× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার

চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকায় ২৫০ কিশোর অপরাধী

এক্সক্লুসিভ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৭:৩০

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে কিশোর গ্যাং কালচার। এলাকাভিত্তিক গ্রুপ করে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। দেড় বছরে তাদের হাতে খুন হয়েছে ৮ জন। এমন ২৫০ জন কিশোর অপরাধী এখন পুলিশের তালিকায়। এরই মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপভিত্তিক শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই-ইভটিজিং তাদের রুটিন কাজ। পান থেকে চুন খসলেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়।
আর খুন-খারাবি ঘটাচ্ছে অহরহ।
কিশোর গ্যাংয়ে জড়িতদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছর। ২০ বছর বয়সী থাকলেও তা সংখ্যায় কম। এদের অনেকেই স্কুলের গণ্ডিও পার হতে পারেনি। পশ্চিমা কালচারের আদলে তাদের চলাফেরা। নগরীর সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়েও রয়েছে গ্যাং কালচার। স্কুল ছুটির আগে-পরে মিলিত হয় তারা। অনেক সময় স্কুল পালিয়েও গোপন বৈঠক করে। মাদকও সেবন করে। খুন-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে লিপ্ত তারা। তাদের অনেকে স্পাইডারম্যানের মতো। নগরীতে গত দেড় বছরে তাদের হাতে খুন হয়েছে ৮ জন। পুলিশ বলছে, তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি, ফেসবুক-মুঠোফোন, প্রেম, চুরি-ছিনতাইসহ নানা ইস্যুতে সামান্য মতানৈক্য হলেই এদের মাথায় খুন চেপে বসে। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোস্তাইন হোসেন বলেন, নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এমন ২৫০ জন কিশোর এখন পুলিশের তালিকায়। থানাভিত্তিক অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কিশোরের যাবতীয় তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের হাতেও রয়েছে তাদের সব তথ্য। কোন এলাকায় থাকে, কি করে, বয়স কত, কে কি অপরাধ করছে সব তথ্যই সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বিচরণ করা এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় একজন কিশোর অপরাধীও যাতে থাকতে না পারে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কিশোর অপরাধ রুখতে সকল পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। কারণ তারাই একদিন বড় সন্ত্রাসীতে পরিণত হবে। তাদের এখনই রুখে দিতে হবে।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমার এলাকায় কিশোর অপরাধীদের ধরতে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চলে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। সে যেই হোক রেহাই নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে। ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ ও পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, কিশোর অপরাধী দমনে আমরা বদ্ধপরিকর। কিশোররা যাতে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সতর্ক রয়েছি। যারা ইতিমধ্যে জড়িয়ে পড়েছে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি নগরীর জামালখানে কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসপারকে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে হত্যার ঘটনার পর নগর দাপিয়ে বেড়ানো কিশোর অপরাধীদের নিয়ে নড়েচড়ে বসে সিএমপি। চলতি বছরের ৬ই এপ্রিল নগরের গোলপাহাড় এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে কিশোরদের দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ দ্বন্দ্বের জেরে গোলপাহাড় এলাকার যুবলীগ কর্মী এমএইচ লোকমান রনি নিহত হন স্থানীয় সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলামের গুলিতে। এর দু’দিন পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় সাইফুল।
১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন ইয়াবা সেবনের টাকা না পেয়ে বাবা রঞ্জন বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে খুন করে তার ছেলে রবিন বড়ুয়া। নগরীর কাজির দেউড়ির ব্যাটারি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। ১০ই মে পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর পিলখানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছুরিকাঘাতে খুন হন মোস্তাক আহমেদ (৩৫)। ছেলের সঙ্গে বখাটে কিশোরদের ঝগড়া মেটাতে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ১৪ই মে নগরের ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়ায় রিকশাচালক রাজু আহমেদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয় ১০-১২ জনের কিশোর। ১৮ই জুলাই রাতে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় কিশোর অপরাধীদের নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে খুন হয় মোবারক হোসেন (২০) নামের এক কিশোর। কিশোর অপরাধের সর্বশেষ বলী জাকির হোসেন সানি (১৮)। ২৬শে আগস্ট দুপুরে নগরের খুলশী থানার জাকির হোসেন সড়কে ওমরগণি এমইএস কলেজের ফটকের অদূরে ইক্যুইটি ভবনের সামনে ছুরিকাঘাতে খুন হয় সানি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর