× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
রংপুর-৩ সদর উপনির্বাচন

জাপাকে ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাহার

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:১১

জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়ে রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু। প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে নেতাকর্মীদের বাধাকে উপেক্ষা করে নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে প্রত্যাহারের আবেদনপত্রটি তুলে দেন তিনি। রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল সোমবার। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবে আওয়ামী লীগ এমন খবরে সকাল থেকে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভিড় ছিল গণমাধ্যম কর্মীদের। বিকাল সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাচারিবাজারে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। নির্বাচনে নৌকা মার্কা বহাল রাখার দাবি তুলে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকার পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে কাচারি বাজারে আসেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের সরে যেতে বললে তারা রাস্তায় শুয়ে তার পথ অবরোধ করে।
দলের স্বার্থে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হচ্ছে রাজু নেতাকর্মীদের এমন অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানেও নেতাকর্মীরা তার প্রবেশে বাধা দেয়।

বিকাল পৌনে ৫টায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তিনি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, প্রচার সম্পাদক রোজী রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লতিফা শওকত, আওয়ামী লীগ নেতা মাজেদ আলী বাবুলসহ অন্যরা। মনোনয়নপত্র জমা শেষে অ্যাড. রাজু সাংবাদিকদের বলেন, রংপুরের মানুষের দুর্ভাগ্য, আমরা কল্যাণের পথে যেতে পারিনি।

বারবার আমাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। আজও আমরা তার শিকার হয়েছি। আজকের প্রেক্ষাপটে অপরাজনীতি বাংলাদেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বঙ্গকন্যা সেটিকে সুষ্ঠু ধারায় আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি রংপুরের মানুষ ও নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা উন্নয়নের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঢাকায় ডেকে বলেছেন দেশের রাজনীতির পথ কণ্টকাকীর্ণ। তোমাদের সঙ্গে নিয়ে আমি সেই পথকে মসৃণ করতে চাই। জনগণের আশা হয়তো আমি পূরণ করতে পারলাম না। তবে রংপুরের মানুষের সঙ্গে আমি থাকবো, তুমি প্রত্যাহার করো। তার নির্দেশ আমার কাছে শিরোধার্য। আমি চেষ্টা করবো রংপুরের মানুষের পাশে থেকে সরকারের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার। আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. রেজাউল করিম রাজুর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রইলো। এরা হলেন- রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ (জাতীয় পার্টি), রিটা রহমান (বিএনপি), হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (স্বতন্ত্র), কাজী মো. শহীদুল্লাহ (গণফ্রন্ট), মো. তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (খেলাফতে মজলিস) এবং শফিউল আলম (এনপিপি)। এর আগে ঋণ খেলাপির দায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি কাওসার জামান বাবলা ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের একরামুল হককে যাচাই বাছাইয়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে এখন ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে রয়েছেন। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও মডেল নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে প্রস্তুত রয়েছি। আগামী ৫ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচন। সদর আসনের ৪ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ জন ভোটার ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর