× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার

চলে গেলেন ক্যামেরার যাদুকর

বিনোদন

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৭:৩৯

চলে গেলেন ক্যামেরার যাদুকর মাহফুজুর রহমান খান। দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত এ চিত্রগ্রাহক ৫ই ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ২৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন( ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন )। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মাহফুজুর রহমান খান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসায় গত ২৫শে নভেম্বর হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৯টা নাগাদ তাকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে নেয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২৫শে নভেম্বর রাতে বাসায় খাবার খাওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তার কাশির সঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মুহূর্তেই তিনি জ্ঞান হারান। স্বজনেরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে ৩০শে নভেম্বর তাকে গ্রীন লাইফ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই ৫ই ডিসেম্বর দিবাগত রাতে না ফেরার দেশে চলে  গেলেন চলচ্চিত্রের এই গুণীজন। মাহফুজুর রহমান খানের স্ত্রী ড. নিরাফাত আলম শিপ্রা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০০১ সালের ২৭শে আগস্ট মারা যান। তখন থেকেই ধীরে ধীরে তার অসুস্থতা বাড়তে থাকে। দাম্পত্য জীবনে তারা নিঃসন্তান ছিলেন। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মাহফুজুর রহমান খান ছিলেন সবার বড়। ১৯৪৯ সালের ১৯শে মে ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মরহুম হাকিম ইরতিজা-উর-রহমান খান ছিলেন ব্যবসায়ী। তার পৈতৃক বাড়ি লালবাগের চকবাজারের হাকিম হাবিবুর রহমান খান সড়কে। এই সড়কের নাম তার দাদা হাকিম হাবিবুর রহমান খানের নামানুসারে করা হয়। তার চাচা ই আর খান (ইরতিফা-উর-রহমান খান) ছিলেন গত শতকের ষাট থেকে আশির দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের একজন খ্যাতনামা পরিচালক ও প্রযোজক। প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক এহতেশাম ও মুস্তাফিজ ছিলেন তার ফুফাতো ভাই।

মাহফুজুর রহমান খান একাধারে একজন সিনেমাটোগ্রাফার, অভিনেতা ও প্রযোজকও ছিলেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘আমার জন্মভূমি’। পরবর্তীতে তিনি ‘একালের নায়ক’, ‘আলোছায়া’সহ আরো বেশকিছু সিনেমাতে অভিনয় করেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্যামেরায় আগ্রহী হন তিনি। বাবার ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে চিত্রগ্রহণে হাতেখড়ি হয় তার। চিত্রগ্রহণ শেখার উদ্দেশ্যে তিনি খ্যাতিমান চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ ছবির সেটে গিয়েছিলেন। এছাড়া প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক রফিকুল বারী চৌধুরী ও আবদুল লতিফ বাচ্চুর কাছ থেকে চিত্রগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় শিখেছেন। তিনি ছিলেন আবদুল লতিফ বাচ্চুর শিষ্য। তার অধীনে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে ১৯৭০ সালে ‘দর্প চূর্ণ’ ও ১৯৭১ সালে ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে তার প্রথম কাজ আবুল বাশার চুন্নু পরিচালিত ‘কাচের স্বর্গ’ (১৯৭২)। একই সময় তিনি আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘জল্লাদের দরবার’ (১৯৭২), আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘আমার জন্মভূমি’ (১৯৭৩), মুস্তাাফিজ পরিচালিত ‘আলোছায়া’ (১৯৭৪), নুর-উল-আলম পরিচালিত ‘চলো ঘর বাঁধি’ (১৯৭৪), দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘দাবি’ (১৯৭৪), সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া পরিচালিত ‘একালের নায়ক’ (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসংখ্য ছবিতে চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন মাহফুজুর রহমান খান। সর্বশেষ তিনি অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘উন্মাদ’ সিনেমার কাজ করছিলেন। গেল ৩রা নভেম্বর তিনি এই সিনেমার সর্বশেষ শুটিং করেন। সম্প্রতি রফিক শিকদারের নতুন সিনেমা ‘বসন্ত বিকেল’র মহরতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এই সিনেমায় চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করার কথা ছিল তার। রাজ্জাক পরিচালিত ‘অভিযান’ (১৯৮৫) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক বিভাগে মাহফুজুর রহমান খান প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পরে আজহারুল ইসলাম খানের ‘সহযাত্রী’ (১৯৮৬), আখতারুজ্জামানের ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (১৯৯৭), হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ (১৯৯৯), ‘দুই দুয়ারী’ (২০০০), ‘আমার আছে জল’ (২০০৮), ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ (২০১২), কোহিনূর আক্তার সুচন্দার ‘হাজার বছর ধরে’ (২০০৫), গোলাম রাব্বানী বিপ্লবের ‘বৃত্তের বাইরে’ (২০০৯), তন্ময় তানসেনের ‘পদ্ম পাতার জল’ (২০১৫) চলচ্চিত্রের জন্য মোট দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি আটবার বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি) পুরস্কার ও ‘হাজার বছর ধরে’ (২০০৫) ছবির জন্য বিশেষ বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার পেয়েছেন। আরো পেয়েছেন এম আবদুস সামাদ স্মৃতি সম্মাননা (২০১৫)। গতকাল বাদ জুমা পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ বিকেল ৩টায় এফডিসিতে নেয়া হয়। ঢাকার আজিমপুর পারিবারিক কবরস্থানে গতকাল সন্ধ্যায় দাফন করা হয় চলচ্চিত্রের এই বরেণ্য চিত্রগ্রাহককে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর