× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার

ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের ইতিকথা

খেলা

| ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার, ৯:০৮

১৯৫৯ সালে ১৮ মদন সাহা লেন মরহুম আলহাজ মাওলা বক্স সরদার সাহেবের বাসায় ইকবাল স্পোর্টিং ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে এলাকার নাম অনুসারে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব নামে তার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬১ সালে বিশ্ব বিখ্যাত ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাতারু প্রয়াত ব্রজেন দাস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন ঢাকা মিউনিসিপ্যালটির চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন চৌধুরী সাহেবকে ১৮ মদন সাহা লেনস্থ ক্লাবের প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক ও নাট্যনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করা হয়। তিনি অনুষ্ঠান দেখে অভিভূত হয়ে লালকুঠিতে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের জন্য একটি ঘর দেয়া হবে মর্মে ঘোষণা করেন। ১৯৬৭ সালে মঈনুদ্দিন সাহেবের উদ্যোগে ও প্রচেষ্টার ফলে লালকুঠিতে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব স্থানান্তরিত হয়।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিভিন্ন সময়ে অত্র ক্লাব ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, হ্যান্ডবল, রাগবী, শরীর চর্চা ও দাবায় সুনামের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। অত্র ক্লাব থেকে দেশের জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন কানন, আমিনুল ও বিপ্লব (গোলরক্ষক হিসেবে); বাতেন, মন্টু, রউফ বাবুল, নজরুল (ডিফেন্ডার হিসেবে); সত্যজিৎ দাস রুপু, মোসাদ্দেক (মিড ফিল্ডার হিসেবে); বাদল দাস, লক্ষী, আরিফ, মনি, কাঞ্চন ও রিতু (ফরোয়ার্ড হিসেবে)।
২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল ক্লাবের বর্তমান ভবনের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকার মেয়র এবং ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মো. হানিফ।
ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ফুটবলে ২০০৯ সালে প্লেট ক্লাপ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। অত্র ক্লাবটি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ক্রীড়াক্ষেত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছে।
বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ২২/০৭/২০১৭ তারিখে বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে গঠিত হয়। উক্ত সভায় হাজী মো. আসলাম সভাপতি এবং মো. আরিফ হোসেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। হাজী মো. আসলাম বাংলাদেশ মটরপার্টস ও টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক। মো. আরিফ হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি। ২০১৫ সালে ৪৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের জুয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ করে দেন। তৎকালীন ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে ক্লাব পরিচালনায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক, সামাজিক সংগঠন এবং এলাকার নেতৃস্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করে ক্লাবকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
২৯শে এপ্রিল ২০১৫ থেকে অদ্যাবধি ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবে সকল প্রকার জুয়া এবং অনিয়ম বন্ধ রয়েছে। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সময়ে ওয়াল্টন ক্লাব অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল টুর্নামেন্টে (২০১৭-২০১৮) রানার্স আপ এবং রাগবি অনূর্ধ্ব-৮ টুর্নামেন্টে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে রানার্স আপ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। বর্তমানে ক্লাব নিয়মিতভাবে ফুটবল, হকি, রাগবি, দাবা, টেবিল টেনিস এবং শরীর চর্চায় সুনামের সাথে অংশগ্রহণ করছে এবং ক্লাবে অবস্থিত শরীর চর্চা কেন্দ্রের জন্য শরীরচর্চার অত্যাধুনিক যন্ত্রাদি যুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রের পাশাপাশি অত্র ক্লাবের সদস্যগণ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। অত্র এলাকার যুব সমাজকে সুস্থ বিনোদনের জন্য টেবিল টেনিস, দাবা ও ক্যারাম বোর্ড নিয়মিতভাবে খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে যে সাড়াশি অভিযান চলেছে তা থেকে এ ক্লাব মুক্ত রয়েছে। অত্র ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেনের নৈতিক ও আদর্শিক দৃঢ়তার কারণে ক্লাবে জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল তা সারা বাংলাদেশে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানগুলোতে দেশবরেণ্য সংগঠক, প্রথিত যশা সাংবাদিকগণ ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের এই নৈতিক দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে বলছেন, সদিচ্ছা থাকলে সৎভাবে ক্লাব পরিচালনা করা যায় তার উদাহরণ হচ্ছে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। অত্র ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন দেশের নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য দেশের ক্লাবগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। তার এই আবেদন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সৎ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দেশবরেণ্য ক্রীড়া সংগঠনকগণ।
লেখক: হাজী মো. আরিফ হোসেন (ছোটন)
সাধারণ সম্পাদক
ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর