× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

এক কেজি পিয়াজের দামে সাত কেজি চাল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৯:০০

শুধু পিয়াজ নয়, বেড়েছে চাল, ডাল, সবজিসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম। তবুও এক কেজি পিয়াজের দামে পাওয়া যাচ্ছে সাত কেজি চাল, ১২ কেজি ধান। যা নিয়ে মুখর এখন চট্টগ্রাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে চলছে ঝড়।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সুভাষ দত্ত গতকাল সকালে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন-পদুয়া রাজারহাটে এক কেজি পিয়াজ বিক্রয় হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর ১২ কেজি নতুন পাকা ধান বিক্রয় হয়েছে ২৪০ টাকায়।

তিনি লিখেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ধান বিক্রয় হলেও লাগামহীন ঘোড়ার মতো লাফিয়ে লাফিয়ে অনির্ধারিত দামে বিক্রয় হচ্ছে পিয়াজ। বহদ্দারহাটের মাতৃভাণ্ডার চালের আড়তদার সঞ্জয় সাহা বলেন, বাজারে সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে। দেশীয় মোটা চাল ৫০ কেজির বস্তা সর্বনিম্ন ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।
আর এক কেজি পিয়াজ খুচরা বিক্রয় হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকায়। সে হিসেবে এক কেজি পিয়াজের দামে ৭ কেজি চাল বিক্রয় হচ্ছে। গতকাল সকালে চাল কিনতে এসে চালের দাম বাড়ার বিষয়ে এক ক্রেতার আপত্তির জবাবে এ মন্তব্য করেন সঞ্জয় সাহা। ক্রেতারা জানান, শুধু পিয়াজ বা চালের দাম বাড়েনি। ডাল, তেল, আদা, রসুন, তরি-তরকারিসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। চট্টগ্রামের সবক’টি বাজারে চায়না আদা প্রতিকেজি বেড়ে ২০০ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতিলিটার বেড়ে ১০৫-১১০ টাকায়, মসুর ডাল প্রতিকেজি বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতিকেজি বেড়ে ১০০-১২০ টাকা, শিম ১১০-১২০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা,  মুলা ৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, শসা  ৬০ টাকা ও কাঁচামরিচ ১০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শীতকালীন সবজির দাম বেড়েছে বললেও পিয়াজ, আদা, রসুন, তেল, ডালসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর চকবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে একেকজন ব্যবসায়ীকে ৪-৭ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেছে। ফলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা কৌশলে পিয়াজের দাম আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যও বেশি দামে বিক্রয় করছে। কাজীর দেউরি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী হাজী আনোয়ার হোসেন সওদাগর বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, তাই আমাদেরও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জে আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি সোলেমান বাদশা বলেন, আমদানিমূল্য বেড়ে যাওয়ায় পিয়াজ, আদা-রসুনসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। আর পিয়াজ তো এখন বাজারে নেই। আগের যেগুলো ছিল তাই বিক্রি হচ্ছে। ফলে দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপ ৫০ হাজার টন পিয়াজ আমদানির কথা বললেও তা এখনো বাজারে আসেনি। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পিয়াজ গত ৭ই নভেম্বর থেকে খাতুনগঞ্জে তেমন একটা আসেনি। আমদানিকারকরা টেকনাফ থেকে সরাসরি পিয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ৮ই নভেম্বর থেকে পিয়াজ কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বিক্রির কথা বলায় ব্যবসায়ীরা এমনটা করছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার থেকে ৩০ হাজার টন পিয়াজ আমদানি হয়েছিল। যা খরচসহ কেজিপ্রতি ৪২ টাকা কেনা পড়েছে। আর এসব পিয়াজ ব্যবসায়ীরা ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রয় করেছে। এভাবে আমদানিকারকরা ১৫৯ কোটি টাকা, খুচরা পর্যায়ে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। সাধারণ ক্রেতার পকেট থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে এসব টাকা। ফলে জেলা প্রশাসন অতি মুনাফা রোধ করে পিয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা খুচরায় ১০০ টাকা কেজিতে পিয়াজ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। পিয়াজের সঙ্গে তারা সব ভোগ্যপণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে আমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর