× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
গাজীপুরে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে

মেয়র ও জিএমপি কমিশনার

বাংলারজমিন

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৭:৪৮

গাজীপুর মহানগরজুড়ে সড়ক-মহাসড়কে নানা ধরনের অটোরিকশা-ইজিবাইকসহ ধীরগতির যানবাহনের কারণে তীব্র যানজটে পড়ে নাকাল হচ্ছিলেন নগরবাসী ও মহাসড়কের যাত্রীসাধারণ। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছেন তারা। এই অবস্থায় মহাসড়ক ও নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে অবৈধ অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভটভটি বন্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত তিনদিন ধরে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এসব। এতে সাময়িক অসুবিধা হলেও অধিকাংশ লোকজন বন্ধের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। আবার বিকল্প ব্যবস্থা আরো বাড়ানোর দাবি রয়েছে। তবে এসব যানবাহন বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছে এই পেশায় জড়িত হাজার হাজার চালক ও মালিক পরিবার। তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নগর মেয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, যানজটমুক্ত পরিকল্পিত নগর গড়তে, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে, নগরবাসী ও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ও জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন চালক ও নাম্বর প্লেটবিহীন অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, জেলা শহরের প্রধান সড়ক রাজবাড়ি রোড ও মসজিদ রোডসহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ইজিবাইক চলচল গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সড়কে চলাচলকারী নগরবাসী মধ্যে মিশ্রপ্রক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কম দরূত্বের পথ এখন সবাই পায়ে হেঁটে পাড়ি দিচ্ছেন। দীর্ঘযানজটের সড়ক বিশেষ করে জেলা শহরের প্রধান সড়ক ও নগরের আভ্যন্তরীণ অন্যান্য সড়কও এখন অনেকটাই ফাঁকা থাকছে। অবশ্য এসব যানবাহনের চালক-মালিকদের আয়-উপার্জন কমে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মানবজমিনকে বলেন, আমরা নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করে একটা পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন নগর গড়তে চাই। আবার রাজধানী ঢাকার সাথে আমাদের স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভলো করতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে যানজটের দুর্ভোগে-কষ্টে আছেন নগরবাসী। অফিস-আদালতে, হাসপাতালে ও স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়ার পথে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বিশেষ করে জয়দেবপুর রেললাইনের দুদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। শুধু যে নগরের প্রধান প্রধান সড়কে এই অবস্থা তা নয়, মহাসড়কেও একই অবস্থা। গাজীপুর থেকে গুরুত্বর অসুস্থ রোগী অনেক সময় ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে দেখা যায় কখনো কখনো যানজটে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগী মারা যাচ্ছে। তাই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেয়ার উদ্দেশ্যেই অবৈধ যানবাহন যেগুলোর কোন অনুমোদন নেই বা নাম্বার প্লেট নেই এবং যেসব চালকের কোনো লাইসেন্স নেই সেসব যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বন্ধ থাকবে। এদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা নগরের মেয়র, কাউন্সিলর বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বার্থ নেই। নগরবাসীর স্বার্থ। এ নিয়ে আন্দোলন বা রাজনীতিরও কিছু নেই। পর্যাপ্ত বিকল্প গাড়ি নামানো হয়েছে, প্রয়োজনে আরো গাড়ি নামানো হবে।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, অচিরেই জনদুর্ভোগ কমাতে মহানগরের মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত পরিবহনের সংস্থান এবং ভাড়া নির্ধারণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই সড়কে কেউ বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করতে পারবে না।
নগর ঘুরে, নগরবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভয়াবহ আটোজটে প্রতিদিনই নাকাল ছিলেন গাজীপুর মহানগরবাসী। এমনকি পাঁয়ে হাটা মানুষও রাস্তায় বের হয়ে বিপাকে পড়ছেন। এতে ভোগান্তি আর দুর্ঘটনা বেড়েছে।
 নগররের অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ব্যটারিচালিত কয়েক ধরনের অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ইজিবাইক। এসব অবৈধ বাহনে শিশু ও অদক্ষ চালক, যেখানে- সেখানে ইউটার্ন নেওয়া, অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আবার ট্রাফিক আইন না জেনে অনেকেই এ পেশায় আসছেন। মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ এসব অবৈধ তিন চাকার যানবাহন। আবার সড়কের পাশে অবৈধ অটোকারখানা গড়ে ওঠায় ঘটছে নানা বিপত্তি। এসব রিকশা-ইজিবাইক অনেক বিদ্যুৎও খরচ করছে। আর প্রতিদিনই কমপক্ষে এ ধরণের ১ লাখ যানবাহন থেকে চাঁদাবাজিও চলছিল। নগর মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও জিএমপি কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন দু’জনই অবস্থান নেন এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি কমে আসলেও কমছিল না ভোগান্তি আর অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা। শহরবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয় এই অবৈধ যানবাহন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে বারবার উদ্যোগ নিলেও সমন্বয়হীনতা ও নানা পেশার লোকজনের অসহযোগিতার কারণে বিষয়টির সমাধান হচ্ছিল না। উচ্চ আদালতের বিজ্ঞ বিচারগণও ইতিপূর্বে এসব যানবাহর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিলেও আইন-আদালতের প্রতি তোয়াক্কা নানা মহলকে ম্যানেজ করে দেদার চলতে থাকে। এক শ্রেণির রাজনৈতিক ক্যাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থানীয় লোকজন ও ম্যানেজ করে এ সকল অবৈধ যান সড়কে চলতে সাহায্য করছে। এ ধরনের বাহন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও চালায়। এতে ইভটিজিং, ছিনতাই কাজে এবং মাদক সরবরাহেও ব্যবহার হচ্ছে বলে আলোচনায় রয়েছে। অবৈধ এসব যানবাহন বন্ধ করে দেয়ায় এ নিয়ে সড়কে চলাচলকারী নগরবাসীর মধ্যে মিশ্রপ্রক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কমগতি অবৈধ বাহন তুলে দিয়ে তাকওয়াসহ কয়েকটি সার্ভিসের মিনি বাস দেয়ায় যানজটের দুর্ভোগ কমেছে। আবার অপর্যাপ্ত নতুন গাড়ি দেয়ার ও অটো-ইজিবাইকের চালক-মালিকরা  আর্থিকভাবে ক্ষতিতে পড়ার কথাও বলছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর