× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার

ধর্মপাশা আওয়ামী লীগে উত্তেজনা

বাংলারজমিন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১১ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৩৯

সুনামগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ’র সমর্থকদের সঙ্গে সংসদ সদস্য’র সমর্থকদের এ উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকরা একে অপরের বিরুদ্ধে নোংরা প্রচারণা চালাচ্ছে। ১লা অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমিতে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অন্যান্য নেতাদের মতো বক্তব্য দেন ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ। মুরাদ তার বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন দলে জামায়ত-বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ করাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের গডফাদার হিসেবে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে আখ্যা দেন শামীম আহমদ মুরাদ। তার বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
পাল্টা বক্তব্যে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে শামীমকে পেট্রোল বিক্রেতা উল্লেখ করে বলেন, শামীম ভুল করছে। তার ভুল ভেঙে গেলে আবার চলে আসবে।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর উত্তেজনার আঁচ লেগেছে আসনের অন্য দুই উপজেলা তাহিরপুর ও জামালগঞ্জে। শামীম আহমদ মুরাদের বক্তব্যের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংসদ সদস্য অনুসারীরা ৬ই অক্টোবর ধর্মপাশা উপজেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়ে প্রচারণা চালায়। এই ঘোষণায় শামীম আহমদ মুরাদের সমর্থকসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। ফলে দুই পক্ষই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ধর্মপাশায় কর্মসূচি চালাতে না পারলেও সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের অনুসারীরা নির্বাচনী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি চালিয়ে সংসদ সদস্যের পক্ষে কথা বলছে।
এদিকে, প্রতিদিনই সংসদ সদস্যের পক্ষে তার সমর্থক ও তার আহ্বানে অন্যান্য দল থেকে আসা নব্য নেতাকর্মীরা মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের পক্ষ নিয়ে শামীম আহমদ মুরাদসহ রতন বিরোধী নেতাদের সমালোচনা করছেন বলে অভিযোগ জানান অনেক নেতারা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ গত ৭ই অক্টোবর ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের লোকজন তাকে হুমকি-ধমকিসহ অপপ্রচার ও নোংরা প্রচার চালিয়ে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ আনেন। এভাবে ধর্মপাশা উপজেলাসহ নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরা এখন বিভক্ত হয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ বলেন, আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে যে বক্তব্য দিয়েছি তা শতভাগ সত্য। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমপি মহোদয়কে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বসে তাদের কথা-বার্তা শোনার অনুরোধ করেছি। কারণ নির্বাচনী এলাকার দলের নেতাকর্মীদের মাঝে যদি ক্ষোভ থাকে সেটা প্রশমিত করা প্রয়োজন। সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম বলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এই উত্তেজনায় পারদ যোগাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগাররা। তারা আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে। আমাদের শান্ত থাকতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর