× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার

মোবাইলফোনের একটি কলে ভেঙে যেতে পারে সুন্দর সম্পর্ক

শেষের পাতা

রুদ্র মিজান | ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৯:১৬

ঘটনাটি ভয়াবহ। যা মুহূর্তের মধ্যেই সকল বিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে। একটি বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। নষ্ট হয়ে যেতে পারে একটি সম্পর্ক। পরিবার-সমাজ জীবনে পড়তে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব। মোবাইল ফোনের একটি কলই যথেষ্ট। তবে এতে কলদাতা ও রিসিভকারী কেউই দায়ী নন। এমনটিই জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঝামেলা এড়াতে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা গড়িয়েছে থানা পুলিশ পর্যন্ত। বিস্ময়কর এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা। বিষয়টি তদন্ত করছে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

জানা গেছে, গত সপ্তাহের কোনো একদিন বন্ধুর ছোট ভাইয়ের ফোনে কল দেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। কেউ একজন ফোনটি রিসিভ করে। সঙ্গে সঙ্গে হতভম্ভ হয়ে যান তিনি। শুনতে পান অপর প্রান্ত থেকে একটি নারী কণ্ঠ। ঘন-ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস। বিশেষ মুহূর্তের আবেগপ্রবণ নানা শব্দ। ভুক্তভোগী ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নেটওয়ার্ক পাচ্ছিলো না। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের গ্রামীণফোন নম্বর থেকে টেলিটকের ওই নম্বরে কল দেন। তারপরই এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ওই ফোনটি তার বন্ধুর ছোট ভাই রিসিভ করেননি। অটোমেটিকভাবে ফোনটি রিসিভ হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েন ওই কর্মকর্তা।

৪ঠা নভেম্বর রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে আমেরিকায় নিজের মোবাইলফোন থেকে বন্ধুর ফোনে কল দেন তিনি। একইভাবে দ্রুতই ফোনটি রিসিভ হয়। এসময় নারী কণ্ঠে আপত্তিকর নানা শব্দ শুনতে পান। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন এই কলটি তার বন্ধু রিসিভ করেননি।

একই ধরণের আরও অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ই ডিসেম্বর এরকম ঘটনা ঘটে ধানমন্ডির এক বাসিন্দার ফোন কলের ক্ষেত্রে। তিনি ধানমন্ডি এলাকা থেকে নিজের ব্যবহৃত গ্রামীনফোন নম্বর থেকে একই অপারেটরের মায়ের মোবাইল ফোনে কল দেন। এসময় তিনি আপত্তিকর শব্দ শুনতে পান। এসময় তিনি বিস্মৃত হন। বারবার হ্যালো, হ্যালো করলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো জবাব আসেনি। পরে বাসায় ছুটে গিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। মা জানান তিনি কোনো ফোনই রিসিভ করেননি। এ ঘটনার পর তিনিও বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

একইভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণরত এক ছাত্র জানান,  এ পর্যন্ত দু’বার তিনি এ ধরণের ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে তার এক বান্ধবীকে ভুলও বুঝেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ওই ঘটনার পরই শেষ হয়ে যায়। বান্ধবী অনেক কান্নাকাটি করেও তাকে বুঝাতে পারেননি। ওই ছাত্র জানান, প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে কল দেন। রিসিভ হয়নি। পরবর্তীতে বান্ধবীর ফোনে কল দেন। এবার মুহূর্তের মধ্যেই ফোন রিসিভ হয়। তিনি হ্যালো হ্যালো করছিলেন। অপর প্রান্তের শব্দ শোনে থেমে যান। নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। কী শুনছেন। মনে হচ্ছে ফোন রিসিভ করে তাকে ব্লু ফিল্মের শব্দ শোনানো হচ্ছে। তারপর থেকেই ওই বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তার প্রতি একটা নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেয়।

তার বিশ্বাস ছিলো তার বান্ধবী এরকম না। কিন্তু বিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবের ওই ফোনকলটি মেলাতে গেলেই সব ধারণা এলোমেলো হয়ে যেতো। পরবর্তীতে এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন এরকম ঘটনা আরও ঘটেছে। যা রিসিভকারীরা জানেনই না। তৃতীয় কেউ এটি ঘটাচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে অনেক ভুক্তভোগী বিষয়টি এড়িয়ে যান। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন জানান, প্রতি মিনিটে ৬ টাকা ৬৫ পয়সা করে কেটে নেয়। ভুক্তভোগীরা জানান, এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ারে কথা বলেও কোনো সমাধান পাননি। বিষয়টি সুরাহা না হলে অনেকের ব্যক্তি জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আইন-শৃঙ্খলারও অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করেন তারা। বিষয়টি তদন্ত করছে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা তৃতীয় কোনো পক্ষ  প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মোবাইল ফোনে এটি করছে। এই ধরণের আপত্তিকর শব্দের প্রতি মানুষের কৌতূহল, আকর্ষণ থাকার কারণেই এই শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই শব্দের কারণে তুলনামূলক বেশি সময় ধরে ফোনকলে থাকেন গ্রাহক। এতে তার ফোনের বেশি টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)’র মুখপাত্র জাকির হোসেন খান বলেন, এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে কাজ করার জন্য আমাদের একটি টিম রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর