× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার

লজ্জার মুখোমুখি বাংলাদেশ

শেষের পাতা

ইশতিয়াক পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৮:৪৩

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্তরা বৃষ্টির প্রার্থনা করছিল। স্থানীয় অনেক সমর্থকই বার বার চাইছিলেন যেন বৃষ্টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দুই দিন ভেসে যায়। বৃষ্টি এসেও ছিল, ম্যাচও বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু বাংলাদেশ এখন লজ্জার হারের দ্বারপ্রান্তে। রাত থেকেই বৃষ্টির কারণে গতকাল ম্যাচ শুরু হতে বিলম্ব হয়। অবশেষে শুরু হলেও খেলা হয় ৭৮ ওভার। ব্যাট করতে নেমে আফগানদের  শেষ দুই ব্যাটসম্যান ফেরেন দ্রুত। ততক্ষণে অবশ্য বাংলাদেশের সামনে ৩৯৮ রানের কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করে ফেলে রশিদ খানের দল। জবাব দিতে নেমে আরো একবার ব্যাটিং ব্যর্থতার চূড়ান্ত রূপ দেখিয়ে মাত্র ৪৪.২ ওভারে ১৩৬ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জিততে হলে আরো ২৬২ রান প্রয়োজন, হাতে আছে মাত্র ৪ উইকেট। শেষ বিকালে বৃষ্টি না এলে হয়তো গতকাল চতুর্থ দিনেই হার নিশ্চিত হয়ে যেতো সাকিবদের। ক্রিজে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকার। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের আগেই হার মেনে নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাকিব বলেন, ‘এখনো ২৭০ রানের মতো প্রয়োজন, হ্যাঁ ক্রিকেটে অসম্ভব বলে কিছু নেই। এজন্য আমাকে ও সৌম্যকে দুটি সেঞ্চুরি করতে হবে। অন্তত একজনের ১৫০ আরেক জনের ১২০ রান করতে হবে। অসম্ভব নয়! আরেকটা আছে, বৃষ্টি উপরে, ওটাও আমাদের বাঁচাতে পারে। বেশ কয়েকটা পথ আছে। এখন বাকিটা দেখা যাক।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছে আফগানিস্তান। কিন্তু  সেই নবীন দলের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা। মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের আফগান স্পিনের বিপক্ষে কাঁপতে দেখা গেছে। প্রথম ইনিংসে ২০৫ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দেড়শ ছোঁয়ার আগেই নেই ৬ উইকেট। এদিনও ব্যর্থ দলের ব্যাটিং লাইনআপ। কেন আফগানদের বিপক্ষে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ? এ নিয়ে সাকিব বলেন, ‘টেকনিক্যালি সমস্যাও বলতে পারে, আবার প্রয়োগের ক্ষেত্রে। যেহেতু রিস্ট স্পিনার খেলি না। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মানিয়ে নেয়ার বিষয় থাকে। যদিও আমরা পরিকল্পনা করেছি, আমাদের যারা নেটে বোলার আছে এরকম, ওদের এনে আমরা অনুশীলন করেছি। যতক্ষণ না আপনি ম্যাচ খেলছেন বা সাকসেসফুল হচ্ছেন, কাজে আসবে না। আমি বলবো না কারও অ্যাপ্রোচে সমস্যা ছিল। আমি বলব এক্সিকিউশনে অনেক প্রবলেম। আর বড় মন নিয়ে খেলার একটা সমস্যা। লিটনের কথাই ধরেন যখন টি-টেয়েন্টিতে খেলে তখন রিভার্স সুইপ কেন, যত শটই খেলে ওর লাগে। কিন্তু টেস্ট ম্যাচে ও এটা করতে পারেনি। কোচও এই কথাই বলেছে যে আমরা যেন মন খুলে খেলি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা অনেক ভয় নিয়ে খেলি, অনেক প্রেশার নিয়ে খেলি। এত বেশি প্রেশার নিয়ে ফেলি নিজেদের ওপরে পারফরম করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়।’
গতকাল আফগানদের চারশ ছোঁয়া লক্ষ্য তাড়া করতে ঝুঁকি নিতে হতো। সে কারণেই ওপেনিংয়ে সাদমানের সঙ্গে লিটনকে নামানো হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ সাদমান ৪১ রান করে অনেকটা সময় একাই লড়াই করেন। লিটন মাত্র ৯ রান করেন। এরপর মুমিনুলের পরিবর্তে মোসাদ্দেককে নামানো হয়। কিন্তু এদিন তিনিও ব্যর্থ। এ নিয়ে সাকিব বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে ফার্স্ট ইনিংসে আমরা যতজন ব্যাটিং করেছি সবচেয়ে বেশি কমফোর্টেবল ওকে মনে হয়েছে, স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে। আমরা যেহেতু স্পিন বেশি ফেস করছিলাম, কাল রাত থেকেই প্ল্যান করা হচ্ছিল যে ও ওপরের দিকে ব্যাট করলে, ফার্স্ট ইনিংসে যেভাবে ব্যাট করেছে ওভাবে করতে পারলে, বড় ইনিংস খেলারও অভিজ্ঞতা আছে কারণ ফার্স্ট ক্লাসে বোধ হয় চারটা কি পাঁচটা ডাবল সেঞ্চুরি করেছে সে। আমাদের চারশ চেজ করতে হলে এরকম কিছু প্লেয়ার দরকার হতো যাদের বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস আছে বা খেলে অভ্যস্ত। সেকারণেই ওকে খেলানো।’
তবে যতই পরিকল্পনা করুক না কেন সবই বিফলে গিয়েছে বাংলাদেশ দলের। একেবারে উইকেট নিয়ে চিন্তা থেকে শুরু করে একাদশ সাজানো পর্যন্ত। যে কারণে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন সব পরিকল্পনাই ভুল ছিল। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘পরিকল্পনা ঠিকমতো যদি বাস্তবায়ন হতো তাহলে এরকম হতো না। যেহেতু পরিকল্পনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়নি, তাই এরকম হয়েছে। তখন এটাই বলা স্বাভাবিক যে পরিকল্পনায় ভুল ছিল।’ শুধু তাই নয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলসে এসে অকপটে জানিয়ে দেন কতটা চাপে আছেন তিনি। তবে তারচেয়ে বেশি চাপে দলের ক্রিকেটাররা। সে কারণে অধিনায়কের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রশ্নের। সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই, যে ধরনের ম্যাচ আমরা আশা করছিলাম তার পুরো বিপরীত। স্বাভবিকভাবে চাপ তো থাকবেই। টিম মেটদের ওপর থেকে চাপ কমানোর একটা ওয়ে (সাংবাদ সম্মেলনে আসা), এটা বলতে পারেন। কিন্তু মাঠের চাপ থাকবেই, যতদিন ক্রিকেট খেলবো ততদিনই থাকবে। এটা মেনে নিতে হবে। এটা নিয়ে বেশি একটা চিন্তা করার কিছু নেই।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
shiblik
৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৯:০৮

"তৃতীয় দিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্তরা বৃষ্টির প্রার্থনা করছিল" . Its not a sports suitable for Bangladesh.

অন্যান্য খবর