× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার

হালুয়াঘাটে প্রতারক চক্রের ফাঁদে কৃষক

বাংলারজমিন

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি | ৫ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৯

আইডি কার্ড জাল, পারমিশন জাল, দাতা জাল, সব কিছুতেই জালিয়াতি। আর এসবের পিছনে রয়েছে হালুয়াঘাট ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের সক্রিয় একটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটটির এ ফাঁদে পড়ে জমি হারাচ্ছেন হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকার বহু কৃষক। মৃত মানুষকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, হালুয়াঘাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক বাবুল সরকারসহ একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় কতিপয় অসহায় গারোদের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া জমির মালিক সাজিয়ে জাল দলিল সৃজন করে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। সীমান্ত এলাকার এ ভূমি জালিয়াত চক্রের ফাঁদে পড়া কৃষকরা জানান, ভোটার আইডিকার্ড, পারমিশন, সই-স্বাক্ষর জাল করে দলিল সৃজন করা এ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে ইতিমধ্যে সহায়-সম্বল হারিয়েছেন বহু কৃষক। এ কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্রামের অসহায় গারো নারীদের।
এদেরই একজন জখমকুড়া গ্রামের আদিবাসী নারী সমনি-মৃ (৩৮)। প্রতারণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমিতো এসব কিছুই জানি না। আমারে কইছে, ঘর দিবো। কইয়া আমার কাছ থেইকা টিপ নিছে। আমারে সিগনেচার দিবার কইছে, আমি দিছি। হেলিম আর বাবুল সরকার আইসা বাড়ি থেইকা নিয়া গেছে। আমি জিগাইছি, কের লাইগ্যা টিপ নিছে। পরে বলছে দরকার আছে।’ তার দাবি, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া দাতা সাজিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করেছে চক্রটি। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার নারায়ণখলা গ্রামের আদিবাসী যুবক আলবার্ড অধিকারী (৩৮) বলেন, ‘মাইনু, দেলোয়ার, হেলিম, বাবুল সরকার উনারা আমার ভোটার আইডি কার্ডের ছবি নিয়া জাল দলিল করছে। আমি তা জানি না। রেজিস্ট্রার অফিসে আমাদের বিশ হাজার টাকা দিছে মাইনু ভাই আর হেলিম ভাই। পরে টিপসই দিতে কইছে, টিপসই দিছি।’ ঝলঝলিয়া গ্রামের অলয় রাকসাম (৩৮) বলেন, ‘আমাদের অজান্তে তারা যে আমার ছবি ইউজ কইরা জাল দলিল করবে এগুলো জানতাম না। আমাদের প্রলোভন দেখিয়ে ছবি নিছে। ছবি নিয়া যে জালিয়াতি করবে তা আমার জানা ছিল না।’ একই গ্রামের তরি দফো (৩০) নামে আরো এক গারো নারী বলেন, ‘আমার কাছে মাইনু আইছে। আইসা বলছে, আইডি কার্ড লাগবো, আর আপনাকে আমার সঙ্গে যাওয়া লাগবো। পরে গেলাম। ছবি তুলতে বললো, তুললাম। তারপর সিগনেচার দেয়া লাগবে, দিলাম। কাগজ দিছে, নাম লিখা লাগবো, লিখলাম। পরে ৫ হাজার টাকা দিছে। সিন্ডিকেটটির কবলে পড়ে জমি হারানো জামগড়ার জসিম উদ্দিন জানান, এই চক্রের ফাঁদে পড়ে তিনি মোট ৩ একর ৮৩ শতাংশ জমি হারিয়েছেন। বানাই চিরিঙ্গিপাড়ার আলতাব উদ্দিন (৬০) বলেন, আমরা রিফুজি কার্ডের জমি ৪০-৫০ বছর ধইরা ভোগ দখল কইরা খাইতাছি। ইদানীং জমি খারিজ করতে গিয়ে দেখি আমার জমি লেইখা নিছেগা মনির সাব আর মনির সাবের পরিবার আর বেন্ডার বাবুল। বাবুল মিয়া মনির সাবের নামে লেইখা দিছে। গারোদের দিয়া কেমনে যে লেইখা নিছে তা জানি না। তিনি জমি হারিয়েছেন ২ একর ৩৪ শতাংশ। একই ভাবে তসলিম জমি হারায় ৯৫ শতাংশ। জামগড়া গ্রামের শামসুল হক (৫৫) বলেন, বাবুল সরকারকে দুইবার সাসপেন্ড করা হইছে ডুপ্লিকেট কাজের লাইগ্যা। ঘুষ দিয়া আবার বহাল হয়। একই গ্রামের শাহআলম (৫২) বলেন, রেকর্ড মালিক যারা ছিল তারা অনেকেই বানাই সমপ্রদায়ের। এরা আজ থেকে ৪০ বছর, কেউ ৫০ বছর আগে মারা গেছে। আবার কেউ ভারত চলে গেছে। অরিজিনাল রেকর্ড মালিকদের নাম ধারণ কইরা এলাকার অবলা, সহজ-সরল গারো যারা আছে তাদের ছবি ব্যবহার কইরা সব মানুষের জমি জাল দলিল সৃজন করে নিয়ে যাচ্ছে এ চক্রটি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ এম সুরুজ মিয়া জানান, দলিল লেখক সমিতির বাবুল সরকার, দেলোয়ার সরকার, হেলিম, খলিলসহ একটি অসাধু চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দীর্ঘদিন যাবৎ জাল দলিল করে আসছে। আর চক্রের মূল হোতা হচ্ছে বাবুল সরকার। তিনি এদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠিন শাস্তির দাবি জানান। জাল জালিয়াত করে টাকার পাহাড় জমিয়েছে বলেও জানান তিনি। হালুয়াঘাট ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, জাল দলিল প্রমাণিত হলে বাবুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে প্রতিশ্রুতিও দেন। এছাড়া ভূমি জালিয়াত কাজটি খুবই জঘন্যতম অপরাধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে বাবুল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। একই ভাবে জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় সৃজনকৃত দলিলের মালিক ঢাকার গুলশান-১, এর শফিউল্লাহ আল মনির ও তার স্ত্রী জাকিয়া তাজিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তার কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বলেন, তারা দেশের বাইরে আছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর