× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে

ওয়াসার পানি সুপেয় নয়, চার দফা সুপারিশ

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, ১১:৩৩

ওয়াসার পানি সুপেয় নয় বলে মতামত দিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি। নতুন এই প্রতিবেদনেও ওয়াসার পানিতে ক্ষতিকর ই-কোলাই ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হাইকোর্টে আসা বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমান স্বাক্ষরিত ৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞ কমিটি জানায়, ওয়াসার পানি সুপেয় নয়। তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটিতে ছিলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান এবং বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম বদরুজ্জামান।
বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনে সুপেয় পানি নিশ্চিতে ৪ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

১. পানিতে কোনো ধরনের দূষণ বা জীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকা ওয়াসার উচিত পানি সরবরাহ লাইনগুলোর মেরামত করা ও লাইনগুলো আধুনিক করা। এজন্য ঢাকা ওয়াসাকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে

২. ঢাকা শহরে সরবরাহকৃত পানির মান যাচাই ও মনিটরিং করার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন চালু করতে হবে। এছাড়া এ ক্যাম্পেইনের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বছরজুড়ে এ ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে

৩. ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাতে হবে যাতে তারা বাসা-বাড়িতে থাকা পানির ট্যাংকি ও হাউসগুলো পরিস্কার রাখে।

৪. অবৈধ পানির সংযোগ বন্ধ করতে হবে যাতে সুপেয় পানির সরবরাহ নিরাপদ থাকে ও পানি দূষণমুক্ত থাকে।

বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের মতামত তুলে ধরে বলেছেন, ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করলে ওয়াসার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়া কিংবা জীবাণু ঢুকতো না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২৮ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে।
আগামী ৫ ডিসেম্বর এই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক বলেন, আমরা একটি প্রতিবেদন পেয়েছি। আগামী ৫ ডিসেম্বর তা আদালতে দাখিল করা হবে।
গত বছর ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া এক নির্দেশে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি চারটি উৎস (বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূমিস্থ), ১০টি বিতরণ জোন (যা মডস জোন নামে পরিচিত), গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিডিআরবি, বুয়েট ও ঢাবি অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এই পরীক্ষার প্রতিবেদন গত ৭ জুলাই আদালতে দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ৮টি নমুনায় ব্যাকটেরিয়াসহ ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই ক্লোরিনের তথ্য রয়েছে। কিন্তু এই তথ্য অস্বীকার করে ঢাকা ওয়াসা।

এ অবস্থায় ওয়াসা মিরপুর ও পাতলাখান লেনের পানি আবার পরীক্ষা করে গত ৩০ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এই দুটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত জানতে চান আদালত। হাইকোর্টের এই নির্দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি ৭ ও ৩০ জুলাইয়ের প্রতিবেদন দেখে তাদের মতামত দিয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর