পনা-কল্পনা। সময়ই বলে দেবে ইতালি কোন্‌ পথে হাঁটবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর