× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার

পৌরসভার স্বপ্ন অধরা থেকে গেল সিলেটের গোয়ালাবাজারবাসীর

বাংলারজমিন

জয়নাল আবেদীন, ওসমানীনগর (সিলেট) থেকে | ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৮:১৪

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে সুপরিচিত ওসমানীনগর উপজেলা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মো. আতাউল গণি ওসমানীর নামানুসারে উপজেলাটির নামকরণ করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই ওসমানীনগর উপজেলার প্রাচীনতম ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র গোয়ালাবাজার। বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষের সমাগমে প্রতিদিন সরগরম হয়ে উঠে বাজারটি। ব্যবসায়িক প্রাণ কেন্দ্র এই গোয়ালাবাজারে ছোটবড়সহ চার সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওপর অবস্থিত এই গোয়ালাবাজারকে ব্যবসা প্রসিদ্ধ বাজার বলা হয়ে থাকে। বলা হয়ে থাকে ব্যংকের শহরও। বাজারের মাত্র আধা কিলোমিটার সীমানায় রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের ১৯টি শাখা।
এসব ব্যাংকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। এলাকার অধিকাংশ লোক যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থায়ী ও অস্থায়ী বসবাসকারী হওয়ার সুবাদে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিদিন বড় অঙ্কের রেমিট্যান্সও আসে। ব্যবসা প্রসিদ্ধ এই গোয়ালাবাজারে ১৯টি ব্যাংকের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য বীমা অফিসের শাখা, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা প্রেসক্লাব ভবন, সরকারি ডাকঘর,পরিবার পরিকল্পনা অফিস, চক্ষু হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গণপাঠাগার, কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ওসমানীনগর থানা কমপ্লেক্সও গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত। সিলেটের প্রাচীনতম ব্যবসাকেন্দ্র গোয়ালাবাজার থেকে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব প্রদান করা হয়। প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব প্রদান করা গোয়ালাবাজার কবে পৌরসভায় বাস্তবায়িত হবে তা আজও অজানা রয়ে গেল। স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারবাসীর। একের পর এক প্রতিশ্রুতিতে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পৌরসভার স্বপ্ন দেখছেন এই গোয়ালাবাজারবাসী। কিন্তু স্বপ্নের পৌরসভা আজও অধরা। তৎকালীন সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৯৮ সালে গোয়ালাবাজারের এক জনসভায় অতিসত্ত্বর ‘গোয়ালাবাজার পৌরসভা’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রিুতি দেন। এ নিয়ে নানা উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।এদিকে ১৯৯৯ সালের ২২ জুলাই তৎকালিন স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী তাজপুরের একটি অনুষ্ঠানে ওসমানীনগর এলাকায় পৌরসভার ঘোষণা দিলে ‘গোয়ালাবাজার পৌরসভা’ বাস্তবায়ন কাজে ভাটা পড়ে। পরবর্তীতে দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ‘গোয়ালাবাজার পৌরসভা’ বাস্তবায়নের কেউ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ঐতিহ্যবাহী এই গোয়ালাবাজারকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী। কি কারণে গোয়ালাবাজারকে পৌরসভায় বাস্তবায়ন করা হয়নি তাও অজানা রয়ে গেছে। এ বিষয়ে গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক বলেন, ওসমানীনগরের ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র হলো গোয়ালাবাজার। এই গোয়ালাবাজার থেকে প্রতিবছর বড় অংকের রাজস্ব প্রদান করা হয়। প্রবাসী অধ্যুষিত এই গোয়ালাবাজারে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বিগত দেড়যুগ থেকে আমরা গোয়ালাবাজারকে পৌরসভার বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। গোয়ালাবাজারকে পৌরসভায় বাস্তবায়ন করা এখন আমাদের প্রাণের দাবি। ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গোয়ালবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যন হারুন মিয়া বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত গোয়ালাবাজার পৌরসভা বঞ্চিত, এটা রীতিমত আমাদেরকে অবাক করে। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাই গোয়ালাবাজার অচিরেই পৌরসভার অগ্রাধিকার দেয়া এখন আমাদের প্রাণের দাবি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর