× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

ইউপি চেয়ারম্যানের মাছের পেটে ৫০ একর জমির ধানগাছ

বাংলারজমিন

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল থেকে | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৭:৩৯

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লি ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা কৌশলে অন্যের ব্যক্তি মালিকানা ফসলি জমিতে মাছের ঘের তৈরি করেছেন। কালিয়া উপজেলার কদমতলা বিলে চেয়ারম্যানের এ ঘেরের মাছ দেড়শ’ কৃষকের ৫০ একর জমির রোপা আমন ধানেরগাছ খেয়ে ফেলেছে। চেয়ারম্যান এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করাতো দূরের কথা ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার পেড়লি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জারজিদ মোল্যা গত ৩ মাস পূর্বে এলজিএসপি এবং কর্মসৃজন ৩টি প্রকল্পের আওতায় কদমতলা রমজান মেম্বারের বাড়ি থেকে আশরাফ মাওলানার বাড়ি হয়ে কদমতলা বিল অভিমুখী এবং কদমতলা হিন্দু পাড়ার ডোব থেকে চর জামরিলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেন। কৃষকের উৎপাদিত ফসল আনা-নেয়া, সেচ সুবিধা ও যাতায়াতের সুব্যবস্থার কথা বলে কৃষকদের জমির ওপর দিয়ে ওই রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তা নির্মাণের সময় রাস্তার এক পাশে দেড় কিলোমিটার জুড়ে লম্বা খাল তৈরি করেন তিনি। ওই খালে দেড়শ’ মণ গ্রাসকার্প জাতীয় মাছের বড় সাইজের পোনা ছাড়েন। কর্মী দিয়ে মাছের পরিচর্যা শুরু করেন। রাস্তার ঘেরের মধ্যে থাকা জমিতে কৃষকরা আমন ধান চাষ করেন। চেয়ারম্যানের মাছ ও কৃষকের ধান গাছ বেড়ে উঠতে থাকে। বৃষ্টির পানিতে খাল ভেসে মাছ ছড়িয়ে পড়ে বিলে। ওই মাছে বিলের ফসলি জমির ধান গাছ খেয়ে সাবাড় করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খালের মাছ ভেসে পার্শ্ববর্তী প্রায় দেড়শ’ কৃষকের ৫০ একর ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চাষকৃত আমন ধানের গাছ খেয়ে ফেলছে। সরজমিনে ওই এলাকায় গেলে চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি। ক্ষতিগ্রস্তরা শুধু বলেছেন, দেখে যান কত বড় ক্ষতি হয়েছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে এ গ্রামে কেউ থাকতে পারবে না। তাই কারো কোনো অভিযোগ করার সুযোগ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি মেম্বার জানান, চেয়ারম্যান উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিলের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের নামে ঘের কেটেছেন। এ নিয়ে কেউ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক জানান, চেয়ারম্যানের মাছে প্রায় ৫০ একর জমির ধান গাছ খেয়ে ফেলেছে। ওই কৃষকের প্রায় ৪ বিঘা জমির আমন ধানের গাছ মাছ খেয়ে ফেলেছে। চেয়ারম্যান কাউকে কিছু না বলে ইচ্ছামতো অন্যের ফসলি জমিতে মাছের চাষ করছেন। চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত পরিকল্পনায় নতুন এ রাস্তা নির্মাণের ফলে বিলের এসব জমির পানি বের হবার সুযোগ নেই। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সুকৌশলে চেয়ারম্যান এ রাস্তা তৈরি করে মাছ চাষ করার সুযোগ করে নিয়েছেন। এলাকার মানুষ এ নিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। বরং কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে, সেজন্য ওই জলাশয়ে লোক দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি ওই ঘের থেকে একটি মাছ ধরার অপরাধে চেয়ারম্যানের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিজেকে রক্ষা করতে হয়। অভিযুক্ত পেড়লি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জারজিদ মোল্যা বলেন, ‘তিনি জমির মালিকদের নিকট থেকে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। কালিয়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর