× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার

চট্টগ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগ নেতা নিহত

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ১০:০২

চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পাশে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ খোরশেদ আলম (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খোরশেদ আলম পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর সহকারি পরিচালক (মিডিয়া উইং) মাশকুর রহমান।

তিনি বলেন, খোরশেদ আলম আগ্রাবাদ এলাকায় যুবলীগ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতেন। তার বিরুদ্ধে আলোচিত মান্নান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরওয়ানা থাকলেও পুলিশের হাত থেকে বারবার পালিয়েছেন তিনি। একাধিকবার কারাগারে গেলেও জামিনে বেরিয়ে এনে আবরও অপরাধে জড়িয়েছেন।
 
এই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গেলে র‌্যাবের টহল দল দেখে খোরশেদ ও তার অনুসারীরা গুলি ছোঁড়ে। এ সময় র‌্যাবের টহল দলের সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোঁড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খোরশেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ১৮ই আগস্ট নগরীর আগ্রাবাদের বিভিন্ন শিপিংহাউজ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের ওপর উল্টো হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান খোরশেদ। আগেও দু’বার পালান তিনি।

সদরঘাট থানার ওসি ফজলুর রহমান ফারুকী জানান, খোরশেদ আলম পেশাদার সন্ত্রাসী। নগরীর কোতোয়ালী, সদরঘাট ও ডবলমুরিং থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ অস্ত্র ও মাদকের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। অথচ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছিল না।

ওসি জানান, নগর যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় খোরশেদ ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই করছেন এমন অভিযোগ করেন এলাকার লোকজনেরা। খোরশেদ প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলেও এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করতো না।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, খোরশেদ আলম আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, শেখ মুজিব রোড, চৌমুহনী পাঠানটুলি রোড, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, কমার্স কলেজ রোড কাটা বটগাছ, জমির উদ্দিন লেন, মোগলটুলি বাজার, বার কোয়ার্টার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতেন।
তবে ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের কথা জেনেছি। তবে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।

সূত্রমতে, ২০১৪ সালের ৩০শে জুন রাত ১টার দিকে আরেক পেশাদার সন্ত্রাসী গোলাম সরওয়ার প্রকাশ হামকা মিলনসহ ১০-১৫ সহযোগী নিয়ে মনির হোসেন মান্নান নামে এক ব্যক্তির হাত বিচ্ছিন্ন করে কুপিয়ে হত্যা করে ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহটি সড়কের পাশে ফেলে দেয় খোরশেদ আলম। মান্নান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় খোরশেদকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল পাওয়া যায়। এ হত্যা মামলায় বেশ কিছুদিন কারাভোগও করেছেন খোরশেদ। এ মামলায় আবারও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হয়।

নগর যুবলীগের নেতারা জানান, নগরীর পাঠানটুলী ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের অনুসারী ছিলেন। সম্প্রতি কাদেরের সঙ্গে দূরত্ব হয় খোরশেদের। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, খোরশেদ ওয়ার্ড যুবলীগের সঙ্গে ছিল। পদের বিষয়টি আমি নিশ্চিত নয়। তবে আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার, যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
১৩ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার, ১১:২৭

বাংলাদেশের সব অপরাধপ্রবণ বা অপরাধেচ্ছু ব্যক্তি অতিচতুর। তারা রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে অপরাধ ঢাকতে চায়। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। সরকার পরিবর্তন হলে তারাও দল বদল করে ফেলে। রাজনৈতিক দল গুলি সমর্থক বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় সদস্য গ্রহণে কারও অতীত প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে যখন সদস্য সংগ্রহ করে তারা সেই সুযোগে রাজনৈতিক দল বা অঙ্গ সংগঠন বা সহযোগী সংগঠনের সদস্য হয়ে পড়ে অপরাধ চালাতে থাকে। এই সুযোগ নিয়ে তারা অনেক সময় অপরাধ করেও মুক্তিও পেয়েছে। নিদেনপক্ষে যদি অপরাধ করে আইন প্রয়োগকারিদের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মারাও যায় তথাপি তারা রাজনৈতিক দলের গায়ে দুর্নামের কালি লেপন করে রাজনৈতিক দলের তকমা নিয়ে মরে। সব রাজনৈতিক দলের উচিত অতীত প্রেক্ষাপট তদন্ত করে অথবা পুলিসের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সদস্যদের অতীত বা বর্তমান যাচাই করে সদস্য পদ নবায়ন করা। এতেই শুদ্ধি হবে দলের।

অন্যান্য খবর