× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

খোয়াই নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৩১

হবিগঞ্জের শুরু হয়েছে পুরাতন খোয়াই নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। গতকাল সকাল থেকে শুরু হয় এ উচ্ছেদ অভিযান। এরই মধ্যে নদীর সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করেছে জেলা প্রশাসন। একটানা প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে উচ্ছেদ অভিযান। দীর্ঘদিন দখলদারদের উদরে থাকা পূরাতন খোয়াই নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরবাসী। দীর্ঘদিন দখলে থাকা নদীটি রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরকারি, বেসরকারিসহ প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনা রয়েছে এ নদীর উপর। এগুলো উচ্ছেদ করে দৃষ্টিনন্দন লেক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
একটানা এ অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। প্রথম দিনে ডায়াবেটিক হাসপাতালের পেছন থেকে প্রতিবন্ধী স্কুল পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এদিকে, উচ্ছেদের খবর পেয়ে অনেকেই নিজ উদ্যোগে নিজেদের স্থাপনা ভেঙে ফেলছেন।
হবিগঞ্জ জেলা শহরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ১৯৭৭-৭৮ সালে মাছুলিয়া থেকে কামড়াপুর পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর থেকে নদীর পুরনো অংশটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এতে অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে নদীটি। মূলত এরপর থেকেই  সেখানে নজর পরে প্রভাবশালীদের। নদীতে গড়ে তোলা হয় স্কুল, উপাসনালয়সহ বিশাল অট্টালিকাও। অব্যাহত দখলের ফলে দুইশ’ ফুট প্রশস্ত নদীটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে। আর এসব দখলদারকের তালিকায় রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরাও। এমনকি সরকারিভাবেও নদী ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে  জেলা পরিষদ ভবন, মেজর জেনারেল এম এ রব স্মৃতি পাঠাগার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু বারবার উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হলেও দৃশ্যমান কিছুই হয়নি। বিভিন্ন অপ-শক্তির কারণে বারবারই স্থগিত হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন খোয়াই নদীর অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে  সেগুলোতে লাল রং দিয়ে ক্রস চিহ্ন দিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। একই সাথে ওই সব অবৈধ দখলদারদের রোববারের মধ্যে মালামাল সরিয়ে  নেয়ার জন্য জানিয়ে দেয়া হয়। ইতোমধ্যে অনেকেই মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি অনেকে নিজ উদ্যোগেই নিজেদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নিচ্ছেন। এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ মানবজমিনকে বলেন, হবিগঞ্জ শহরকে নান্দনিক ও নিরাপদ করতে ইতিমধ্যে  ১৮শ’ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি একনেটে উপস্থাপনের অপেক্ষায় আছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে হবিগঞ্জ। আমি হবিগঞ্জকে একটি নান্দনিক জেলায় রূপান্তরিত করে যেতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা জেলায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছি। খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শহরের বাইপাস সড়কে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। এখন শুরু হচ্ছে শহরের ভিতরের দীর্ঘদিন দখলদারদের উদরে থাকা পুরাতন খোয়াই নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। এটি হবিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমি এ কঠিন কাজটি সমাপ্ত করতে চাই। সরকারি, বেসরকারিসহ সকল প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আমরা দৃষ্টিনন্দন লেক প্রতিষ্ঠা করে হবিগঞ্জকে বাংলাদেশের মধ্যে নান্দনিক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এ জন্য আমি সর্ব মহলের সহযোগিতা চাই। আমার বিশ্বাস সকলের সহযোগিতা পেলে আমি এ বড় উদ্যোগটিকে সফলতা দিতে পারব।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর