× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

দুই তরুণ-তরুণীকে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে প্রকাশ্যে মারধর এসআই ক্লোজড

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৫২

নারায়ণগঞ্জে দুই তরুণ-তরুণীর হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে প্রকাশ্যে পেটানোর ঘটনায় সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমানকে ক্লোজ করা হয়েছে। প্রত্যাহারের (ক্লোজ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে শহরের খানপুর ব্যাংক কলোনি এলাকায়। জানা যায়, খানপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ছেলে রফিক ও স্থানীয় এক হিন্দু মেয়ের মধ্যকার প্রেম ছিল। সমপ্রতি তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এবং মেয়েটি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে।
এদিকে রোববার রাতে এলাকার পঞ্চায়েত কমিটি ওই দুই তরুণ-তরুণী ও তাদের পরিবার নিয়ে বসেন। তারা উভয় পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেহেতু তারা বিয়ে করে ফেলেছে এবং মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আর সে তার ইচ্ছাতে ধর্মান্তরিত হয়েছে এখন এটা নিয়ে কি আর করা? তাছাড়া তারা একে অপরকে ভালোবাসে।
এখানে ধর্মটা বাদ সাধতে পারে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পঞ্চায়েতের কথায় উভয় পরিবারই সম্মত হয় এবং তাদের বিয়ে মেনে নেন। কিন্তু এরই মধ্যে সদর মডেল থানার এসআই আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে ৩ জন সাদা পোশাকের কনস্টেবল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা ছেলে-মেয়ে এবং কারা তাদের বিয়ে দিতে চায় তাদেরও খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা বলেন যে, আমরা বিয়ে দেই নাই। ওরাই কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছে। এসময় পুলিশ সদস্যরা মেয়েটিকে টানাহেঁচড়া শুরু করে। এবং বোরকা খুলে ফেলে। এ ছাড়া অভিযুক্ত তরুণকে মারধর করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সদস্যরা ছেলে ও মেয়েকে পেছন থেকে হাতে হাতকড়া লাগিয়ে রাস্তার উপর আবারো মারধর শুরু করে। এসময় রাস্তার উপর ছেলে-মেয়েকে মারতে দেখে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের টেনে-হিঁচড়ে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীকে শান্ত করে আটকে রাখা পুলিশ সদস্যদেরকে উদ্ধার করে।
সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি একটা ভুল বোঝাবুঝির হলেও আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। ওদিকে রাতেই পঞ্চায়েত কমিটি দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর