× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার , ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ শওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত তৃষার

এক্সক্লুসিভ

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার

স্বপ্নের মেডিকেলে চান্স পেয়েও হতাশায় পড়েছে তৃষা। নিজের ভেতরে পুষে রাখা স্বপ্ন পূরণের একধাপ অতিক্রম করেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর মজিবর রহমান ও মা কুরসি বেগমের কনিষ্ঠ মেয়ে তৃষা। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃষা সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত মেধাবী। পরিবারের প্রচণ্ড অভাব-অনটনের মধ্যে অন্য চার ভাইবোন লেখাপড়াতে তেমন এগুতে না পারলেও নিজের অদম্য ইচ্ছায় তৃষা পড়াশোনা চালিয়ে যায়। হতদরিদ্র কৃষক বাবা তৃষাকে পড়াশোনার জন্য তেমন সুযোগ-সুবিধা দিতে পারেননি। এমনকি অভাবের কারণে স্কুল জীবনে একাধিকবার তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু এতে কখনো ভেঙে পড়েনি তৃষা।
শিক্ষক ও নিকট আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যায় সে। তৃষা মেধাবী বলে অনেকেই তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করে।

এভাবেই প্রচণ্ড দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করে চলতি শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তৃষা।
তৃষার মা কুরসি বেগম জানান, তাদের তিন কন্যার মধ্যে দুই কন্যাকে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতেই বিয়ে দিয়ে দেন। এমনকি অর্থের অভাবে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোলেই দুই ছেলেকেও কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা। পরিবারের জন্য দু-মুঠো অন্ন ও বস্ত্রের জোগাড় করতে ব্যস্ত সবাই। এ অবস্থায় তৃষার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

তিনি আরো জানান, ছোটবেলা থেকে তৃষা অত্যন্ত মেধাবী। সে পঞ্চম শ্রেণিতে নিজ গ্রামের স্কুল থেকে ও অষ্টম শ্রেণিতে উপজেলা সদরের মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। পরে একই স্কুল থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পায়। এসএসসি পাস করার পরে দিনমজুর দুই ভাই তাদের উপার্জিত আয় দিয়ে তৃষাকে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করান। সেখান থেকে এ বছর সে এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পায়। তৃষার পড়াশোনার আগ্রহ ও ভালো ফলাফল দেখে স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা পারিশ্রমিক ছাড়াই তাকে প্রাইভেট পড়াতেন। এমনকি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়ও শিক্ষকরা তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন।

তৃষার বাবা বলেন, এসএসসি পাস করার পূর্বে অর্থের অভাবে একাধিকবার তৃষার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তবে তৃষার শিক্ষক ও নিকটাত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। এমনকি তৃষাকে পড়াশোনা করানো নিয়ে প্রতিবেশীরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে তাকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তৃষার আপত্তির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন তৃষার হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ জোগানো নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

এদিকে তৃষার মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে তৃষার পড়াশোনায় সহযোগিতা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।

তৃষার ভবিষ্যৎ ইচ্ছা, চিকিৎসক হওয়ার পরে সে এলাকায় সাধারণ মানুষের সেবা করবে। এছাড়াপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারমতো হতদরিদ্র মেধাবীদের পাশে দাঁড়াবে। এ সময় তিশা মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও পরবর্তীতে পড়াশোনার জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চায়। তাছাড়া তার পড়াশোনার খরচ চালানো পরিবারের পক্ষে অসম্ভব বলে জানায় সে।

পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ভাঙ্গুড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ বদরুল আলম বলেন, তৃষা গ্রামের গর্ব। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে দরিদ্রতাকে জয় করে সে মেধার পরিচয় দিয়েছে। গ্রামবাসী ও সবার উচিত তাকে সহযোগিতা করা।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, তৃষা অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে অসম্ভবকে জয় করেছে। তার প্রতিভাকে মূল্যায়ন করতে সবাই তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। পারিবারিক দরিদ্রতার কথা ভেবে উপজেলা প্রশাসন সরকারিভাবে তৃষাকে পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি জানান।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর