× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার

ইশরাকের প্রচারণায় পিতার স্মৃতি, খালেদার মুক্তির ইস্যু

প্রথম পাতা

শাহনেওয়াজ বাবলু | ১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:১৭

সকাল সাড়ে আটটা। কুয়াশাচ্ছন্ন চারদিক। সড়ক অনেকটা ফাঁকা। মতিঝিল থেকে গোপীবাগের দিকে রওনা হতে চোখে পড়লো দলে দলে লোক যাচ্ছেন। তাদের গন্তব্য বিএনপি’র মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় অংশ নেয়া। সাড়ে নয়টায় উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে  কিছু কথা বলেই বের হয়ে যান ইশরাক হোসেন। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি। সকাল এগারোটায় মাজার জিয়ারত শেষে দুপর সাড়ে বারোটায় টিকাটুলির এ কে এম দাস লেনের উইমেন্স কলেজের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন ইশরাক।
এসময় হাজারো নেতা-কর্মী ধানের শীষে ভোট চেয়ে ম্লোগান দেন। পরে ফোল্ডার স্ট্রিট রোড হয়ে জয়কালী মন্দির রোড, কাপ্তান বাজার, নবাবপুর রোড হয়ে বংশাল থানার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান তিনি। প্রচারণার সময় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান ইশরাক হোসেন। সঙ্গে ছিল হাজারো কর্মী-সমর্থক। ধনী, গরিব, দিনমজুর, শ্রমিক-সবাইকে বুকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। মার্কা দেখিয়ে ভোট চেয়েছেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে ধানের শীষে ভোট চান ইশরাক। বলেন, তার বাবা প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ঢাকাকে নিয়ে যে পরিকল্পনা ছিল সেটা পূরণ করার কথা। এদিকে ঘরের দুয়ারে নিজেদের প্রিয় মানুষ খোকার ছেলেকে কাছে পেয়ে স্থানীয় লোকজনও এগিয়ে আসেন, কথা বলেন ইশরাকের সঙ্গে। হাত বাড়িয়ে প্রচারপত্র নিয়েছেন। পুরাতন ঢাকা দিয়ে যখন প্রচারণার বহর যাচ্ছিল তখন রাস্তার দুই পাশ থেকে নারী-পুরুষ বাসা-বাড়ি দোকান থেকে হাত নেড়ে বিএনপির এই প্রার্থীকে স্বাগত জানান। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর, থানা, ওয়ার্ড নেতারা সঙ্গে ছিলেন। প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। যেসব এলাকায় গণসংযোগ করছি সেখানের বাসিন্দা, আমাদের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ আমাদেরকে সমর্থন করছেন। আজকে সকাল থেকে এ পর্যন্ত বাধার সম্মুখীন হই নাই। তবে আমরা আশঙ্কা করছি বাধার সম্মুখীন হতে পারি। সন্ত্রাসীরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছিলো। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের সিনিয়র নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এ নির্বাচনেও এ ধরনের হামলা হচ্ছে। তবে আমরা এবার প্রতিপক্ষের সকল হামলা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত আছি। আমাদের কাজ আমরা চালিয়ে যাবো। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৩০ তারিখ আপনারা ভোট দিতে আসবেন। আপনারা যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন সেজন্য আমরা মাঠে থাকবো। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে নাকি জানতে চাইলে বলেন, ফিল্ড একটা তৈরি হয়েছে। ভোট ডাকাতির, ভোট কারচুপির এবং প্রতিপক্ষকে দমন করার একটা ফিল্ড তৈরি হচ্ছে। এটাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে নাকি জানি না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তর বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের ইশরাক হোসেনকে নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে চতুর্থ দিনের মতো প্রচারণা শুরু করেছি। ঢাকা মহানগরের এ নির্বাচনে আমরা প্রথম থেকে প্রত্যাশা করেছিলাম যদি জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হয় তাহলে অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। কিন্তু সেটি এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারণায় দেখেছি নির্বাচনের রঙিন পোস্টার লাগানো যাবে না কিন্তু আমরা দেখছি, সরকার দলীয় প্রার্থীরা রঙ্গিন পোস্টার ব্যবহার করছে। তাই এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। ঢাকাবাসী যাতে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে, সেই পরিবেশ  তৈরি করতে আহ্বান জানান সাবেক এই মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে চায়, আমরা ইভিএম মানি না। ইভিএমে ভোট চাই না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির প্রচার অভিযানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের বাধা সৃষ্টি করছেন, প্রার্থীদেরকে হামলা করা হচ্ছে, বিভিন্ন কাউন্সিলর বাড়িতে আক্রমণ করা হচ্ছে, প্রচারের মাইক ছিনতাই করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর