× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার

পুঁজিবাজারে অস্থিরতা থামছে না

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৫৫

শেয়ারবাজারে মন্দা কাটছে না। দুই কার্যদিবস কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার আবারো দরপতন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে কমেছে সবক’টি মূল্যসূচক। গত সপ্তাহে ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছিল ডিএসই‘র প্রধান সূচক। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে আজ হিজরি ১৪৪১ সনের ১০ই মহররম, পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকবে। এর আগে টানা ছয় কার্যদিবস দরপতনের পর গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দুই বাজারেই সবক’টি সূচক বাড়ে। যদিও লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছিল। এদিকে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরেই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আস্থা সংকটে ভুগছেন। যার প্রভাবে শেয়ারবাজারও ধুঁকছে। এখন শেয়ারবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানই বড় চ্যালেঞ্জ। আস্থা সংকটের কারণেই দুই কার্যদিবস কিছু ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। ফলে দরপতন হয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এর আগে ব্যাংকের ওপর ভর করে সূচকের ওই ঊর্ধ্বমখীতার দেখা মিলে। তবে সোমবার ব্যাংক খাত সেই ধারাবাহিকতা আর রাখতে পারেনি। দিনভর একের পর এক ব্যাংকের শেয়ার দামের পতন হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে অন্য খাতের ওপরে। ফলে পতন হয়েছে সবকটি সূচকের। অবশ্য সব থেকে বড় মূলধনের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। যা মূল্য সূচককে বড় পতনের হাত থেকেও রক্ষা করেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে ৪০৭ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪২৭ বারে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ৩৫ হাজার ১২৪টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০.৯৬ শতাংশ বা ৭৪টির; কমেছে ৬৭.১৪ শতাংশ বা ২৩৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১.৮৯ শতাংশ বা ৪২টির। ডিএসই প্রধান বা ডিএসই এক্স সূচক ২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরিয়া সূচক ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে।
অপরদিকে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭০৫ টাকার শেয়ার। সিএসই সার্বিক সূচক ৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২২৫ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৫৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১৮৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।

এদিকে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। আইসিসিতে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে বিএমবিএ প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান। প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানানোর পাশাপাশি বিএমবিএ প্রতিনিধিরা ইউনিট ফান্ডে বিনিয়োগের ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরিসহ শেয়ারবাজারের উন্নয়নে জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। ২০১০ সালে ধসের প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ২০১২ সালের ৫ই মার্চ প্রণোদনা স্কিমের আওতায় ৯০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হয়, যা তিন কিস্তিতে ৩০০ কোটি টাকা করে আইসিবির মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৪ঠা অক্টোবরের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০১৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।

ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাজারকে ভালো করার জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিএসইসি সহায়তা করবে। এ ছাড়া বাজারে কেউ কারসাজি করলে যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। তিনি বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেছেন, বাজারের স্বার্থে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা দরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর