× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার

ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনায় উত্তপ্ত আলীরগাঁও

বাংলারজমিন

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি | ১১ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৪৭

গোয়াইনঘাটে আলীরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত এবং অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় আলীরগাঁও ইউনিয়নের ১৫ মৌজায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অপহরণ চেষ্টার লোমহর্ষক ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে থানায় মামলা রেকর্ড করতে না দিয়ে আপস মীমাংসায় নিষ্পত্তির জন্য এলাকায় নিয়ে এসে টালবাহানা করছে। বিচারের নামে শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং আক্রান্তরা মুরব্বি এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ৩০শে সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় আলীরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণ্য এ ঘটনা ঘটলেও অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বখাটে ৩ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। সরেজমিন পরিদর্শন এবং থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বারহাল স্ট্যান্ড থেকে নাম্বার বিহীন সিএনজি অটোরিকশায় উঠে ৩ ছাত্রী। এ সময় চালকসহ ৩ বখাটে ওই ৩ ছাত্রীকে অপহরণ করে জৈন্তাপুরের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রীদের চিৎকার চেঁচামেচিতে তাদের নয়াখেল এলাকায় নামিয়ে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় খাস মৌজার নুর উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫), সঞ্জয় কুমার দেব এর ছেলে সৌরভ কুমার দেব (২০) ও মৃত আব্বাস আলীর ছেলে নুর আহমদ (২৫) নামীয় এই ৩ বখাটে ঘটনাটি ঘটায়। পরদিন ১লা অক্টোবর অপহরণের শিকার ৩ ছাত্রী বিদ্যালয়ে হাজির হইয়া প্রধান শিক্ষক মনজুর আহমদ, বিদ্যালয় সভাপতি আবুল হাসনাতকে বিষয়টি অবহিত করলে জড়িত সন্ত্রাসীদের স্কুল কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসে।
এ সময় ইভটিজিংয়ের দায়ে ইতিপূর্বে সাজাপ্রাপ্ত বারহালের মৃত আব্বাসের ছেলে নুর আহমদ সহ ৩ বখাটে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা শিকার করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৩ অক্টোবর বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অপরাপর সদস্যরা বৈঠকে বসেন। এ সময় হঠাৎ করেই খাস মৌজার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের এলাকার কতিপয় লোকজন বিদ্যালয়ে এসে সভাস্থল থেকে ৩ অপহরণকারী বখাটেদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবাদকারী এসব ছাত্র/ছাত্রীসহ প্রতিবাদী মানুষজন। সারীঘাট-গোয়াইনঘাট সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার (তদন্ত) হিল্লোল রায়সহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলে স্থানীয় মুরব্বিদের সহযোগিতায় থানা পুলিশ বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থাসহ জড়িত বখাটেদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ৩রা অক্টোবর প্রধান শিক্ষক মনজুর আহমদ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাতের উপস্থিতিতে অপহরণে শিকার শিক্ষার্থীর বাবা সিদ্দেক আলী বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি অভিযোগ দেন। পরে স্থানীয় মিমাংসার জন্য বিষয়টি নিয়ে যাওয়া হয় এলাকায়। সেই থেকে অদ্যাবধি চলছে বিচারের নামে প্রহসন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর