× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
পৌর ‘প্রশাসক’ নিয়ে দ্বন্দ্ব

বিশ্বনাথে পংকি খান ও ফারুককে নিয়ে জল্পনা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৯:০১

স্বপ্ন পূর্ণ হলো বিশ্বনাথবাসীর। অবশেষে পৌরসভা হলো বিশ্বনাথ। এই স্বপ্ন অনেক আগে থেকে দেখছিলেন বিশ্বনাথের মানুষ। হচ্ছে- হবে প্রতিশ্রুতির মধ্যে বন্দি ছিল সেই স্বপ্ন। এ খবরে আনন্দিত মানুষ। বিজয় উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রশাসক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে বিশ্বনাথে। ছড়াচ্ছে গুজবের ডালপালাও।
তুমুল আলোচনা আওয়ামী লীগে। প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কে হচ্ছেন প্রশাসক- এই আলোচনা এখন চারদিকে। আওয়ামী লীগের ভেতরে শুরু হয়েছে রীতিমতো মল্লযুদ্ধ। প্রশাসক হতে ইতিমধ্যে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই। বাতাসে ভাসছে অনেকের নাম। তবে, মূল আলোচনায় ৩ জনই। তাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ খান পংকি। বিশ্বনাথের মানুষ তাকে এক নামেই ‘খানসাব’ বলে চেনেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ছয়ফুল হক। এই ৩ জনকে ঘিরেই সব আলোচনা।

আপাত দৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে, দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসক নিয়োগ হলে ৩ জনের মধ্য থেকে যেকোনো একজনই হতে পারেন প্রথম প্রশাসক। এই পদটিও তাদের কাছে স্বপ্ন। ইতিহাসের অংশ। ফলে কেউ কাউকে ছাড় দিতেও রাজি নয়। বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খানকে নিয়েই বিশ্বনাথে জল্পনা বেশি। জনপ্রতিনিধি না হলেও তাকে ঘিরে আবর্তিত হয় বিশ্বনাথের রাজনীতি। সামাজিকতায় তিনি এগিয়ে। তবে আওয়ামী লীগের একাংশ তার ঘোর বিরোধী। তারা কখনোই পংকি খানকে মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত। এক ধারার আশীর্বাদ দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও অপর ধারায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। পংকি খান হচ্ছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী বলয়ের শীর্ষ নেতা। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম যে উপজেলা নির্বাচন হয়েছিল সেখানে পংকি খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আনোয়ারুজ্জামান বলয়ের নেতাদের মতে পংকি খান আওয়ামী লীগে হাইব্রিড। তিনি বিএনপির জমানায় বিশ্বনাথ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফিরে আসেন আওয়ামী লীগে। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। ফলে তাকে তারা কোনোভাবেই মেনে নেননি। তবে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলয়ের নেতাদের মতে, পংকি খান বিএনপির আগেও আওয়ামী লীগ করতেন। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসার পর তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর তিনি ফিরে আসায় বিশ্বনাথের আওয়ামী লীগে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। দক্ষিণ বিশ্বনাথের সন্তান পংকি খান। বাজার লাগোয়া চানশিরকাপন এলাকায় বাড়ি হওয়ায় বিশ্বনাথ শহরকে ঘিরেই তার রাজনীতি ও সমাজনীতি। সামাজিক বিচারে সবখানেই ডাক পড়ে পংকি খানের। অনেকের কাছে নির্ভরতার প্রতীকও।

মানুষের দুর্যোগ-দুর্দিনে তিনি পাশে থাকেন। এ কারণে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের একাংশ ছাড়া সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তবে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুজ্জামান বলয়ের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদও সম্প্রতি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। তিনি ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারের অকাল মৃত্যুর পর তিনি এখন সাধারণ সম্পাদক। এরপরও আওয়ামী লীগের একাংশ তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবেই আখ্যায়িত করেন। ফারুক আহমদের বাড়ি উত্তর বিশ্বনাথের বিশ্বনাথের গাঁও। তিনি জনপ্রতিনিধি না হলেও এলাকায় সালিশ ব্যক্তিত্ব পরিচিত। এ কারণে আওয়ামী লীগের একাংশ ও এলাকার মানুষ তার পক্ষে একাট্টা হচ্ছেন। ফারুক আহমদের পক্ষে বিশ্বনাথের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মজম্মিল আলীসহ ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতারা অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা জানিয়েছেন, প্রশাসক হিসেবে পংকি খান না ফারুক আহমদ হবেন সেটি নির্ধারিত হবে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামানের লবিংয়ের উপর। এখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ কাজে লাগবে না বলে মন্তব্য করেন তারা। এই দুইজনের বাইরে প্রশাসকের তালিকায় রয়েছেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ছয়ফুল হকের নাম।

তিনি বর্তমান চেয়ারম্যানও। সুশীল সমাজসহ ব্যবসায়ীদের কাছে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এদিকে, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলা ‘পৌরসভা’য় উন্নীত হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে বিশ্বনাথ উপজেলাকে ‘পৌরসভা’য় উন্নীত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরীকে বিশ্বনাথবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ পংকি খানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক মকদ্দছ আলীর পরিচালনায় আনন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশিকুর রহমান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান ও সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত আলী জাহান। সভায় বিশ্বনাথ পৌরসভায় উন্নীত হওয়ায় আজ বুধবার বাদ আসর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং সদ্য উন্নীত বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রথম প্রশাসক হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ পংকি খানকে নিযুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি রাখেন নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবদুল মতিন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সাধন চন্দ্র দাশ, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য আকবর আলী, রফিক হাসান মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াসিন আলী, আবদুস ছালাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ও এনআরডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নাজিরুল ইসলাম খান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক কার্যকরী সভাপতি শংকর দাশ শংকু, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ, শ্রমিক লীগ নেতা আছকির আলী, যুবলীগ নেতা নূরশেদ মিয়া, মনোহর হোসেন মুন্না, গিয়াস উদ্দিন, দবির মিয়া, মোহন মিয়া, সাদ নূর, তাহির আলী বাবুল, লিটন মিয়া, সায়েদ আহমদ, সাইদুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বদরুল আলম, উপজেলা বন্ধুবন্ধ শিশু কিশোর মেলার সভাপতি শেখ ফজর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের আহমদ জয়, মাসুদ আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম রুকন, কামরুল ইসলাম, মিয়াদ আহমদ, জাকির হোসেন প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর