× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
মুজাহিদের জবানবন্দি

‘আবরার তখন মাগো মাগো বলে চিৎকার করছিলো’

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ৯:৪০

চাঞ্চল্যকর আবরার হত্যাকা-ে নিজের জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ। বেদম মারপিটের একপর্যায়ে আবরার যখন অসুস্থ ওই সময়ে তাকে পিটিয়েছে মুজাহিদ। মোটা রশি দিয়ে আবরারের পিঠে আঘাত করে সে। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মুজাহিদকে ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসির আদালতে হাজির করা হয়। এসময় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মুজাহিদ। একইভাবে রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবরারকে হত্যা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে সে।
সূত্রে জানা গেছে, আদালতে স্বীকারোক্তিতে ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদ জানিয়েছে, শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটানো হচ্ছিলো আবরারকে। ঘটনার সময় ওই কক্ষে উপস্থিত হয় সে। আবরারকে এই কক্ষে ডেকে আনা হবে এটা জানা ছিলো ছাত্রলীগ নেতাদের।
যে কারণে সবাই খোঁজ-খবর নিচ্ছিলো। কেউ কেউ ওই কক্ষে সরাসরি উপস্থিত হয়। মুজাহদি যখন ওই কক্ষে আবরার তখন মেঝেতে পড়েছিলো। রাত প্রায় পৌনে ১১ টার দিকে বুয়েট ছাত্রলীগের উপ সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল আবরারকে মেজে থেকে উঠিয়ে কয়েকটা চড় মারে। এসময় অকথ্য ভাষায় গালিও দেয়। চড় মারে তাবাখখারুলও।
এসময় মোটা রশি হাতে নিয়ে আবরারকে পিটাতে থাকে মুজাহিদ। আবরার তখন বারবার রশি ধরে তাকে না মারার জন্য অনুনয় করেছিলেন। চিৎকার করতে করতে বলেছিলেন, ‘আর না ভাই, আর না.. আমি আর পারছি না।’ একপর্যায়ে মুজাহিদকে সরিয়ে দিয়ে স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে পিঠে, পায়ে পিটাতে থাকে ইফতি। আবরার তখন ‘মাগো মাগো’ বলে চিৎকার করছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই ২০১১ নম্বর কক্ষে ঢুকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু। কক্ষে ঢুকেই স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে সবাইকে সরিয়ে দেয় অনিক। তারপর বেদম পেটাতে থাকে। আবরারের চিৎকার তখন বেড়ে যায়। বারবার পায়ে পড়ে তাকে আর না মারতে বলেছিলেন। আবরার বলেছিলেন, ‘এভাবে মারবেন না, আমি বাঁচবনা ভাই, ভাই..।’ কিন্তু আবরারের আর্তনাদে সাড়া না দিয়েই তাকে পিটাতে থাকে অনিক। রাত ১২টা পর্যন্ত এভাবেই পিটানো হয় আবরারকে।
৬ই জুন আবরার হত্যাকা-ের পরপরই ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুজাহিদসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলো সে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এর আগে বুয়েট ছাত্র ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও অনিক সরকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত ৬ই অক্টোবর রাতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের পিতা বরকতুৃল্লাহ বাদি হয়ে ১৯ জনের নামে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। আবরার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত কয়েক দিনে মোট ১৯ জন গ্রেপ্তার করেছে এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
শওকত আলী
১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ১০:১৯

শহীদের প্রাণ চির অম্লান, চির অনিঃশেষ।

Najrul islam
১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ৭:৫৩

হত্তাকারীদের কথা থেকে বুঝা যায় যে আবরার তাদেরকে বারবারঅনেক অনুরোধ করেছিল না মারতে. অসুস্থ হলে গোছল করিয়েছে, মলম দিয়েছে যাতে সুস্থ হলে আরো মারতে পারে, তিনবার বমি করলেও তারা মারা বন্ধকরেনি কারন উপরের নির্দেশদাতাদের খুসি করতে বাধ্ধ তাতে দেখাযায় হত্তাকারীরা কেউ দয়া দেখায়নি,অনুশোচনাও ছিল না,আবরারের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আঘাত করে যাওয়াই তাদের দায়িত্ব ও লক্ষ ছিল . তবে শিক্ষনিয় যে হত্তাকারি রেহাই পায় না.

সোহেল
১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ৬:২৫

এই সব জানোয়ার শিক্ষিত হয়ে, ইঞ্জিনিয়ার হলে আরো মহা বিপদ হবে, সমাজে সে যেই খানেই যাবে সেখানেই সাধারন মানুষদের সাথে জানোয়ারের মত আচরন করবে। তখন শুধুমাত্র আবরার ফাহিম নয়, হাজারো আবরার ফাহিম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই সব জানোয়ার দের বিচার নিশ্চিত করা আমার আপনার সকলের ই অনেক বড় দায়িত্ব। নুন্যতম বিবেচনাবোধ না থাকলেই এই সব করা সম্বব। সবাই ভাল থাকুন।

ahammad
১৩ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার, ১২:৪২

এরা মনুষ রুপি জানোয়ার, মনুষ নামের কলঙ্ক,ছাএ নামের কলঙ্ক। এই ধরনের জানোয়ার দেরকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করা উচিৎ। যাতে করে আগামি দিনে আর কোন মায়ের বুক খালি নাহয়।

অন্যান্য খবর