× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

হাসপাতালের দরপত্রে মন্ত্রীর ডিও লেটার নিয়ে তোলপাড়

বাংলারজমিন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৮:০৬

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দরপত্রে সমাজ কল্যাণমন্ত্রীর পছন্দের ঠিকাদারকে ডিও লেটার দিয়েছেন। দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অফিস ঘেরাওয়ের পাশাপাশি আন্দোলন শুরু করেছেন ঠিকাদাররা। আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০১৯-২০ অর্থবছরের রোগীর পথ্য, স্টেশনারি ও ধুপি কাজে ঠিকাদার নিয়োগ করতে দরপত্র আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দরপত্র অনুযায়ী গত ১৯শে আগস্ট শেষ সময় পর্যন্ত ৩টি গ্রুপে ২০টি দরপত্র বিক্রি হয়। ২০শে আগস্ট ১৩টি দরপত্র জমা হলে পরদিন দরপত্র যাচাই-বাচাই কমিটি ৪টি দরপত্র বাতিল করে ৯টিকে বৈধতা দেন। এরই মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ রংপুরের হারাগাছ এলাকার আবদুর রাজ্জাক লেবু অথবা একই এলাকার মাহিন ট্রেডার্সকে পথ্যের ঠিকাদারি প্রদানের জন্য একটি ডিও লেটার প্রেরণ করেন। দরপত্রের বিধিমালার ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে দরপত্র চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মন্ত্রীর ডিও লেটারের ঠিকাদার আবদুর রাজ্জাক লেবুকে চূড়ান্ত নির্বাচন করে কমিটি।
এতে বাকি দরপত্রদাতা স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। অফিস আদেশ না দিয়ে বুধবার সকালে হঠাৎ নতুন ঠিকাদারকে পথ্য সরবরাহ করতে বলেন হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) রফিকুল ইসলাম। খবর পেয়ে বাকি দরপত্র দাখিলকারী ঠিকাদাররা নোটিশ বোর্ডে এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশ না পেয়ে বড় বাবুকে এ অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করে তোপের মুখে ফেলেন। উভয়ের মাঝে চরম বাক্যবিনিময় হলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে হাসপাতালের পরিবেশ। কৌশলী বড় বাবু নিজের দোষ আড়াল করতে উল্টো ঠিকাদার স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা হামলা চালাচ্ছে মর্মে থানায় ফোন করে। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে পুলিশ উত্তপ্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। হাসপাতালে দরপত্র দাখিলকারী ও বর্তমান ঠিকাদার জমশেদ আলী জানান, দরপত্রের চূড়ান্ত ফলাফল নোটিশ বোর্ডে কিংবা দরপত্র দাখিলকারীদের চিঠি না দিয়ে হঠাৎ বড় বাবু মৌখিক আদেশ দিয়ে নতুন ঠিকাদারকে কাজের আদেশ দেন। যা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। বড় বাবু নিজে স্টেশনারি ও পথ্যের ঠিকাদার হতে অন্যের লাইসেন্স দিয়ে জাতীয় পার্টির এক নেতাকে দিয়ে পত্রপত্র দাখিল করেন এবং সেটাই চূড়ান্ত করেন। এ জন্য কৌশলে মন্ত্রীর ডিও লেটারও সংগ্রহ করেন বড় বাবু। যুবলীগ নেতা শেখ ট্রেডার্স ও লাকি এন্টারপ্রাইজের পথ্যের ঠিকাদার জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, হাসপাতালের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম নিজেই বহিরাগত লাইসেন্স দিয়ে ঠিকাদার সেজে স্বাক্ষর করে দরপত্র বাগিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন। তাই অফিস আদেশের তোয়াক্কা না করে মৌখিক নির্দেশনায় কাজ শুরু করেন। এ বিষয়ে জানতে গেলে উল্টো আমাদের হয়রানি করেন। তিনি এ অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি অভিযুক্ত প্রধান অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম। আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেশকাতুল আবেদ বলেন, মন্ত্রী মহোদয় ডিও লেটার দিলেও নিয়মনীতি মেনে দরপত্র চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান ছিল। কিন্তু প্রধান অফিস সহকারী আমাকে না জানিয়ে মৌখিকভাবে কাজের নির্দেশ দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা বিধিসম্মত নয়। এ অনিয়ম ও উদ্ভূত পরিস্থিতির তদন্ত ও ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের ঠিকাদারকে আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বড় বাবুর অনিয়মের তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। সিভিল সার্জন ডা. কাশেম আলী বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর