× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

আশুরা উপলক্ষে কাশ্মীরের শ্রীনগরে কড়াকড়ি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ১২:০৬

আশুরার তাজিয়া মিছিলকে সামনে রেখে কাশ্মীরের শ্রীনগরে অচলাবস্থা আরো কড়াকড়ি করা হয়েছে। সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিয়া সম্প্রদায়ের বেশ কিছু মানুষ শ্রীনগরে র‌্যালি করেন রোববার। এরপরই কর্তৃপক্ষ সেখানে কঠোরতা আরো বাড়িয়েছে। রোববারও সেখানে দু’একটি স্থান ছাড়া বেশির ভাগ স্থানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ছিল বিচ্ছিন্ন। এ অবস্থায় খুব সকাল থেকে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পুলিশ শহরজুড়ে ঘুরে ঘুরে ঘোষণা দিচ্ছে- অধিবাসীরা যেন তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস না দেখান। যারা আইন লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পবিত্র মুহররম মাসে আশুরা উপলক্ষে বিশ্বব্যাপি র‌্যালি ও তাজিয়া মিছিল করেন শিয়া সম্প্রদায়। কিন্তু ১৯৮৯ সালে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে সশস্ত্র এক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত দখলীকৃত কাশ্মীরে এমন র‌্যালি নিষিদ্ধ করা হয়। তারা ধারণা করে যে, এর মধ্য দিয়ে ভারত বিরোধিতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাংবাদিকরা বলেছেন, রোববার সকালে কমপক্ষে দুটি বিক্ষোভ হয়েছে শ্রীনগরে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই শিয়া সম্প্রদায়ের ওইসব বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় বাঁশের লাঠি দিয়ে বিক্ষোভ-র‌্যালিতে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের প্রহার করতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তারা কমপক্ষে এমন ৬টি র‌্যালি দেখেছেন। সেসব স্থান থেকেও পুলিশ লোকজনকে আটক করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর মুহররমের র‌্যালিতে রাজনীতির আবহ আছে। কারণ, জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন চালু করেছে ভারত সরকার। তা করতে গিয়ে তারা কাশ্মীরের মানুষজন বা তাদের জনপ্রতিনিধি কারো সঙ্গে কোনোও রকম শলাপরামর্শ করেনি। তারা একতরফাভাবে কাশ্মীরের জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন তাদের সিদ্ধান্ত। এর ফলে কাশ্মীরিদের মধ্যে ক্ষোভ চরম আকারে বিরাজ করছে। কয়েক দশক ধরে কাশ্মীরি জনগণ ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তার বেশির ভাগই বেসামরিক।

শনিবার একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০০০ মানুষ। সেই রিপোর্ট কাভার করতে গিয়ে স্থানীয় চারজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ৫ই আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের চাপিয়ে দেয়া অচলাবস্থার বিরুদ্ধে এটি সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের অন্যতম। আহত এক সাংবাদিক বলেছেন, তিনি র‌্যালি কাভার করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন। তাতে তার শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে ক্যামেরার লেন্স। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মীরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। ছুড়েছে ফাঁকা গুলি।  কয়েক দিন হলো শ্রীনগরের কিছু এলাকায় কঠোরতা শিথিল করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আবার শুক্রবার থেকে তা কঠোর করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর