× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

চীনের মধ্যস্থতায় নিউ ইয়র্কে বসছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার

প্রথম পাতা

মিজানুর রহমান | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৮:৪৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জট খুলতে চীনের মধ্যস্থতায় ফের বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সাইড লাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ত্রি-দেশীয়  এ বৈঠক হওয়ার সূচি নির্ধারিত হয়েছে। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দিনক্ষণের বিবেচনায় বৈঠকটিকে টেন্টেটিভ প্রোগ্রাম বা টিবিসি হিসাবে সূচিতে রাখা হলেও এটি যে নিউইয়র্কে হচ্ছে তা মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচির প্রতিনিধি হিসাবে মিয়ানমারের মন্ত্রী চাউ থিন মোয়ে জাতিসংঘে যাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। আর যার মধ্যস্থতায় বৈঠকটি হওয়ার প্রস্তাব সেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েং ই-ও নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। ৩ জনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার প্রেক্ষিতে বৈঠকটি নিউইয়র্কে হওয়ার পক্ষেই আয়োজক চীন। ঢাকার তরফে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার প্রস্তাবের আগেই বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসন জট খূলতে বাংলাদেশ যে কোন স্থানে বৈঠকে বসতে রাজী। ঢাকাস্থ চীনের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোলাসা করেই বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ রোহিঙ্গা বোঝা লাঘব করতে চায়। তাদের ফেরত পাঠাতে ঢাকা প্রস্তুত। প্রয়োজন মিয়ানমারের প্রতিশ্রতির বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ। তারা তাদের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের আস্থা অর্জনে যেনো দ্রুত পদেক্ষেপ নেয় এটাই বাংলাদেশের একমাত্র চাওয়া। আর এ নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা, সংলাপ বা বোঝাপড়ায় বাংলাদেশ সর্বদা তৈরি আছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মানবিক কারণে বাংলাদেশ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যে সংকটে পড়েছে এটি এবার বিশ্ববাসীকে জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শতাধিক সরকারি প্রতিনিধি জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। ওই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ ক’জন মন্ত্রী এবং  পররাষ্ট্রসচিব ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা বিশ্বসভার মূল অধিবেশন এবং সাইড লাইনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সব খানেই প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি। সরকার প্রধানের সফরসঙ্গী হিসাবে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। নিজ খরচে যাওয়া শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ট্র্যাক টু ডিপ্লোমেসির সূযোগ রয়েছে। তারা যেখানে যে আয়োজনেই অংশ নেন না কেন, সবখানেই বাংলাদেশ বিশেষত রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরবেন এবং এ থেকে ভুক্তভোগী হিসাবে বাংলাদেশের পরিত্রান চাইবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি এরইমধ্যে অনেকটা এগিয়েছে ঢাকা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কো-অর্ডিনেশন মিটিং হয়েছে। সেখানে সরকার প্রধানের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সূত্র মতে, সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেয়া ছাড়াও সাইড লাইনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তা হলো- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেঁরার সঙ্গে বৈঠক। সাইড লাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রস্তাব রয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত অন্য সব বৈঠকও হবে, তবে চূড়ান্তভাবে দিনক্ষণ নির্ধারিত হতে অর্থাৎ উভয়ের সুবিধাজনক সময় এবং হাই লেভেল মিটিং রুমগুলোর বুকিং হওয়াসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর