× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার

রামগতির মেয়র ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ

এক্সক্লুসিভ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৮:২৪

লক্ষ্মীপুরে রামগতি পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু ও সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি ট্রেডার্সের মালিক আবদুল ওয়ারেছ ও অপর ঠিকাদার সাইদ পারভেজ। গত ২৪শে নভেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন এ দুই ঠিকাদার। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামগতি পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২৯শে মে ই-জিপিতে ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি টাকার প্রকল্পের দরপত্রের আহবান করা হয়। যথা নিয়মে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স বাপ্পী ট্রেডার্স বিবেচিত হয়ে প্রকল্প পরিচালক বরাবর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু তা না করে অজ্ঞাত কারণে পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু ও সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী এবং কার্যসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজাহানের যোগসাজসে ১৫ই সেপ্টেম্বর ওই ১২টি প্যাকেজের কাজ পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপরও পুনরায় ই-জিপি পদ্ধতিতে ৫% কমদরে দরপত্র অংশ গ্রহণ করে বাপ্পী ট্রেডার্স। ওই দরপত্র মূল্যায়নকালে বাপ্পী ট্রেডার্সের দরপত্রটি বাতিল করে তাদের পছন্দের ঠিকাদার (এস পার সিডিউল রেট) কাজ দেয়ার সুপারিশ করে প্রকল্প পরিচালকের কাছে অনুমোদনের জন্য পুনরায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর বাপ্পী ট্রেডার্সের মালিক আবদুল ওয়ারেছ বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানালে প্রকল্পটি পুনরায় দরপত্র আহবানের জন্য রামগতি পৌরসভা ফেরত পাঠায়।
অভিযোগ রয়েছে, মেয়র, সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজশে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে কাজ দিতে বারবার দরপত্র আহবান করেন। এছাড়া পূর্বের দরপত্রের পে-অর্ডার অবমুক্ত না করে ৫ই নভেম্বর তৃতীয় বারের মতো আবারও ওই কাজের দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর ঠিকাদারগণের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। এদিকে একাধিক ঠিকাদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, রামগতি পৌরসভার তালিকাভুক্ত ঠিকাদার রয়েছে ৩২ জন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ নিজেদের লোকজনদের কাজ পাইয়ে দিতে বারবার একই ঠিকাদারের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের দরপত্রে অংশগ্রহণ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা। এছাড়া পৌরসভায় কোন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সচিব না থাকায় রায়পুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী ৫ ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে এ পৌরসভায়। ফলে তার একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়। এতে করে মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু, সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী ও কার্যসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজাহানের যোগসাজশে পৌরসভার বিভিন্ন অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম করে আসছে। বাপ্পী ট্রেডার্সের মালিক আবদুল ওয়ারেছ বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও রামগতি পৌরসভার প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন। প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পেলেও তা বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহবান করেন পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু। এছাড়া পূর্বের দরপত্রের পে-অর্ডার অবমুক্ত না করে ৫ই নভেম্বর তৃতীয় বারের মতো আবারও উক্ত কাজের দরপত্র আহবান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। কৌশলে আমার প্রতিষ্ঠানকে দূরে রাখার জন্য লাইসেন্স নবায়ন করছে না। বাধ্য হয়ে ব্যাংক পে-অর্ডার করে নবায়ন ফি পরিশোধ করি। বর্তমানে তাদের হুমকি-ধামকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, বাপ্পী ট্রেডার্সের লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় দরপত্র বাতিল করা হয়। এরপর সে লাইসেন্স নবায়ন করেনি। টেন্ডার জালিয়াতির প্রশ্নই উঠে না বলে দাবি করেন এ প্রকৌশলী। রামগতি পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন, বাপ্পী ট্রেডার্সের মালিক আবদুল ওয়ারেছ ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকার কাজ পেয়েছেন। বর্তমানে কেন আমার বিরুদ্ধে অপ্রপচার চালাচ্ছেন তা আমার জানা নেই। কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে আমি জড়িত নই। এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন করার দায়িত্বে শাখা রয়েছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর