× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

অবৈধ বালু উত্তোলনে ক্ষতবিক্ষত চুনারুঘাটের প্রকৃতি

বাংলারজমিন

নুরুল আমিন, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে | ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ৮:০৬

ক্ষতবিক্ষত চুনারুঘাট। চা বাগান-পাহাড়, চড়া-নদী ভেঙে গেছে। বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত। জন ও যান চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। সাধারণ যানবাহন জিম্মি হয়ে পড়েছে বালুবাহী ট্রাক-ট্রাক্টরের কাছে। সর্বদলীয় বালুখেকোদের হাতে জিম্মি মানুষ। শিক্ষালয়ের পাশেই দিনরাত চালানো হচ্ছে ট্রাক্টর-ট্রাক। এখানে প্রশাসন অসহায়।
সাধারণ মানুষের কিছু করার কোনো উপায় বা সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর চুনারুঘাট উপজেলা। এখানে রয়েছে ১৮ হাজার একর বনভূমি। রয়েছে ছোট-বড় ২২টি চা বাগান। পাহাড়-বাগানকে ঘিরে রয়েছে ১৩টি পাহাড়ি নদী-চড়া। চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি ও কালেঙ্গা বনকে পশুপাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল ন্যাশনাল পার্ক। সেই পার্ক বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য প্রতিটা রাস্তাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুই অবশিষ্ট নেই। সবই ভেঙে তছনছ হয়েছে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারণে। চা বাগান, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি জমিতে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত, খানাখন্দক। অনেক স্থানে চলাচলের রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে গমনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-পাতি নেতাদের যোগসাজশ ও আইনের ফাঁকফোকরে বালুখেকোরা চুনারুঘাটকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমন মন্তব্যই করছেন পরিবেশবাদী মানুষজন। চুনারুঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রতিটিতেই চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। এ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বিগত ১৫ বছর ধরে। খোয়াই, ইছালিয়া, সুতাং, মুড়িচড়া, করাঙ্গীসহ ১৩টি নদীতে কয়েকশ’ ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলন করা হয় সিলিকা বালু। এসব বালু জন চলাচলের রাস্তার ওপর ডিপো করে রাখা হয়। চুনারুঘাটে এ ধরনের ডিপো রয়েছে দুই থেকে আড়াইশ’টি। প্রতিটা ডিপোতে ১২ থেকে ১৩টি ট্রাক্টর বালু আনা নেয়ায় কাজে নিয়োজিত। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম হচ্ছে কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। গাজীপুর ইউনিয়নের দুধপাতিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাজীপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজ, জারুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জারুলিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, গ্রামীণব্যাংক চত্বরসহ নানা স্থানে রয়েছে বালুর ডিপো। আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ কালিশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ১০টি বালুর ডিপো। দেওরগাছ ইউপির চান্দপুর, রামগঙ্গা, দেওরগাছ, কাচুয়া, আমকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে বালুর ডিপো রয়েছে ২০টি। শানখলা, পাইকপাড়া, মিরাশি, সাটিয়াজুড়ি, রানীগাও ও চুনারুঘাট সদর ইউনিয়নে শতাধিক বালুর ডিপো বিদ্যমান। কাচুয়া, রাজার বাজার, আসামপাড়া, পাকুরিয়া, শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকার ডিপোগুলো বিশালাকার। এখানে ড্রেজার মেশিন ছাড়াও এক্সেভেটর ব্যবহৃত হয় বালু উত্তোলনের কাজে। চুনারুঘাটের বালুর রং সাদাটে হবার কারণে এ বালুর কদর বেশি। সারা দেশের বালু ব্যবসায়ীরা চুনারুঘাটের বালুকেই ব্যবসার প্রধান কাঁচামাল মনে করে থাকে। সে জন্য রাজনৈতিক প্রভাব এখানে বেশি প্রয়োগ করা হয়। রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, বিগত ৩-৪ মাস পূর্বে বিদ্যালয়ের ১৩শ’ শিক্ষার্থী বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিল। পাশের খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক দিয়ে তা ডিপোতে আসতো। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হতো। মানববন্ধন করার পর ১ মাস বন্ধ ছিল বালু উত্তোলন। এখন অবস্থা আগের চেয়ে আরো বেশি ভয়াবহ হয়েছে। বালু ব্যবসায়ীরা মানববন্ধনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে চালাছে তাদের অপকর্ম। এ ধরনের অভিযোগ সারা উপজেলাতেই। গত ৫ই অক্টোবর বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি এলাকায় এসে বালুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পর ১১ই অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন শানখলা ইউনিয়নের পানচড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছে বালু উত্তোলন কাছে ব্যবহৃত কয়েকটি মেশিন জব্দ করেন। রাতের বেলা এ অভিযানটি পরিচালিত হবার কারণে এ নিয়ে রয়েছে নানান কথা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দিনের বেলা অভিযান পরিচালিত হলে, বালু বহনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন পাওয়া যেত, বালু উত্তোলনকারীদেরও পাকড়াও করা যেত। কিন্তু প্রশাসন অভিযানটি পরিচালনা করেছে রাতে রহস্যজনক কারণে। শানখলা ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকার এক শিক্ষক বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর চুনারুঘাটকে বাঁচাতে হলে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। নতুবা চুনারুঘাটকে বাঁচানো যাবে না। চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, চুনারুঘাটে বাল উত্তোলন চিরতরে বন্ধ রাখতে না পারলে চুনারুঘাটের প্রকৃতিকে বাঁচানো যাবে না। বালু লিজপ্রথা এখনই বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর