× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার

বিচারের মুখোমুখি সুচি, রয়টার্সের বিশ্লেষণ

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৯:১৭

রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা লড়তে হেগে যাচ্ছেন দেশটির বেসামরিক অংশের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি। আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাতে মিয়ানমারের পক্ষে লড়া আইনজীবীদের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। শীর্ষ আদালত বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করতে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বিশ্ব আদালত’- নামে পরিচিত আইসিজে। আদালতটি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চেয়ে এর কার্যক্রম আলাদা। যদিও উভয় আদালতই হেগে অবস্থিত।

আইসিজে’র ১৫ বিচারকের প্যানেল ঐতিহাসিকভাবে সীমান্ত বিরোধের মীমাংসা করেছেন। এছাড়া, বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও খতিয়ে দেখে আদালতটি।

গত মাসে আইসিজেতে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর হয়ে মামলাটি দায়ের করে আফ্রিকায় দেশ গাম্বিয়া। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মিয়ানমার ও গাম্বিয়া উভয়েই ওই কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী।

কনভেনশনের মোট স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা ১৫০টি। এতে স্বাক্ষর করে দেশগুলো কেবল গণহত্যা না করাই নয়, তার পাশাপাশি গণহত্যা প্রতিরোধ ও এর জন্য শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি করেছে। কনভেনশন অনুসারে, সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে একটি নির্দিষ্ট জাতিগত, বর্ণগত, নৃ-তত্ত্বীয় বা বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে  ধ্বংস করার উদ্দেশে করা কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

“রিস্ট্রেইনিং অর্ডার”
আগামী ১০ই থেকে ১২ই ডিসেম্বর আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই শুনানি শেষে আদালত মিয়ানমার গণহত্যার দায়ে দোষী কিনা তা বিবেচনা করবে না। তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তথাকথিত অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে একটি অনুরোধ বিবেচনা করবে। আদালতকে মিয়ানমারে চলমান সকল নির্যাতন বা চুক্তি লঙ্ঘন ঠেকাতে একধরনের প্রাথমিক নির্দেশ দেবে। এই পদক্ষেপটি অনেকটা ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ এর মতো, কিন্তু এখানে ব্যক্তির বদলে তা রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে।

আইসিজে’র বিচারকরা প্রায়ই এ ধরনের অনুরোধ মঞ্জুর করে থাকেন। এর আওতায়, আদালত কোনো রাষ্ট্রকে মামলার বিষয়টি নিয়ে আইনগত বিরোধ বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়।
আইসিজে সাধারণত এ ধরনের মামলায় সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক বছর সময় নেয়। কিন্তু অস্থায়ী পদক্ষেপের নির্দেশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জারি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে আদালতের রায়ই চূড়ান্ত, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। কিন্তুনির্দেশ মানতে রাষ্ট্রকে বাধ্য করার ক্ষমতা নেই আদালতের। তবে এতে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও আইনি নজির স্থাপন হবে।

আইসিজেতে গণহত্যা
আইসিজে পূর্বেও গণহত্যা নিয়ে একটি মামলার রায় দিয়েছে। ১৯৯২-৯৫ সালে যুদ্ধের সময় বসনিয়ার অভ্যন্তরে মুসলিম গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল সার্বিয়ার বিরুদ্ধে। আইসিজে সে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেছে।

২০০৭ সালে আইসিজে রায় দেয়, বসনিয়ার অভ্যন্তরে ১৯৯৫ সালে যুদ্ধ চলাকালীন ওই গণহত্যায় ৮০০০ মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিলো। তবে এই গণহত্যার সঙ্গে সার্বিয়ার সরকার সরাসরি জড়িত এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই বলেও জানায় বিচারকরা। তবে গণহত্যা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় সার্বিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে আইসিজে।
মিয়ানমারের সঙ্গে বসনিয়া-সার্বিয়া মামলার তুলনা করা কঠিন। কারণ, সাবেক যুগোস্লাভিয়া থাকার সময়েই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বসনিয়া হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দেয়া হয়। মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে বেশ কিছু আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। কিন্তু এখনো কোথাও বিষয়টি সুরাহা হয়নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর