× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার

জাতিসংঘের স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে- ড. ইফতেখারুজ্জামান

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৯:৩৩

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো অন্যদের স্বচ্ছতার বিষয়ে কথা বললেও নিজেদেরই স্বচ্ছতার ঘাটতি আছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, জাতিসংঘ আমাদের কাছে নিজেদের স্বচ্ছতা বজায়কারী সংস্থা হিসেবে প্রকাশ করে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এর প্রতিফলন দেখি না। গতকাল রাজধানীর টিআইবি কার্যালয়ে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, আমরা জাতিসংঘের কাছে রোহিঙ্গা বিষয়ে তাদের কর্মসূচির পরিচালনা ব্যয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কর্মসূচি চালাতে তাদের পরিচালনা ব্যয় কত? বহুবার চাওয়ার পর জাতিসংঘ আমাদের জানিয়েছে সর্বনিম্ন ৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এটি তাদের নিজেদের পরিচালনা ব্যয়। কিন্তু তারা নিজেরা কোনও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে না।
সহযোগী সংস্থাগুলো এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। সহযোগী সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় কর্মসূচির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে এখানে এ ব্যয় দুইবার গণনা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের ইতিমধ্যে কমপক্ষে ২ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার সম্ভাবনা কম দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে বরাদ্দ কমে আসছে। তাই সরকারের উচিত পর্যাপ্ত সম্পদ ও সক্ষমতা অর্জনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো। মিয়ানমারের একগুঁয়েমি এবং ভারত, চীন, জাপানের মত শক্তিশালী দেশসমূহের কৌশলগত সমর্থনের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত রাখতে মিয়ানমার অনড়। তাই এটি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়, কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা।
অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শাহনুর রহমান ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিয়া। গবেষণায় দেখা যায়, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় জনবলের ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ১২ জন সিআইসি ও ২২ জন অ্যাসিস্টেন্ট সিআইসিসহ মোট ৩৪ জন কর্মকর্তা দিয়ে প্রায় ১০ লাখ জনগোষ্ঠীর বসবাসরত ৩৪টি ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ক্যাম্পের তদারকি ব্যাহত হয় এবং ক্যাম্প পরিচালনা ও ত্রাণ বণ্টনে ‘মাঝি’দের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
গবেষণায় উঠে আসে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রয়োজনের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ যথাক্রমে ৭৩, ৬৯ ও ৫৫ শতাংশ। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিও’র একাংশের পরিচালন ব্যয় তাদের কর্মসূচির ব্যয়ের তুলনায় বেশি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের ৭টি সংস্থার প্রদত্ত তথ্য (২০১৭-১৯) অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পরিচালনা ব্যয় ইউএন ওম্যান (৩২.৬ শতাংশ) ও সর্বনিম্ন জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (৩ শতাংশ)।
গবেষণায় আরো দেখা যায়, ৩৪টি ক্যাম্পের মধ্যে মাত্র ২টি নিবন্ধিত ক্যাম্পে নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পে কমপক্ষে ৭টি সন্ত্রাসী দলের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। দালাল চক্রের সহায়তায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দেড়-দুই লাখ টাকার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পাচারের অভিযোগ পাওয়া যায়। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল রোহিঙ্গারা স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থ হাসিলেও ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশের কাছ থেকে প্রকল্প সমাপ্তির ছাড়পত্র সংগ্রহে যথাক্রমে প্রকল্প প্রতি নিয়ম-বহির্ভূত ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ও ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির কর্মকর্তাদের একাংশ কর্তৃক নিয়মিত ও বিশেষ ত্রাণের মান ও পরিমাণ যাচাইয়ে ত্রাণের মালবাহী গাড়ি প্রতি নিয়ম-বহির্ভূতভাবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। সিআইসিদের একাংশ এনজিওদের কার্যক্রম তদারকিতে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ ত্রাণের টোকেন প্রাপ্তিতে ‘মাঝি’রা ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে। কারণ স্থানীয় অধিবাসী মোট জনসংখ্যা ৩৪.৮ শাতংশ। আর রোহিঙ্গারা ৬৩.২ শতাংশ। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট চাহিদার ২৫ শতাংশের অতিরিক্ত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধিসহ মাদক পাচার, নারী পাচার, পতিতাবৃত্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, জমি দখলের মতো বিষয়গুলো বাড়ছে। এছাড়াও ৬ হাজার ১৬৪ একর বনভূমি উজাড়, জীববৈচিত্র ধ্বংস, ভূমি ধ্বসের ঝুঁকি, উখিয়া ও টেকনাফে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট তৈরি, হাতির চলাচলের পথ নষ্ট হওয়ার মতো বিষয়গুলোর কারণে কক্সবাজারে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম. আকরাম, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।


 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর