× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার

মাহিমের চোখের সামনেই মাকে কেড়ে নিল ঘাতক ভ্যান

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ৯:৪৫

রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মাসুদা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে জিসান ইসলাম মাহিম (৯) আহত হয়েছে। গতকাল সকাল ৭টার দিকে কাকরাইল রাজমনি সিনেমা হলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। মা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান পথচারীরা। সেখানে মাসুদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত মাহিম গুরুতর আহত হওয়ায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। নিহত মাসুদা বেগমের স্বামী মোফাজ্জল হাওলাদার বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল। আমার গাড়ির ব্যবসা আছে।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মগবাজারের মধুবাগে থাকি। দুই ছেলের মধ্যে মাহিম সবার ছোট। বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। কয়েকদিন আগে আমার স্ত্রী ও ছেলে বরিশালের মুলাদী বেড়াতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে ঢাকায় তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়। রমনা থানা পুলিশ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সিসি ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এটি এসএ পরিবহনের গাড়ি ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা বিক্রেতাও একই কথা বলেছে। তারা সদরঘাট থেকে রিকশায় করে মগবাজারের মধুবাগ ফিরছিল। শনিবার রাতে ফোনে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। তাদের লঞ্চঘাট আনতে যেতে হবে কি না জানতে চাইলে, মাসুদা জানায়, আমরা দুজনেই আসতে পারবো। কিভাবে কি হয়ে গেল কিছুই জানি না। ঘটনার পরে একজন পেপার বিক্রেতা আমাকে ফোন দিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে জানায়। এসময় আমি আমার স্ত্রীর ফোনে ফোন দিতে থাকি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে এসে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে থাকা ছোট ছেলেটির ডান হাত ভেঙ্গে গেছে। পায়ে এবং পেটে গুরুত্বর জখম হয়েছে। পেটের চামড়া উঠে গেছে। পায়ে অনেকগুলো সেলাই লেগেছে। ভাঙ্গা হাতের অবস্থা ভালো না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ভাঙ্গা হাতে অপারেশন করতে হতে পারে। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হওয়ায় ইতোমধ্যে তাকে রক্ত দেয়া হয়েছে।
আহত মাহিমের চাচাতো বোন নাজনীন বলেন, সকাল থেকে ব্যাথায় চিৎকার করছে মাহিম। এখন একটু পরপর তার মা’কে খুঁজছে। বারবার বলছে, আম্মু কোথায়। আম্মুর কাছে যাবো। সে এখনো জানে না যে তার মা আর বেঁচে নেই। ইতোমধ্যে তার মায়ের মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মৃত মাসুদা বেগমের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামে। মগবাজার মধুবাগ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। সকালে ছেলেকে নিয়ে বরিশাল থেকে লঞ্চ করে ঢাকার সদরঘাট নামেন মাসুদা। সেখান থেকে রিকশায় করে মধুবাগের বাসায় যাওয়ার সময় কাকরাইলের রাজমনি ক্রসিংয়ের সামনে দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাদের বহনকারী রিকশাকে ধাক্কা দেয়। কাভার্ডভ্যান মাসুদাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। এসময় কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে চালক পালিয়ে যায়।
 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর