× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার

আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ফের সমকামিতার অভিযোগ!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, ১০:০৫

মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ফের সমকামিতার অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযোগ এনেছেন তারই সাবেক এক সহকারী। ওই ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও এনেছেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আনোয়ারের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ উঠলো। জাপানের নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর খবরে বলা হয়, মুহাম্মদ ইউসুফ রাওথার নামে ওই গবেষক আনোয়ারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। বুধবার তিনি জানান, ১৯ নভেম্বর তিনি শপথগ্রহণপূর্বক বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার তার কাছ থেকে যৌন সুবিধা চেয়েছেন। এমনকি কুয়ালালামপুরে তার বাসায় তাকে যৌন আক্রমণেরও চেষ্টা চালান।

এই ঘটনা ঘটেছে এক বছরেরও কিছু সময় আগে।
তাই প্রশ্ন উঠছে এতদিন তিনি এ নিয়ে সামনে আসেননি কেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই অভিযোগকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। বিশেষ করে, আনোয়ার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আজমিন আলির মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বৈরথের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় সমকামিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। দোষী সাব্যস্ত হলে ২০ বছরের সাজা পেতে হতে পারে। তবে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন আনোয়ার। আবার অভিযোগকারী মুহাম্মদ ইউসুফের কয়েকজন আত্মীয় প্রকাশ্যেই বলেছেন, তাকে কয়েকজন রাজনীতিবিদ আনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন।

প্রসঙ্গত, আনোয়ার ইব্রাহিমের দল ও মাহাথির মোহাম্মদের দল জোটগঠন করে সরকার গঠন করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, মাহাথির মোহাম্মদ নির্বাচিত এই সরকারের মেয়াদের প্রথম অর্ধেক ক্ষমতায় থাকবেন। এরপর বাকি অর্ধেক সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই হিসাবে মাহাথির মোহাম্মদের সময়কাল ক্রমেই শেষ হয়ে আসছে। আগামী বছরই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসার কথা আনোয়ারের। তাই তার ঘনিষ্ঠজনরা এই নতুন অভিযোগকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আনোয়ার বলেন, ‘আমি শক্ত ভাষায় এই ভিত্তিহীন কুৎসা প্রত্যাখ্যান করছি। এটি আমার ভাবমূর্তি হরণের অপচেষ্টা বৈ কিছু নয়। শিগগিরই আমার দল কেয়াদিলান-এর ন্যাশনাল কংগ্রেসের ১৪তম কংগ্রেস হবে। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদল ঘটবে। এসবকে সামনে রেখেই এই কাজ করা হয়েছে।’ এদিকে আনোয়ারের একজন সহকারী তার পক্ষে অভিযোগকারী ইউসুফের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আনোয়ার তার দলের আসন্ন কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করবেন। তার স্ত্রী এতদিন দলের সভাপতিত্ব করেছেন। তার স্ত্রী বর্তমানে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী। তার মেয়ে নুরুল ইজ্জাহ সংসদ সদস্য। অপরদিকে আজমিন হলেন একই দলের উপ-প্রেসিডেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, আনোয়ারের প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের পথে প্রবল চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলবেন আজমিন। দলের তৃণমূলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তবে আজমিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ। জুনে হোয়্যাটসঅ্যাপে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দু’জন পুরুষকে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে দেখা যায়। দাবি করা হয়, এদের একজন আজমিন।

আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আগেও সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। তিনি এই অভিযোগে জেলও খেটেছেন। তার সমর্থকরা অবশ্য এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। ১৯৯৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার শিষ্য ছিলেন আনোয়ার। তবে দু’ জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হলে আনোয়ারকে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত করা হয়। এরপরই তার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে তাকে জেলে যেতে হয়। ২০০৮ সালে আবারও তার বিরুদ্ধে নিজের ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে সমকামিতার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১৫ সালে তাকে এই অভিযোগে ৫ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়।

পরে অবশ্য আনোয়ার ও মাহাথির নিজেদের দ্বন্দ্ব ভুলে এক হন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দলকে পরাজিত করে তাদের জোট। ক্ষমতা বণ্টনের অংশ হিসেবে মাহাথির প্রথমে ও পরে আনোয়ারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে। মাহাথিরের নেতৃত্বে জোট সরকার ক্ষমতায় এলে আনোয়ার মালয়েশিয়ান রাজার নিকট হতে সাজা মওকুফ পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর