× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার

জহিরের দীর্ঘশ্বাস

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার, কাঠমান্ডু (নেপাল) থেকে | ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৯:৪৩

অ্যাথলেটিক্সে যাদের নিয়ে সম্ভাবনা ছিল তার মধ্যে স্প্রিন্টার জহির রায়হান অন্যতম। দশরথ স্টেডিয়ামের ৪০০ মিটারে ফাইনালের মঞ্চে অন্যরা যখন তৈরি, তখন পাশের ব্লু ক্রস হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিছানায় শুয়ে ট্রাকে নামার আকুতি জানাচ্ছিলেন এই স্প্রিন্টার। পাশের বিছানায় শুয়ে থাকা আবু তালেবও অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। হিটে বাংলাদেশের জহির রায়হান তৃতীয় ও আবু তালেব অষ্টম হয়ে ফাইনালে উন্নীত হয়েও অসুস্থতার কারণে ফাইনালে অংশ নিতে পারেননি। তবে জহির তালেবের মতো হিটে অসুস্থ হয়েও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে অংশ নেন নারী স্প্রিন্টার সাবিহা আল সোহা।
দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে প্রথম হিটে ৪৮.২০ সেকেন্ডে দৌড় শেষে দ্বিতীয় হয়েছিলেন জহির। দ্বিতীয় হিটে ৫০.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে আবু তালেব হয়েছিলেন চতুর্থ। তবে এর পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন দুজন। উচ্চতাজনিত কারণে শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল তাদের।
মাঠের চিকিৎসকরা তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পবন রাওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘জহিরের পালস রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। একজন অ্যাথলেটের যেখানে ৭৮-এর আশেপাশে পালস রেট স্বাভাবিক, সেখানে জহিরেরটা একশ’র বেশি। যদি তারা আবার দৌঁড়ায়, পালস রেট আরও অনেক বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় আমরা তাকে ফাইনালে অংশ নেয়ার অনুমতি দিতে পারছি না।’ গত জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে রেকর্ড ৪৬.৮৬ সেকেন্ড টাইমিং করা জহির এসএ গেমসে এবার গিয়েছিলেন বড় প্রত্যাশা নিয়ে। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নিতে না পেরে জহির ও তালেব হতাশ। বিশেষ করে জহির অনেক বেশি আপসেট। তিনি বলেন, ওই ইভেন্টে অংশ নিতে পারলে একটা কিছু অর্জন করতে পারতেন নিশ্চিতভাবেই। ডাক্তার যখন জানিয়ে দিলো জহির এই ইভেন্টে খেলতে পারবেন না, এটা শুনে তিনি অনেক কান্নাকাটি করেন।
নেপালের উচ্চতা ও আবাহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা। প্রায় প্রতিটি ডিসিপ্লিনেই খেলোয়াড়রা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এদের বেশির ভাগেরই শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সুইমিং, অ্যাথলেটিক্সের মতো ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটদের আগেই নেপাল পাঠানো উচিত ছিল বলে মনে করছেন অনেকে। এ বিষয়ে বাংলদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব ও সেফ দ্যা মিশন আসাদুজ্জামান কহিনূর বলেন, আমরা প্রতিটি ডিসিপ্লিনে চিঠি দিয়ে আগে দল পাঠানোর কথা বলেছি। অ্যাথলেটিক্সে বলা হয়েছিল। আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাঁতার ফেডারেশন আগে দল পাঠালেও অ্যাথলেটিক্স সেটা করেনি। এখানে আমাদের কী করার আছে। আগে দল পাঠানোর বিষয়ে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রকিব মন্টু দিয়েছেন হাস্যকর এই যুক্তি। মন্টু বলেন, ‘আগে দল পাঠিয়েও যদি খারাপ করে তাহলে বেশি সমালোচনা হবে। এ কারণেই আমরা আগে দল পাঠাইনি।’  জহির তালেবের অসুস্থতার ব্যাপারে মন্টু বলেন, ‘জহির এবং তালেবেকে ইতোমধ্যেই হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তারা দু’জনে হোটেলের রুমেও চলে গেছে। বিকালে আমাদের ডাক্তার তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেবে। আমরা আশাবাদী জহির ও তালেব আগামীকাল (আজ) চার গুণিতক ৪০০ মিটার এবং শনিবার চার গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে অংশ নিতে পারবে।’ জহির রিলে ইভেন্টে অংশ নিতে পারলেও সেখানে কোনো আশা দেখছেন না তার কোচ আবদুল্লাহ আল কাফী। জহির ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নিতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত এই ইভেন্টে জহির একটি মেডেল জিততো।
বুধবার কারাতের দলগত ইভেন্টে লড়াইয়ের এক পর্যায়ে চোয়ালে আঘাত পান সোনাজয়ী অ্যাথলেট মারজান আক্তার প্রিয়া। চিকিৎসা নেয়ার পর ওইদিন বিকালেই হাসপাতাল ছাড়েন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর