× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার

সিলেট চেম্বার নির্বাচন নিয়ে মর্যাদার লড়াই

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৮:৫৮

সিলেট চেম্বারের কর্তৃত্বের লড়াই পরিণত হয়েছে মর্যাদার লড়াইয়ে। আর এ কারণেই এবারের নির্বাচন নানা রঙ ও ঢঙে ভরপুর। অপপ্রচারে বিদ্ধ হয়েছেন প্রার্থীরা। সাবেকরাও নীরব থাকেননি। পছন্দের প্যানেলের পক্ষে হয়েছেন সরব। উভয় প্যানেলেই হয়েছে ‘রাজনৈতিক’ ভাগ-বাটোয়ারা। আর এ সব হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়েই আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন। ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।
দিনভর ভোট গণনা শেষে রাতে ঘোষণা হবে নতুন নির্বাচিত পরিচালকদের নাম। সিলেট চেম্বার হচ্ছে সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন। ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হলেও চেম্বার নেতাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মুখ থুবড়ে পড়ে চেম্বারের কার্যক্রম। আর প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে ফিরিয়ে আনা হয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। সিলেট চেম্বারের এবারের নির্বাচনও হচ্ছে প্রশাসক আসাদ উদ্দিনের মাধ্যমে।

জাল ভোটার অন্তর্ভুক্তিকরণ নিয়ে আপত্তির জের ধরে চেম্বারে সংকট দেখা দিয়েছিল। খন্দকার সিপার আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিটি বিদায়ের পর গঠিত নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের নেতৃত্বে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা বিজিত চৌধুরী। জাল ভোটার বিতর্ক ও আইনি জটিলতার কারণে মেয়াদ চলে গেলে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ৪ঠা জুন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে চেম্বারের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। আসাদ উদ্দিন আহমদ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড গঠন করে নতুন করে তফসিল ঘোষণা করেন। এবারের নির্বাচনে ২১টি পদে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন ৪০ প্রার্থী। টাউন এসোসিয়েশনের একটিমাত্র পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সমশের জামাল। এসব প্রার্থী সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ কিংবা সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ীদের প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন- অর্ডিনারি শ্রেণিতে এহতেশামুল হক চৌধুরী, মো. সাহিদুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মুশফিক জায়গীরদার, মো. আবদুর রহমান জামিল, খন্দকার ইসরার আহমদ রকী, মো. শফিকুল ইসলাম, শান্ত দেব, মো. আবদুস সামাদ, খলিলুর রহমান চৌধুরী, ফখর উছ সালেহীন নাহিয়ান ও আলীমুল এহছান চৌধুরী। সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন- আবু তাহের মো. শোয়েব, মো. মামুন কিবরিয়া সুমন, এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, হুমায়ুন আহমদ, মো. ফারুক আহমদ, মো. নজরুল ইসলাম, জুবায়ের রকিব চৌধুরী, আক্তার হোসেন খান, আবদুল হাদী পাবেল, শহীদ আহমদ চৌধুুরী ও মোহাম্মদ আবদুস সালাম। এসোসিয়েট শ্রেণিতেও একটি প্যানেল হয়েছে। এ প্যানেলে রয়েছেন, মাসুদ আহমদ চৌধুরী মাকুম, মো. এমদাদ হোসেন, পিন্টু চক্রবর্তী, আবদুর রহমান, চন্দন সাহা, মো. আতিক হোসেন। এর বাইরে এসোসিয়েট শ্রেণিতে ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আবুল কালাম ও মনোরঞ্জন চক্রবর্তী সবুজ প্রার্থী। ট্রেড গ্রুপে মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. মাহবুবুল হাফিজ চৌধুরী মসফিক, মো. নুরুল ইসলাম, তাহমিন আহমদ, মো. আমিনুজ্জামান জোয়াহির ও ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী। এবারের নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষে প্রচারণায় সরব ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ। তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা সহ প্রচারণায় প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারের কাছাকাছি যান। একই সঙ্গে এ পরিষদের পক্ষে বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী অবস্থান নিয়েছেন। আর সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষে প্রচারণায় ছিলেন, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আলী আহমদ ও সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ। এই দুইজনের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা জয়ী হতে চান। তবে- শেষ মূহুর্তে ঘুরেফিরে সিলেট চেম্বার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই পুরনো লড়াই ফিরে এসেছে। এ কারণে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে তুমুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের বিরুদ্ধে চেম্বারে পরিবারতন্ত্র বহাল রাখার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সেই অভিযোগকে আমলে না নিয়ে তারা বলছেন- যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থীরা লড়াইয়ে নেমেছেন। আর সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও তারা সেটিকে গুরুত্ব দেননি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর