× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার

১৪ বছর জেল খেটে ফের বেপরোয়া মডান

বাংলারজমিন

সিদ্দিক আলম দয়াল, (গাইবান্ধা) থেকে | ১১ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, ৭:৩৭

১৪ বছর কারাভোগের পর জেল থেকে বেরিয়ে আবারো বখাটে মেহেদী হাসান মডান আগের খারাপ পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশ রিমান্ডে এভাবেই সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। নারী লোভ, মাদক ব্যবসা ও আসক্তের কারণে সে বেপারোয়া হয়ে উঠেছে। দিনদুপুরে প্রকাশ্যে মেয়েদের হাত টেনে ধরা, ওড়না টেনে ধরে জোর করে কথা বলা, জোরপূর্বক প্রেম নিবেদন করা ছাড়াও শহর ও গ্রামের মেয়েদের সহজে মানসিক ও শারীরিক  নির্যাতন তার কাছে সাধারণ বিষয়। পিতার সামনে মেয়ে, ভাইয়ের সামনে বোনকে হাত টেনে ধরে চুমু দেয়া অথবা অশ্লীল ছবি তুলতে বাধ্য করে ব্লাক মেইল করাই ছিল মডানের কাজ। এসব অপকর্মের পেছনে কাজ করতেন তার মায়ের অবৈধ অর্থ। শহরের খা পাড়ার দাদন ব্যবসায়ী আজাদের ছেলে মেহেদী হাসান মডান। ছোটবেলা থেকে স্বভাবে ছিঁচকে চোর।
দিনের বেলায় অন্যের বাড়িতে ঢুকে চুরি করা তার ছিল স্বভাব। পরে কিশোর বয়সে এলাকায় মাস্তানি, চাঁদাবাজি, বখাটেপনা তার কাছে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য তাকে অনেক মাসুলও দিতে হয়েছে। গণধোলাই থেকে শুরু করে তাকে রাস্তায় ফেলে মারপিটের অনেক রেকর্ড আছে। রিমান্ডে থেকে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে সে জানায়, জেল থেকে বেরিয়ে নিজেকে মাস্তানির শীর্ষে নেয়ার পরিকল্পনা করে। সেজন্য বন্ধু-বান্ধব যোগাতে নিজে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। দিন-রাত বাড়িতে, বাইরে এবং পৌরপার্কের এক কোণে বসে মাদক সেবন ও বিক্রির দোকান খুলে বসে। একপর্যায়ে মডান মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। দিনরাত নারী, মদ, ইয়াবা ফেনসিডিল নিয়ে নতুন নতুন দামি পোশাক পরে পৌরপার্ক এলাকায় রাজা হয়ে ঘুরে বেড়ানো তার নতুন স্বভাবে পরিণত হয়। মেয়েদের দেখলেই প্রেম নিবেদন করা তার মামুলি বিষয়। তার কথায় গ্রামের বা অপরিচিত অনেক মেয়েই তার ফাঁদে পা দেয়। প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন ছাড়াও অন্যান্য প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়ায় অনেকেই মডানের কাছে সম্ভ্রম হারিয়েছে। সম্ভ্রম হারাতে গিয়ে বেঁচে যায় এক নারী। প্রেম করার নামে শরীর ভোগ করতে গিয়ে ওই বিবাহিত নারী তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। ওই মেয়ের স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে মডান তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এক সময় দুজনের মধ্যে সমঝোতায় বিয়েও হয়। পরে জানা যায়, মেয়েটির আগে বিয়ে হয়েছিল। এই কথা শুনে মডান প্রায়ই তাকে মারধর করতো। দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা করে মডান গাইবান্ধায় মাদক সম্রাট বনে যায়। গড়ে ওঠে বড় বড় নেতা ও পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা। সখ্যতা গড়ে ওঠে এলাকার জন প্রতিনিধিদের সঙ্গেও। বনে যায় গডফাদার। বাড়িতে বসে প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ টাকার ফেনসিডিল ও ইয়াবা বিক্রি করতো। খবর পেয়ে মাদক ও ফেনসিডিলসহ পুলিশ এ বছর তাকে ৩ বার গ্রেপ্তার করে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মডান আবারো গাইবান্ধা শহরের মাস্টার পাড়ার ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীকে অপহরণ করে  ধর্ষণ করে। এরপর শুরু হয় তোলপাড়। মডানকে গ্রেপ্তার করতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ। ওই দিন ধর্ষিতা মেয়েকে উদ্ধার করলেও পুলিশ মডানকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। পরে খোঁজ-খবর নিয়ে পুলিশ ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে পুলিশ মডান ও ওরফে বখাটে মাদক সম্রাট মডানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হয়। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মোহাম্মদ শারহরিয়ারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মডানকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে নিয়ে মাদক সম্রাট মডান পুলিশের কাছে এসব কথা স্বীকার করে। এর আগে মেহেদী হাসান মডান গাইবান্ধার চাঞ্জল্যকর তৃষা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ১৪ বছর কারাভোগ করে। পুলিশ জানায় ২০০২ সালের ১৭ই জুলাই মডান তৃষাকে পানিতে ফেলে হত্যা করে। এজন্য তার আদালত থেকে ফাঁসির আদেশ হলে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় ফাঁসির আদেশ থেকে মাফ পায়। পরে ১৪ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি জেল থেকে বের হয়ে এসব অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর