× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার

পিয়াজের ঝাঁঝ কমবে কবে?

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৭:২১

সেপ্টেম্বরের আগেও ছিল পিয়াজের কেজি ৩০-৩৫ টাকা। এর আগে ছিল আরো কম। কিন্তু সেপ্টেম্বরে হঠাৎ বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর থেকে ক্রমেই দাম বেড়ে পিয়াজের কেজি উঠে ২৫০ টাকায়। আর এখন বাজারে ভারতের পিয়াজ নেই বললেই চলে। তবে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্থলপথ ছেড়ে পিয়াজ উঠে বিমানে। আকাশ থেকে নামার পর পিয়াজের দরও নামে কিছুটা। এরমধ্যে মিশর ও চীন থেকে আসা পিয়াজ সর্বনিম্ম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে।
তেজীভাব চলছে মিয়ানমারের পিয়াজে। যা এখনো ২৫০ টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে না। তবে তুরস্ক, পাকিস্তানসহ অন্যন্য দেশ থেকে আনা পিয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার মধ্যে। এই অবস্থায় ব্যবসায়ী থেকে ক্রেতা সবাই উত্তর খুঁজছে কবে স্বাভাবিক হবে পিয়াজের দাম। পিয়াজ থেকে পরিত্রাণ মিলবে কবে?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেপ্টেম্বরের আগের মতো ৩০-৩৫ টাকায় কেজিপ্রতি পিয়াজ বিক্রি করতে হলে দৈনিক ৭ হাজার টনের ওপর সরবরাহ লাগবে। এছাড়া প্রশাসন অভিযান চালাক, কারাদন্ড দিক, বাজার কোনোভাবেই স্বাভাবিক করতে পারবে না। আর ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে পিয়াজ বিক্রি করতে হলে ভারত ছাড়া গতি নেই। মিশর-তুরস্ক কিংবা আরব আমিরাত থেকে জাহাজ বা বিমানে করে পিয়াজ এনে ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রির সুযোগ নেই। ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে যতদিন পর্যন্ত কম খরচে পিয়াজ আমদানি করা যাবে না, ততদিন দাম আগের অবস্থায় ফিরবে না। যা আগামী ফেব্রুয়ারির আগে হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মহারাষ্ট্রে উৎপাদিত নতুন পিয়াজ উঠবে। তখন ভারত রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলেও অন্তত আরো তিন মাস পিয়াজের বাজার নিয়ে কোনো সুখবর পাচ্ছে না ক্রেতারা।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের হামিদউল্লাহ মার্কেটের পিয়াজের আড়তদার মেসার্স বাচা মিয়া ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বাজারে পিয়াজের মূল্য যদি স্থিতিশীল রাখতে হয়, তাহলে দৈনিক ৭ হাজার টন পিয়াজ আসতে হবে। কিন্তু প্রতিদিন তো এক হাজার টন পিয়াজও বাজারে আসছে না। আসছে ৭০০-৮০০ টন। আবার জাহাজে একদিন পিয়াজ আসলে, চার দিন পর আসে আরেক জাহাজ। এভাবে তো বাজার স্বাভাবিক হবে না। তিনি বলেন, পাইকারিতে অন্তত ১০০ টাকার নিচে পিয়াজ বিক্রি নিশ্চিত করতে চাইলে দৈনিক ৩ হাজার টন পেঁয়াজের সরবরাহ প্রয়োজন। প্রতিদিন যদি অন্তত এক থেকে দেড় হাজার টন পিয়াজ বাজারে ঢোকে, তাহলেও ১০০-১২০ টাকার মধ্যে পিয়াজ বিক্রি করা যাবে। তিনি জানান, দেশে বছরে পিয়াজের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। অর্থাৎ মাসে ২ লাখ টন, দিনে যা প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা পিয়াজ মিলিয়ে প্রতিদিন বাজারে সরবরাহ ছিল ৭ হাজার ৮৯০ টন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন আমদানি করা পিয়াজ। কিন্তু গত ২৯শে সেপ্টেম্বর ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশের বাজারে চরম ঘাটতি দেখা দেয়।

আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৯শে সেপ্টেম্বর থেকে গত ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে পিয়াজ আমদানি হয়েছে ৬৮ হাজার টন। এর মধ্যে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৪৩ হাজার টন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১২ হাজার টন পিয়াজ এসেছে। বাকি ১৩ হাজার টন পিয়াজের মধ্যে কিছু বিমানে এবং কিছু ভারত থেকে পুরনো এলসির পণ্য এসেছে। অথচ আমদানি স্বাভাবিক থাকলে এই দুই মাসে দেশের বাজারে পিয়াজ আসতো কমপক্ষে ২ লাখ টন। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, ১লা অক্টোবর থেকে ৩রা ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পিয়াজ আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ১৭৩ টন। এর মধ্যে মিশর থেকে ৫৬২৫ টন, চীন থেকে ৩৫৪৫ টন, মায়ানমার থেকে ১২২৮ টন, তুরস্ক থেকে ১০৬৬ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৬৮ টন এবং পাকিস্তান থেকে ৫১৪ টন পিয়াজ আমদানি হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৪ঠা ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পিয়াজ ছাড় হয়েছে ৩৮৩ টন। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ১১৪ টন এবং মিশর থেকে এসেছে ২৬৯ টন।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, খাতুনগঞ্জে প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০ টন আমদানি করা পিয়াজ ঢুকছে। এরমধ্যে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পিয়াজ কম। তুরস্ক-মিশর-পাকিস্তান ও চীনের পিয়াজ বেশি। মিয়ানমারের পিয়াজ বেশি যাচ্ছে ঢাকার বাজারে।

গত বুধবার খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে মিয়ানমারের পিয়াজ মানভেদে প্রতিকেজি ১৭০-১৮০ টাকা, চীনের হলুদ রঙের বড় পিয়াজ ৬০-৭০ টাকা, একই দেশের লাল রঙের পিয়াজ ৮০-৯৫ টাকা, পাকিস্তান ও মিশরের পিয়াজ ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে চীন ও তুরস্কের পিয়াজ প্রতিকেজি ১২০-১৫০ টাকা ও মিয়ানমারের পিয়াজ ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের হামিদউল্লাহ মার্কেটের আড়তদার মেসার্স সোনালী ট্রেডিংয়ের মালিক মো. আবসার উদ্দিন বলেন, সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতের কিছু পিয়াজ ঢুকছে। এরমধ্যে কিছু পিয়াজ খাতুনগঞ্জে আসছে। ভারত ও মিয়ানমারের পিয়াজের চাহিদা চট্টগ্রামে বেশি। এজন্য দামও বেশি। বাকি যেসব দেশ থেকে পিয়াজ আসছে, সেগুলোর চাহিদা খুব বেশি নেই। বিশেষ করে চীনের পিয়াজের চাহিদা তো নেই বললেই চলে। সেজন্য দামও কম। তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি জেলা থেকে আড়তে আসতে শুরু করেছে দেশে উৎপাদিত পিয়াজ। সংকটের মধ্যে বাড়তি দামে বিক্রির আশায় পুষ্ট হওয়ার আগেই পিয়াজ তুলে বাজারে আনছেন চাষিরা। বিশেষ করে ঈশ্বরদী আর ঢালার চর থেকে তুলে আনা পিয়াজ প্রতিমণ ছয় হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। একেবারে কাঁচা পিয়াজ। এগুলো দ্রুত পচে যাবে। আর একমাস ক্ষেতে রাখলে পিয়াজগুলো পরিপূর্ণ হতো। কিন্তু ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম পাবে না এমন আশঙ্কায় চাষিরা এখনই পিয়াজ তুলে ফেলছেন।

আবসার উদ্দিন বলেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশীয় পিয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। তখন পিয়াজের দর কিছুটা পড়বে। ভারত থেকে এ মূহুর্তে পিয়াজ আমদানির কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ তারা নিজেরাই পিয়াজ আমদানি করছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকের পিয়াজ উঠতে পারে। তখন তাদের রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ছাড়া গতি থাকবে না। কারণ, রপ্তানি করতে না পারলে লাখ লাখ টন পিয়াজ পচে যাবে। ভারত থেকে যদি আমদানি স্বাভাবিক হয়, দামও কমে ৩০-৩৫ টাকায় চলে আসবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর