× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার

‘পরিবেশ নেই তাই জাতীয় ক্রিকেট লীগ ছেড়েছি’

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৪৩

ওয়াহেদুল গনি, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রবীণ কোচ। তার হাত ধরেই তারকা বনেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এখনো তিনি ক্রিকেট গড়ার কারিগর হিসেবেই পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একজন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) ঢাকা বিভাগের প্রধান কোচ ছিলেন। কিন্তু গেল বছর এনসিএল শুরুর আগেই হঠাৎ সরে দাঁড়ান ওয়াহেদুল গনি। এবার ২১তম এনসিএলেও নেই তিনি। কেন এভাবে সরে গেলেন? গতকল দৈনিক মানবজমিন-এর মুখোমুখি হয়ে জানালেন তার সরে দাঁড়ানোর কারণ।
তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা হচ্ছে, জাতীয় ক্রিকেট লীগে নিজের মতো করে কাজ করা যায় না। বিভাগ তাদের ক্রিকেটার দিতে চায়, নির্বাচকদেরও নিজস্ব চিন্তা থাকে। কিন্তু একটি দল তৈরি করতে গেলে কোচের মতামত লাগে। সেখানে এ স্বাধীনতা কোচদের অনেকটাই থাকে না। কোচ যদি কোনো প্লেয়ারকে চায়, দেখা যায় বিভাগ তাকে চায় না। এক কথায় নিজের মতো করে কাজ করার পরিবেশ পাই না। গত কয়েক বছর ধরেই এমন হচ্ছে। এ কারণেই এনসিএলে কোচিং করাচ্ছি না আমি।’
ওয়াহেদুল গনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এটি অনেকবারই হয়েছে। আমি একজন উইকেটকিপারকে দলে নিতেই চাইনি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে তার চেয়ে অনেক ভালো উইকেটকিপার দলে আছে। কিন্তু তারা (বিভাগের কর্মকর্তা) আমার কথা একেবারেই শোনেনি। আমি তাই সরে দাঁড়াই। ওরা তখন সেই ছেলেকে পাঁচটি ম্যাচই খেলায়। এমন বিভাগীয় চাপের ঘটনা প্রায় প্রতিটি দলেই আছে।’ জাতীয় লীগ পরিচালিত হয় বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির নিয়ন্ত্রণে। বিসিবি এমন ঘটনা সম্পর্কে কী আবগত নয়? ওয়াহেদুল গনি বলেন, ‘বিসিবি খুব ভালো করেই জানে বিষয়গুলো আমিই জানিয়েছি। কিন্তু বিভাগগুলো তাদের ইচ্ছামতোই চলতে চায়।’
দেশের প্রথম শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ চারদিনের লীগে এবার তরুণ আর নতুন কোচদের সংখ্যাই বেশি। তিন বছর ধরে ঢাকা মেট্রোর প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন ৩৫ বছর বয়সী তালহা জুবায়ের। এবার চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান কোচ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ। তার সহকারী হিসেবে আছেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার ডলার মাহমুদ। সাবেক আরেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ দায়িত্ব নিয়েছেন নিজ বিভাগ সিলেটের। পুরনো ও অভিজ্ঞ কোচ বলতে আছেন খুলনায় কাজী এমদাদুল বাশার রিপন ও রাজশাহীতে আবদুল করিম জুয়েল। নতুন ও তরুণ কোচদের জাতীয় লীগে আগমন কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াহেদুল গনি বলেন, ‘তালহা তো বিসিবির কোচ, গত তিন বছর ধরেই ও আছে। আফতাবও ক্লাব ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন থেকেই কোচিং করাচ্ছে। এর মধ্যে রাজিন সালেহ একেবারেই নতুন। এটা ভালো যে তরুণ কোচরা আসছে, দায়িত্ব নিচ্ছে। তাদের কাছে নতুন কিছু আশা করি। তবে আমার পরামর্শ হলো বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের আরো কাজ করা উচিত। আমার মনে হয় জুনিয়র লেভেলে বেশ কিছুদিন কাজ করেই তাদের আসা উচিত ছিল। ওদের অভিজ্ঞতার জন্য ভালো হতো। তবে আমার শুভকামনা থাকবে।’
টেস্ট হারলেই চারদিনের ম্যাচ নিয়ে নড়েচড়ে বসে সবাই। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সব এলোমলো। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন কাজ করা ওয়াহেদুল গনি মনে করেন এটাই বড় সমস্যা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে মান বাড়েনি এই কারণেই। টেস্টে হারলে চার দিনের ক্রিকেট নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। সত্যিটা হলো আমাদের চারদিনের ঘরোয়া ক্রিকেটের মানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক টেস্টের তুলনা করা সম্ভব হয় না। আমরা কিন্তু এখানে যারা ভালো করে তাদের জাতীয় দলে নিয়ে নিচ্ছি। তারা কিন্তু সেখানে গিয়ে পারফর্ম করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের চার দিনের ক্রিকেটের মান বাড়াতে হবে। আরো প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এবার যেমন সবাই নড়েচড়ে বসে গুরুত্ব দিয়েছে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর