× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার

দেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে: ওবায়দুল কাদের

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, ৮:৫৪

আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই দেশ মাস্টার দা সূর্য সেনের দেশ। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার দেশ। মাওলানা মনিরুজ্জমান ইসলামাবাদীর দেশ, এম এ আজিজের দেশ, জহুর আহমদ চৌধুরীর দেশ, এম এ হান্নানের দেশ, এম এম মান্নানের দেশ, মহিউদ্দীন চৌধুরীর দেশ। আখতারুজ্জমান বাবু কর্ণফুলী বিধৌত সবুজ পাহাড়ের দেশ চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম স্থিমিত হলে বাংলাদেশ স্থিমিত হয়ে যাবে। এই দেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদীঘির মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে সংগ্রাম আন্দোলনে বীর কর্মীর দেশ এই চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হবে।
আমাদের অগণিত ত্যাগী কর্মী চট্টগ্রামের এখানে ওখানে ছড়িয়ে আছে। আমি নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করবো, অনেক কর্মী অতীতে ছিল, এখন তাদের কোন পরিচয় নেই। দীর্ঘদিন দল করে দলের কমিটিতে এরা স্থান পায় না। অনুপ্রবেশকারীরা এসে বড় বড় পদ দখল করে। নেতৃত্বে সুবিধাবাদীরা যদি আসে সেই আওয়ামী লীগ ঠিকে থাকতে পারবে না। এই সম্মেলনের মূল বিষয় হচ্ছে নেতৃত্ব নির্বাচন। সঠিক সুযোগ্য কাউন্সিলরদের কাছে গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিকে নেতা বানাতে হবে। বসন্তের কোকিলদের নেতা বানিয়ে লাভ নেই। দুঃসময় এলে পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে গত চুয়াল্লিশ বছরে সবচেয়ে সৎ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ গত গত চুয়াল্লিশ বছরে সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত চুয়াল্লিশ বছরের সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের পঁচাত্তর পরবর্তীকালে সবচেয়ে জননন্দিত জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন করেন যে রাজনৈতিক নেতা, যে রাষ্ট্রনায়ক তিনিই হচ্ছেন শেখ হাসিনা। মৃত্যুকে তিনি পরোয়া করেন না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে তিনি ভয় পান না। তিনি বলেন, ভয়কে জয় করে অকুতোভয়ে পিতা বঙ্গবন্ধুর পুসিপত আদর্শের পতাকা হাতে শেখ হাসিনা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত। বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্জনের রোল মডেল হিসেবে আজকে শেখ হাসিনা নাম সারা দুনিয়ায় প্রতিষ্টিত। আমরা গর্ব করি, আমাদের নেত্রীকে নিয়ে। আমরা কি নেত্রীকে ফলো করবো না? তার সততা তার সাহস থেকে শিক্ষা নেবো না? রাজনীতির শিক্ষা নেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার চেয়ে বড় আদর্শ এদেশে আর নেই।
তিনি বলেন, পরিষ্কারভাবে বলতে চাই খারাপ লোকের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের বহু কর্মী আছে। বুয়েটের আবরারকে যারা হত্যা করে এই কর্মীর আমাদের প্রয়োজন নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কথায় কথায় যারা কলহ করে, মারামারি করে এই কর্মীর আমাদের প্রয়োজন নেই। যারা রাজশাহীতে অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দেয় এই কর্মী আমাদের কোন প্রয়োজন নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সমপাদক বলেন, মাস্তানি করে, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না। আমি আজকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এসেছি একটি মাত্র কারণে যে চট্টগ্রাম একসময় ছিলো বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার দুর্জয় ঘাঁটি। সেই চট্টগ্রাম আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনারও দূর্জয় ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে যে ফাটল ধরেছে সেটাকে ক্লোজ করে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চাই, সুসংগঠিত আওয়ামী লীগ চাই, সুবিধাবাদী চাই না। মৌসুমী পাখি, অতিথি পাখিদের স্থান নাই আওয়ামী লীগে। অতিথি পাখিরা সুসময়ে আসবে, দুঃসময়ে চলে যাবে। ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের দল ভারী করার জন্য পকেট কমিটি যারা করবে তাদের নেতা হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নেতা উৎপাদনের বিশাল কারখানা। কর্মী উৎপাদনের কারখানাটা এখন ছোট হয়ে গেছে। এখন পোস্টার লাগাতে কর্মী পাই না, ব্যানার লাগাতে কর্মী পাই না। ভাড়া করা টোকাই দিয়ে পোস্টার লাগাতে হয়। কর্মীরা এখন নেতা হয়ে গেছে। ভাবসাব এমন আমি পোস্টার লাগাবো! আমি কী হনু রে। আমি পোস্টার লাগাবো! আমাকে বলে ব্যানার লাগাতে! কর্মী তো নয়, সবাই নেতা হতে চায়। নেতা যদি হতে চাও আগে কর্মী হও তবে।
দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরদিন থাকে না, ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা আজ আছে, কাল নেই। জনগণের মাঝে আমাদের থাকতে হবে। আমাদের ক্ষমতার উৎস বিএনপির মতো বন্দুকের নল নয়। আমাদের ক্ষমতার উৎস এই দেশের মাটি ও মানুষ। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সমপাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদসহ সমগ্র বিশ্ব প্রশংসা করে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এনিয়ে আক্ষেপ করেন, অথচ শুধু প্রশংসা করতে পারে না একটি পক্ষ। আওয়ামী লীগের সরকারের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এই অভিযাত্রা তাদের গাত্রদাহ, তারা পছন্দ করছে না। এজন্য তারা নানা ধরনের কথা বলছে। তাদের রাজনীতির মূল বিষয় বেগম খালেদা জিয়ার হাঁটুর ব্যাথা আর কোমরের ব্যাথা। তাদের রাজনীতির বিষয় হচ্ছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দুর্নীতির রায় কিংবা মামলা।

এর আগে সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সমপাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, পানিসমপদ উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সমপাদক এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সমপাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ প্রচার সমপাদক আমিনুল ইসলাম, উপ দপ্তর সমপাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর