× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার

চীনে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার হচ্ছেন পাকিস্তানি নারীরা, তদন্তে বাঁধা দিচ্ছে সরকার

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৫ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৬:৪৭

বিয়ে করে পাকিস্তানি নারীদের যৌনকর্মের জন্য চীনে পাচার করা হচ্ছে। বছরের প্রথম দিকেই বিষয়টি নজরে এসেছিলো গণমাধ্যমের। তবে এবার ৬২৯ জন পাকিস্তানি নারীকে চীনে পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে পূর্নাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি। পাকিস্তানি তদন্তকারীরা বিষয়টি স¤পর্কে ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে এই তালিকাটি প্রণয়ন করে। এটিই এখন পর্যন্ত চীনে যৌনকর্মী হিসেবে পাকিস্তানি নারী পাচারের সবথেকে শক্ত প্রমাণ।
তথ্যপ্রমানের ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তানি তদন্তকারীরা জুন মাসে কঠিন অভিযান পরিচালনা করতে শুরু করে। তবে দ্রুতই এটি বাঁধার সম্মুখীন হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের মধ্য থেকেই এই বাঁধা আসছে।
সরকারি কর্মকর্তারা ভাবছেন, এই পাচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করলে তা পাকিস্তান ও চীনের স¤পর্কে আঘাত হানবে। এখন পর্যন্ত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আসা সবথেকে বড় অভিযোগটিও ব্যর্থ হয়েছে। অক্টোবর মাসে অভিযুক্ত ৩১ চীনা পাচারকারীকে ফয়সালাবাদ আদালত দায়মুক্তি দেয়। পাচার হওয়া পাকিস্তানি নারীরা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদেরকে গোপনে হুমকি দেয়া হয়েছিলো। আবার কেউ কেউ সুযোগ পেয়ে ঘুষের বিনিময়ে সাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। দুই জন সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছিলেন তাও আবার পরিচয় না প্রকাশের শর্তে।
অপরদিকে পাকিস্তান সরকার এই পাচার তদন্তে যারা কাজ করছিলেন সেইসব এফআইএ কর্মকর্তার ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। একইসঙ্গে যেসব অধিকারকর্মীরা চীন থেকে পাকিস্তানি নারীদের ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে তাদেরকেও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সালিম ইকবাল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নারী পাচার নিয়ে তদন্ত করায় সংশ্লিষ্ট এফআইএ এজেন্টদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আবার আমরা যখন শাসক দলের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে চাই তারা তখন কোনো মনোযোগই দিতে চাননা। এ বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো ধরণের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই জানিয়েছেন যে, তদন্ত কার্যক্রম দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা হতাশ হয়ে পরছেন। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের মুখও চেপে ধরা হয়েছে। কেউই প্রশাসনের ক্রোধের মুখে পড়তে চায় না। আরেক কর্মকর্তা বলেন, কেউই এই অসহায় নারীদের জন্য কিছু করতে চাননা। পুরো প্রক্রিয়াটি চলছে। পাচার আরো বাড়ছে। কারণ এ বিষয়ে তদন্তে নিষেধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানায়, এমন কোনো বিষয় স¤পর্কে তারা অবগত নন।
এ বছরের প্রথম দিকে এপির এক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো চীনে পাচার হওয়া পাকিস্তানি নারীদের দুর্দশার কথা উঠে আসে। বিয়ের নাম করে পাকিস্তানি নারীদের চীনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে স্থানীয় কিছু পাচারকারীও। চীনে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে আটকে রাখা হয় এবং জোরপূর্বক তাকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এপি সেখান থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে।
তদন্তে এমন ৬২৯জন পাকিস্তানি নারীর পাচারের কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে। ওইসব নারীদের তাদের পরিবারই বিক্রি করে দিয়েছে বলে এক কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন। চীনা ক্রেতারা পাকিস্তানি দালালদের একেকজন নারীর জন্য ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি রূপি দিয়ে থাকে। তবে দালালরা তাদের পরিবারকে দেয় মাত্র ২ লাখ রূপি।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, পাকিস্তানের ইমরান খানের প্রশাসন বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চাইছে কারণ অর্থনৈতিকভাবে দেশটি চীনের ওপর নির্ভরশীল। গত কয়েক দশক ধরে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে রয়েছে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সুস¤পর্ক। চীন অনেকদিন থেকেই ইসলামাবাদকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। এরমধ্যে রয়েছে পরমাণু বোমা বহনকারী ক্ষেপনাস্ত্রও। এছাড়া চীন থেকে বড় ধরণের আর্থিক সাহায্যও আসে পাকিস্তানে। দেশটির অর্থনীতি অনেকটাই এই সাহায্য নির্ভর। পাকিস্তানে রয়েছে চীনের বড় বিনিয়োগও। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পে ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে চীন। আর নারী পাচার নিয়ে পাক সরকারের এই উদাসীনতার জন্য সংশ্লিষ্টরা এই অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কথাই বলছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর