× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার

আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে কালাডুমুর নদ

বাংলারজমিন

মোক্তার হোসেন, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) থেকে | ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৭:৫২

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কালাডুমুর নদের উৎসমুখে বাজারের আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। নদটির উৎসমুখটি ভরাট হয়ে গেলে বৃষ্টির পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মাঠের বিভিন্ন ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাবে। নদে আর নদসংলগ্ন খালে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। পলি মাটির অভাবে মাঠের জমি উর্বরতা শক্তি কমে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা। জানা গেছে, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী পুকুর বা অন্য কোনো ধরনের জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান ভূঁইয়া, মেরাজ আহমেদ, মো. সিয়াম, হৃদয় খান ও মাছুম মিয়া বলে, নদের উৎসমুখে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।
ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে তাদের নাক চেপে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাশেম বলেন, নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির লোক রাতের আঁধারে গৌরীপুর বাজারের সব ময়লা-আবর্জনা কালাডুমুর নদের উৎসমুখ এবং সংলগ্ন খালে ফেলছেন। ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মাস্টার বলেন বৃহত্তর গৌরীপুর বাজারের ময়লা-আবর্জনা বিদ্যালয়সংলগ্ন কালাডুমুর নদীর উৎসমুখে ফেলায় দূষিত বায়ুতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আক্রান্ত হচ্ছে। অতিসত্বর এর প্রতিকার করা না হলে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হবেন। উৎসমুখে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার লক্ষ্যে গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আল-আমিন সাহেব ভেকুর সাহায্যে ময়লা-আবর্জনা নদের উৎসমুখ থেকে পরিষ্কার করেন। এরপর থেকে বাজারের ময়লা-আবর্জনা আবার ফেলা হচ্ছে।
 গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাজি আবুল হাশেম সরকার বলেন, এলাকার কয়েকটি মাঠের ফসল রক্ষার্থে কালাডুমুর নদ থেকে মাইথারকান্দি হয়ে ইছাপুর পর্যন্ত খালটি খননের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করেছি। এদিকে উপজেলার আদমপুর গ্রামের কাছে কালাডুমুর নদ পুনঃখননের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা আসছে।
এই ব্যাপারে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান বলেন, নদের উৎসমুখে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে এলাকার জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল, গণমাধ্যমকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর