× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার

দিনভর ভোগান্তির পর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার

দেশ বিদেশ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৮:৪০

ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনভর ভোগান্তির পর চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের আশ্বাসে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সরকার দলীয় নেতা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। রোববার বিকাল চারটার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সন্ধ্যার দিকে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, মেয়র মহোদয় আমাদের দাবি মানতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আমাদের দাবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অবহিত করবেন। ১৫ দিন পর অগ্রগতি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আবারও বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন। মেয়রের আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।
বিআরটিএ ও পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ নয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠনের ডাকে রোববার ভোর ৬টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আমরা নয় দফা দাবি মানতে তিনদিন সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। তিনদিনের মধ্যে প্রশাসনের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এজন্য আমরা ধর্মঘট করছি।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১৪ জেলায় একযোগে গণ ও পণ্য পরিবহন বন্ধ আছে।
ধর্মঘট শুরুর পর থেকে চট্টগ্রাম নগর থেকে জেলা ও উপজেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যায়নি। পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল সীমিতভাবে করলেও চট্টগ্রাম নগরীর বাইরে যায়নি। নগরীতেও বাস চলাচল করেনি। তবে ব্যক্তিগত যানবাহন ও ছোট যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। সকালে নগরীর শাহ আমানত সেতু, অক্সিজেন মোড়, অলঙ্কার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলমুখী মানুষকে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থেকে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।
শাহ আমানত সেতু এলাকায় বাঁশখালীর একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাসের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। ভেবেছিলাম ধর্মঘট ডাকলেও অভ্যন্তরীণ বাসগুলো চলবে। কিন্তু বাস পাইনি। এখন কয়েকজন মিলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে যাচ্ছি।
নগরীর দামপাড়া এলাকায় দূরপাল্লার সৌদিয়া পরিবহনের ব্যবস্থাপক জিয়া উদ্দিন বলেন, মালিক কর্তৃপক্ষ টিকিট বিক্রি করতে নিষেধ করেছে। এখন আমরা টিকিট বিক্রি করিনি। সকালের আগে বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এরপর কোনো বাস ছাড়া হয়নি।
সংগঠনটির ৯ দফা দাবি হচ্ছে- কাগজপত্র হালনাগাদে বিআরটিএ’র কার্যক্রমে ভোগান্তির নিরসন, টোকেন বাণিজ্য বন্ধ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপিত ওজন স্কেল দুটির পরিচালনার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে প্রদান এবং তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধ করা অন্যতম।
সরকারি দলের নেতা হয়ে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, আমাদের ধর্মঘট প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে নয়। প্রশাসনকে আমরা চিঠি দিয়েছি, আলটিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের পাত্তাই দিচ্ছে না। তারা আছে নাশকতাকারীদের নিয়ে। আমরা সরকারকে বিব্রত করতে চাই না। সেজন্য মেয়র মহোদয় আমাদের বৈঠকে বসতে বলেছেন। আমরা বৈঠকে বসেছি। মেয়রের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর