× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

এরিখকে নিয়ে বিদিশার অভিযোগ

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, ৮:৪৮

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার পর গত তিন মাসে একবারের জন্যও ছেলে এরিক এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন তার মা বিদিশা সিদ্দিক। সম্প্রতি ছেলে ফোন করে মাকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় আসতে বলেন। ছেলের ফোন পেয়ে খাবার নিয়ে মরিয়া হয়ে বাসায় ছুটে যান বিদিশা। তবে তিনি সেখানে যেতে পারলেও বাইরের কাউকে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিদিশা টেলিফোনে মানবজমিনকে বলেন, ছেলে না খেতে পেয়ে প্রায় ৩০ কেজির মতো ওজন কমে গেছে। অটিস্টিক এরিককে খারাপভাবে রাখা হয়েছে। বাসায় তাকে দেখাশোনা করার মত প্রয়োজনীয় লোক নেই। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এরিককে গোসল করানো হয়নি।
বাসার ফ্রিজে রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ পচা দুধ রাখা ছিল। যেগুলো ছানা হয়ে গেছে। সেগুলোই খেতো এরিক। তাকে সকালে কোনো নাস্তা করতে দেয়া হতো না। দুপুরে একবেলা খাবার খেতে পেতো। সে বিশেষ শিশু। তাকে সঠিক সময়ে পরিমান মতো খাবার এবং ভিটামিন ওষুধ দিতে হয়। সেগুলো এরিক পাচ্ছিল না। এরিক আমাকে ফোন করে বলেছে, মা আমি আর সহ্য করতে পারছি না। তুমি আমাকে বাঁচাও। আমাকে এখান থেকে বের করো। তাড়াতাড়ি আসো। আমার অনেক খিদা পেয়েছে। তুমি আমার জন্য একটু রান্না করা খাবার নিয়ে আসো। তারপর আমি নিজেই চলে এসেছি। ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে। আমি বললাম কি হয়েছে তোমার? তখন বললো, আমাকে চাচা বলেছে তুমি তোমার মার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না। তার সঙ্গে কথা বলতে পারবে না।
বিদিশা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ফোন পেয়ে ছেলের কাছে খাবার নিয়ে আসি। এরপর থেকে আমরা বাসা থেকে আর বের হইনি। এবং বাহির থেকে আমার ব্যক্তিগত সহকারি, ভাই- বোন, আত্মীয় স্বজন কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এরিকের শরীর ভালো না। তাকে একজন ফিজিশিয়ান দেখাতে হবে। কিন্তু বাহির থেকে তো কেউ ভেতরে আসতে পারছে না। কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে বাসার গেটের নিরাপত্তা রক্ষীরা এবং পুলিশ বাধা দেয়। গণমাধ্যমকর্মীদেরকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আমি এবং আমার ছেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমার ছেলের ভেতরে অনেক কথা জমে আছে। কিন্তু আমরা তো কথা বলতে পারছি না। আমার একটাই অনুরোধ, এই নিষ্পাপ ছেলেটিকে নিয়ে যেন কোনো প্রকার রাজনীতি করা না হয়। এরিকের বাবা মারা যাওয়ার পর গণমাধ্যমে দেখেছি সে বাবার জন্য হাউমাউ করে কেঁদেছে। কিন্তু আমি তার কাছে যেতে পারিনি। ছেলেকে যে একটু আদর করবো সে সুযোগটুকুও পাইনি। অনেক কষ্টের পর আমি আমার ছেলের কাছে আসতে পেরেছি। বাকী জীবন ছেলের সঙ্গে থাকতে চাই। আমাদেরকে আর কেউ আলাদা করতে পারবে না। এদিকে বিদিশা এবং ছেলে এরিককে আটকে রাখার অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। গতকাল সকালে বনানীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, সময় মতো সবকিছু জাতির সামনে পরিষ্কার করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর