× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

ব্যবসায়ীর গরু নিলামে, ইউএনও-এএসআইসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ১২:৩২
অভিযুক্ত এএসআই

বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এক ব্যবসায়ীর ৪০টি গরু জব্দ এবং বেআইনিভাবে নিলাম দেয়ার অভিযোগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ভারপ্রাপ্ত) ও টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ধর্মপাশা উপজেলার বৌলাম গ্রামের গরু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। আদালতের বিচারক শুভদীপ পাল মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন,  তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান, তাহিরপুর থানার টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই আবু মুসা, ধর্মপাশা উপজেলার রনসি গ্রামের আর্শাদ মিয়া, তাহিরপুর উপজেলার রামসিংপুর গ্রামের সেলিম মিয়া ও মনির মিয়া, টাঙ্গুয়া হাওরে কর্মরত আনসার কাজল, তাহিরপুর উপজেলার সুর্যেরগাঁও গ্রামের স্বপন কুমার দাস। মামলায় টাঙ্গুয়া হাওড়ে কর্মরত আনসার ও পুলিশ সদস্যসহ আরও ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী শফিকুল তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী। ২০ বছর ধরে গরু ব্যবসা করে আসছেন। গত ১৫ই অক্টোবর তিনি ধর্মপাশা উপজেলার মহেষখলা বাজার থেকে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ৪০টি গরু ক্রয় করেন। এসব গরু ক্রয়ের নির্ধারিত ফি দিয়েছেন এবং ইজারাদারের রশিদও তার কাছে ছিল। এর মধ্যে ১৯টি তার নিজের নামে এবং ২১টি তার ব্যবসায়ীক অংশীদার একই গ্রামের সাজলের নামে কেনা হয়।
তারপর গরুগুলো স্থানীয় জালালপুর গ্রামের ইসলামের বাড়ি নিয়ে রাখেন।

পরদিন সকালে বড় একটি স্টিলবডি নৌকা ভাড়া করেন।  পরে গরুগুলো নিয়ে গত ১৮ই অক্টোবর নিজের গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নৌকাটি টাঙ্গুয়া হাওড়ের রনসি এলাকায় যাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত আর্শাদ মিয়া ও সেলিম নৌকা থামাতে বলেন। ওই দু’জন নৌকায় ওঠে নিজেদেরকে টাঙ্গুয়ার হাওড় সহব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য বলে পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে গরু ব্যবসায়ীদের তারা বলেন, এসব গরু অবৈধভাবে আনা। এ সময় ব্যবসায়ীরা ক্রয় করার বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরও তারা গরুগুলো না ছেড়ে হাওড়ের দায়িত্বে থাকা আনসার কাজলসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসেন নৌকাতে। তারা নানাভাবে গরু ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।

কিন্তু গরু ব্যবসায়ী শফিকুল টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এসব গরু ভারতীয় বলে জেলে দেয়ার হুমকি দেয়। এরপর তাদের ফোনে ঘটনাস্থলে আসেন টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই আবু মোছাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তারাও নৌকাতে এসে নানাভাবে হুমকি  দেন এবং টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা না দেয়ায় শেষ পর্যন্ত গরুগুলোসহ তাদের নৌকাটি টেকেরঘাট রেস্ট হাউসের পাশে নিয়ে রাখেন। পরে সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান আসেন।

অভিযোগে শফিকুল আরও উল্লেখ করেন, ইউএনও মুনতাসির হাসানের সামনেই তাদের কাছে টাকা চাওয়া হয় এবং নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তারা গরীব মানুষ বলে ছেড়ে দেয়ার জন্য আকুতি জানালেও এএসআই মুছাসহ পুলিশ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে গরুগুলির একটি জব্দ তালিকা করেন। এরপর মুনতাসির হাসান জব্দকৃত গরুগুলো ৭ লাখ টাকা নিলাম দেখিয়ে অভিযুক্ত স্বপন দাসকে দিয়ে দেন। এরপর সেখান থেকে তাদের বিদায় করে দেয়া হয়।

তাহিরপুর উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ৩৯টি গরু মালিক ছাড়া পেয়ে জব্দ তালিকা করা হয়। পরে কাস্টমস বিভাগে পাঠালে তারা গরুগুলো ৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিলামে বিক্রি করে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর